রেকর্ড সংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ, ক্ষোভ

কেউ পেয়েছেন ১০০ নম্বরের মধ্যে ২। কারও কপালে জুটেছে ৩, অথবা ৪। কলেজের বেশিরভাগ পরীক্ষার্থীরই এই দশা। বিএ প্রথম বর্ষের এই ফল মানতে নারাজ ছাত্রছাত্রীরা। প্রতিকারের দাবিতে বুধবার দিনভর জিয়াগঞ্জ শ্রীপৎ সিং কলেজের অধ্যাপকদের ঘেরাও করে রাখেন ছাত্রছাত্রীরা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০১৬ ০১:৫৮
Share:

কেউ পেয়েছেন ১০০ নম্বরের মধ্যে ২। কারও কপালে জুটেছে ৩, অথবা ৪। কলেজের বেশিরভাগ পরীক্ষার্থীরই এই দশা।

Advertisement

বিএ প্রথম বর্ষের এই ফল মানতে নারাজ ছাত্রছাত্রীরা। প্রতিকারের দাবিতে বুধবার দিনভর জিয়াগঞ্জ শ্রীপৎ সিং কলেজের অধ্যাপকদের ঘেরাও করে রাখেন ছাত্রছাত্রীরা। অধ্যক্ষ সামসুজ্জামান আহমেদ বলেন, ‘‘আমরা কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইব।’’ এ দিনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি সুমন দাস। তাঁর দাবি, ‘‘ছাত্রছাত্রীদের উত্তরপত্র দেখাতে হবে।’’

পড়ুয়া তো বটেই, এই ফল দেখে কলেজের অধ্যাপকরাও তাজ্জব বনে গিয়েছেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কল্যানী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ, বিকম ও বিএসসি প্রথম বর্ষের ফল প্রকাশ হয়। দেখা যায় পড়ুয়ারা খুবই কম নম্বর পেয়েছেন। একটা বছর নষ্ট হওয়ার আতঙ্কে মুষড়ে পড়েছেন কেউ কেউ। বিভিন্ন কলেজের ছাত্রছাত্রীরা পূণর্মূল্যায়নের দাবি তুলে অধ্যক্ষ-অধ্যক্ষা ও অধ্যাপকদের ঘেরাও করেন। পড়ুয়াদের সেই দাবি মেনেও নিয়েছে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ামক সঞ্জীবকুমার দত্ত বলেন, ‘‘কলেজগুলি থেকে ওই রকম ‘অস্বাভাবিক’ রেজাল্টের তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে। কয়েকটি কলেজ ইতিমধ্যে তালিকা পাঠিয়েছে। অন্য কলেজগুলো থেকেও তালিকা আসবে। তারপর কয়েক দিনের মধ্যে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।’’

Advertisement

তবে পরীক্ষা নিয়ামকের মতে, ফলাফলের ওই ‘অস্বাভাবিকতা’ নদিয়ার তুলনায় মুর্শিদাবাদের কলেজগুলোতেই বেশি। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে নদিয়া ও মুর্শিদাবাদের ৪৬টি কলেজে। মুর্শিদাবাদে কলেজের সংখ্যা ২৮। দু’-চারটি কলেজ বাদে জেলার অধিকাংশ কলেজের ফল কহতব্য নয়। বহরমপুর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শান্তনু ভাদুড়ি বলেন, ‘‘বিএ পাস কোর্সের পার্ট ওয়ানের ১৭২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে মাত্র ১৮৪ জন। বিএসসি পাস কোর্সের ১৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৯৮ জন। রেজাল্ট দেখে আমাদেরও চক্ষু চড়কগাছ। অনেক বিষয়েই ১, ২, ৩, ৪— এ রকম নম্বরের ছড়াছড়ি। এই রেজাল্ট অসম্ভব।’’

১০০ নম্বরের মধ্যে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন থাকে ২৮ নম্বরের। এক বা দুই বাক্যে সেগুলির উত্তর দিতে হয়। একটু চোখ-কান খোলা রাখলেই সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েই দুই অঙ্কের কোটায় নম্বর পাওয়া যায়। এক অধ্যাপক বলেন, ‘‘তারপরও ১, ২, ৩ নম্বর কী ভাবে হয়!’’ শ্রীপৎ সিং কলেজের বিএ পাস কোর্সের পাশের হার মেরেকেটে ১৫ শতাংশ। বহরমপুরের কৃষ্ণনাথ কলেজ, লালবাগের সুভাষচন্দ্র শতবার্ষিকী কলেজ, ইসলামপুরের মুর্শিদাবাদ মহাবিদ্যালয় ও ফরাক্কার সৈয়দ নুরুল হাসান কলেজ- সহ এ জেলার অধিকাংশ কলেজেরই এ বারের ফলাফলের একই হাল।

কেবল সন্দেহজনক ভাবে বাজে নম্বরই নয়, জেলার অনেকেই কলেজের পড়ুয়াদেরই ফল অসম্পূর্ণ এসেছে। জেলার একটি কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, ‘‘পরীক্ষা দিয়েছে এমন অনেক পরীক্ষার্থীকে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। অনেকের ফলাফল অসম্পূর্ণ রাখা হয়েছে। অনেকের মার্কসিট কলেজে পাঠানো হয়নি।’’ এই সব গাফিলতির কারণ ব্যাখ্যা করতে এক অধ্যাপক জানান, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক মাস থেকে ডামাডোল চলছে। খাতায় কলমে একজন পরীক্ষা নিয়ামক থাকলেও, বাস্তবে রয়েছে এক গণ্ডা। সেখানে প্রশাসনিক অস্থিরতা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রেই জানা গিয়েছে, খাতা না দেখেই অনেক ক্ষেত্রে নম্বর দেওয়া হয়েছে। এতেই এই কাণ্ড ঘটেছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement