তৃণমূল বিধায়ক তাপস সাহা।
আর্থিক প্রতারণা-কাণ্ডে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার হয়েছেন তেহট্টের তৃণমূল বিধায়ক তাপস সাহার আপ্তসহায়ক প্রবীর কয়াল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রবীরকে নিজের আপ্তসহায়ক মেনে নিতে অস্বীকার করলেন বিধায়ক। তিনি জানান, প্রবীরের সঙ্গে তাঁর চেনা পরিচিতি শুধু বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা হওয়ার সূত্রেই। বাড়িতে যাওয়া-আসা থাকলেও প্রবীর তাঁর আপ্তসহায়ক নয় বলেই জানালেন তাপস।
চাকরি দেওয়ার নামে অনেকের থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে তাপসের বিরুদ্ধে। বহু অভিযোগপত্র গিয়েছে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। প্রতারণা-কাণ্ডে দলের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় নাম না করে বুধবার কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম উল্লেখ না করে ফেসবুক পোস্টে লাগাতার তাপসকে বিঁধেই চলেছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এই আবহে শুক্রবার রাতে রায়দিঘি থেকে প্রবীর গ্রেফতার হওয়ার পরেই বিধায়কের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কিছুটা সুর নরম করে নিজের দলের একাংশের বিরুদ্ধেই ‘গভীর ষড়যন্ত্র’-এর অভিযোগ করেছেন তাপস।
এরই পাশাপাশি আপ্তসহায়ককে সঙ্গে নিয়ে প্রতারণার বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকের অস্বীকার করে তাপস বলেন, ‘‘আমার কোনও আপ্ত সহায়ক নেই। প্রবীরকে আমি চিনি শুধু বিধানসভার মানুষ হিসেবে।’’ তবে প্রবীরের সঙ্গে যে তাঁর যোগাযোগ ছিল, তা স্বীকার করেছেন তাপস। সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেছেন, ‘‘ওঁকে আমি চিনি। আমার বাড়িতে আসত। কিন্তু প্রতারণার টাকা লেনদেনের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’’
আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরেই তদন্তে নামে রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখা। রুজু করা হয় স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও। তেহট্ট এসডিপিওর দফতরে ১১ জন প্রতারিতের বয়ান রেকর্ড করা হয়। তার ভিত্তিতে ওই মামলায় প্রবীর-সহ গ্রেফতার করা হয় আরও দু’জনকে। শনিবার তাঁদের আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।