ঈশিতার ঠাকুরদা। সোমবার কৃষ্ণনগর আদালতে। নিজস্ব চিত্র ।
গুলির শব্দ শুনে তিনি ভেবেছিলেন, বাইরে রাস্তায় লরির টায়ার ফেটেছে। পরে অবশ্য় আততায়ীকে বেরিয়ে যেতে দেখেন। ঈশিতা মল্লিক হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে সোমবার কৃষ্ণনগরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা (চতুর্থ) আদালতের বিচারক সুস্মিতা গাইনের এজলাসে এসে এমনটাই জানিয়েছেন নিহত ছাত্রীর দাদু (ঠাকুরদা) জয়দেব মল্লিক। হাঁটুতে সমস্যা থাকায় বিচারকের সামনে চেয়ারে বসিয়ে তাঁর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
গত ২৫ অগস্ট দুপুরে কৃষ্ণনগর শহরের মানিকনগরের বাড়িতে দোতলার ঘরে যখন ঈশিতাকে গুলি করা হয়, একতলায় ছিলেন তাঁর দাদু-ঠাকুমা। আর কেউ বাড়িতে ছিল না। এ দিন সরকার পক্ষের আইনজীবী সুবেদী সান্যালের প্রশ্নের উত্তরে জয়দেব জানান, দুপুর ২টো ৫ মিনিট নাগাদ ঈশিতার মা কুসুম তাঁদের জানিয়ে স্কুটার নিয়ে নাতিকে স্কুল থেকে আনতে চলে যান। খানিক পরেই তাঁরা জোরে কিছু ফাটার শব্দ শোনেন। ঘরে টিভি চলছিল। তাঁর স্ত্রী আশালতা জানতে চান, কিসের শব্দ? তিনি বলেন, হয়তো বাইরে রাস্তায় লরির টায়ার ফেটেে থাকবে।
২টো ২০ মিনিট নাগাদ নাতিকে নিয়ে ফিরে তাঁদের দেখা দিয়ে কুসুম উপরে চলে যান। এর পরেই তিনি উপর থেকে চিৎকার-চেঁচামেচি ও দরজা ধাক্কানোর আওয়াজ পান। আশালতা বলেন, ভাই-বোনে বোধহয় মারপিট করছে। তাঁকে উপরে গিয়ে দেখে আসতে বলেন।
তিনি ঘর থেকে বেরিয়েই পিঠে ব্যাগ নেওয়া কালো প্যান্ট ও কালো টি-শার্ট পরা একটা লম্বা ছেলেকে বেরিয়ে যেতে দেখেন। তাকে দাঁড়াতে বললেও সে দাঁড়ায়নি।
এরই মধ্যে আশালতা সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে শুরু করেন, পিছন-পিছন তিনি। দোতলায় উঠে তাঁরা দেখেন, ঈশিতার ঘরের দরজা বাইরে ড্রয়িংরুমের দিক থেকে হুড়কো টেনে আটকানো।
আশালতা দরজা খুলতেই দেখেন, বৌমা ঘরের মেঝেতে উপর বসে কাঁদছেন। সামনে পড়ে ঈশিতা, পরনে গামছা আর সাদা গেঞ্জি। মেঝেতে আর ঘরের দেওয়ালে রক্ত লেগে। জয়দেব জানতে চান, ঈশিতাকে কে মারল? কুসুম কথা বলতে পারছিলেন না।
ঈশিতার ভাই বলে, কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা দেশরাজ সিংহ মেরেছে। ওই ঘটনার কয়েক দিন পরে উত্তরপ্রদেশ হয়ে নেপালে পালানোর সময় পুলিশ দেশরাজকে গ্রেফতার করেছিল। আগামী ৮ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে