জমি দখলে ফের ‘মৃত’ জীবিত

ফরাক্কার শিবনগরের জীবিত মহিলা শাশ্বতী দাসকে  ২০ বছর আগে মৃত দেখিয়ে তাঁর ১১৩ একর বাগান হাতানোর অভিযোগে পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০১৯ ০৪:০৪
Share:

ফরাক্কার শিবনগরের জীবিত মহিলা শাশ্বতী দাসকে ২০ বছর আগে মৃত দেখিয়ে তাঁর ১১৩ একর বাগান হাতানোর অভিযোগে পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে। প্রতীকী ছবি।

ফের জীবিতকে মৃত দেখিয়ে জমি হাতানোর অভিযোগ উঠল ফরাক্কার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের বিরুদ্ধে।

Advertisement

এ বারও অভিযুক্তের তালিকায় ফরাক্কার বিএলএলআরও তরুণ কুমার দাস ও রেভিনিউ অফিসার সুব্রত মৃধা ছাড়াও নয়নসুখ গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্বতন তৃণমূল প্রধান শুভ্রা পাল-সহ অভিযুক্তের সংখ্যা ১৩। যাদের অনেকই বাড়ি ঝাড়খন্ডে।

একই কায়দায় ফরাক্কার শিবনগরের জীবিত মহিলা শাশ্বতী দাসকে ২০ বছর আগে মৃত দেখিয়ে তাঁর ১১৩ একর বাগান হাতানোর অভিযোগে পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে। সেই সূত্রে সাত জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন শাশ্বতী। তবে এ ব্যাপারে এক জনকে গ্রেফতার করা গিয়েছে। এর আগেও ওই জমি-কর্তাদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ উঠেছিল সপ্তাহ দুয়েক আগে।

Advertisement

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

এ বারে জমি জালিয়াতির শিকার হয়েছেন ৭৩ বছর বয়সের বৃদ্ধ নন্দকিশোর সরকার। ফরাক্কার কুলি মৌজায় আরএস খতিয়ান নম্বর ১৬৮১ ও ২০৩১ দাগ নম্বরে ৬৮ শতক জমিতে বাগান রয়েছে নন্দকিশোর সরকার ও তার দাদা লক্ষণের নামে ৩৪ শতক করে। তার আগে এ জমি ছিল তাঁদের বাবা গোপেশ চন্দ্র সরকারের। আর এস থেকে এল আর রেকর্ডও ছিল নন্দবাবু ও লক্ষণবাবুর নামে। পারিবারিক অন্য সম্পত্তির বাটোয়ারায় লক্ষণবাবু সে জমি ছেড়ে দেন ভাই নন্দকে। গত ১৪ ডিসেম্বর নন্দবাবু নথিপত্র সহ দাদার নাম কাটিয়ে নিজের নামে কুলি মৌজার সেই ৩৪ শতক বাগান রেকর্ড করাতে যান ফরাক্কার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে। গিয়ে দেখেন ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের সরকারি নথি থেকে দুই ভাইয়ের নাম কেটে দিয়ে মালিকানা হয়ে গেছে অন্যদের নামে।

নন্দবাবু বলছেন, “আমি বিএলএল আরও-র সামনে জলজ্যান্ত বসে, অথচ ফরাক্কার বিএলএলআরও দফতরের নথিতে দেখা যাচ্ছে নয়নসুখ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন তৃণমূল প্রধান শুভ্রা পালের দেওয়া শংসাপত্রে আমাকে ৭ বছর আগেই মৃত দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, মাত্র দেড় বছর আগে দাদা লক্ষণচন্দ্র সরকার মারা গেছেন, অথচ শুভ্রাদেবীর শংসাপত্রে বলা হয়েছে ১২ বছর আগেই নাকি ইহলোক ছেড়েছেন দাদা।”

চমকের এখানেই শেষ নয়, তিনি জানান, সেই শংসাপত্রে কোনোও এক টুলু সরকারকে তাঁর মেয়ে সাজিয়ে একমাত্র ওয়ারিশ দেখানো হয়েছে। অথচ তাঁর ওই নামে কোনও মেয়েই নেই। ফরাক্কার বিএলএল আরও’কে ফোন করে কিংবা মেসেজ পাঠিয়েও কোনও সাড়া মেলেনি। রেভিনিউ অফিসার সুব্রত মৃধা অবশ্য বলেন, ‘‘পঞ্চায়েত প্রধান শংসাপত্র দিয়েছেন, তা অবিশ্বাস করি কী করে!’’

ফরাক্কা থানার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ জানান, ফরাক্কায় ওই অভিযোগের ভিত্তিতে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement