পুলিশের তরফে ফেসবুকে দেওয়া শামিমের ছবি।—নিজস্ব চিত্র।
চাপড়ার অপহৃত শিশু উদ্ধারে মরিয়া শেষ পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ার আশ্রয় নিল পুলিশ। শনিবার চাপড়া থানার ওসি মানস চৌধুরী ফেসবুকে শিশুটির ছবি ও নিজের ফোন নম্বর দিয়ে আবেদন করেছেন, শিশুটির কোনও খোঁজ পেলে ওই নম্বরে জানাতে। এমন আবেদনই বলে দিচ্ছে এই তদন্তে পুলিশ এখনও পর্যন্ত কতটা অসহায়। কেন এমন সিদ্ধান্ত? জেলা পুলিশের এক কর্তা জানান, আন্তরিক তাগিদ থেকেই এমন সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘‘তা ছা়ড়া সোশ্যাল মিডিয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।’’
গত ৭ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির সামনে খেলা করার সময়ে নিখোঁজ হয়ে যায় বছর চারকের শামিম শেখ। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত তার সন্ধান মেলেনি। পুলিশ নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শিশুটির জেঠা, এক জেঠতুতো দিদি ও তার প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে প্রথম দিনেই। বৃহস্পতিবার এলাকায় তৃণমূল কর্মী হিসাবে পরিচিত আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে জেঠতুতো দিদি ও তার প্রেমিককে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করছে পুলিশ। কিন্তু, তারপরেও শিশুটির সন্ধান মেলেনি।
শিশু অপহরণের অভিযোগে ইতিমধ্যেই নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের চাপড়ার ২ অঞ্চল সভাপতি ও বিধায়ক রুকবানুর রহমানের ঘনিষ্ঠ আইনাল শেখ ওরফে কাংলার। শিশুটির বাবা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন যে কাংলা শেখ তাঁকে আপসে মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। শুধু তাই নয়, ওই ভাবে মিটিয়ে নিলে তবেই পুত্রের দেহ পাবেন, এমন হুমকিও ছিল। এরপরও পুলিশ কেন এখনও পর্যন্ত কাংলাকে জিজ্ঞাসাবাদটুকু করল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাঁদের কথায়, ‘‘পুলিশ ছবি ফেসবুকে পোস্ট করতে পারছে, আর কাংলাকে ধরা তো দূর ছুঁতেই পারল না।’’ যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সদুত্তর নেই পুলিশের কাছে।