একসঙ্গে বদলি করা হল তিন থানার আইসি

তিন গুরুত্বপূর্ণ থানা কালিয়াচক, বৈষ্ণবনগর ও ইংরেজবাজারের আইসিকে এক সঙ্গে বদলি করা হল। রাজ্যের এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) ওই নির্দেশ জারি করেছেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ অগস্ট ২০১৬ ০২:১৪
Share:

তিন গুরুত্বপূর্ণ থানা কালিয়াচক, বৈষ্ণবনগর ও ইংরেজবাজারের আইসিকে এক সঙ্গে বদলি করা হল। রাজ্যের এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) ওই নির্দেশ জারি করেছেন। বৈষ্ণবনগর থানার আইসি অসীম গোপকে ১১ মাস, কালিয়াচক থানার আইসি দেবাশিস দাসকে পাঁচ মাস ও ইংরেজবাজার থানার আইসি বিপুল বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছ’মাসের মধ্যে বদলি হলেন। সাধারণত এত অল্প সময়ের মধ্যে এমন বদলি হয় না। তাই পুলিশের অন্দরে শোরগোল পড়েছে। তবে তিন আইসি-র কেউ মন্তব্য করতে চাননি।

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রেই জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরেই কালিয়াচক, বৈষ্ণবনগর ও ইংরেজবাজার থানা এলাকায় একের পর এক খুন, গুলির লড়াই, বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে। বেআইনি অস্ত্র ও জালনোটের কারবারের নালিশও উঠেছে। চুরি-ছিনতাই, তোলাবাজি, ডাকাতির মতো অপরাধের ঘটনাও বেড়ে গিয়েছিল। এমনকী কালিয়াচক থানা পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। কালিয়াচক থানার নওদা যদুপুর এলাকায় একের পর এক খুন, গুলি ও বোমার লড়াই লেগেই ছিল। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপরেও সেই লড়াই হয়েছে। বারবার স্তব্ধ হয়েছে জাতীয় সড়কে যানবাহন চলাচল। স্থানীয় সূত্রেই খবর, গত ৬ মাসে ওই এলাকায় অন্তত ১০ জন খুন হয়েছেন অভিযোগ, পুলিশের একাংশের নিষ্ক্রিয়তায় ওই এলাকাগুলিতে আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছিল। অনেক দুষ্কৃতীই ধরা পড়েনি। তা নিয়ে পুলিশের অন্দরেই প্রশ্ন ওঠে। আইসিদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয় রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে।

সম্প্রতি পুলিশেরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কার্যত বাধ্য হয়েই বাইরের জেলা থেকে একশোর বেশি পুলিশ অফিসার ও কর্মীদের এনে কালিয়াচক থানা এলাকায় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে। তৈরি করা হয় স্পেশাল টিম। সেই অভিযানে ইতিমধ্যে কালিয়াচকের দুই ত্রাস বকুল শেখ ও জাকির আলি সহ তাদের বেশ কয়েকজন সাঙ্গোপাঙ্গ গ্রেফতার হয়। উদ্ধার হয় প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, জালনোট ও তাজা বোমাও। এরপরই তিন থানার আইসি-কে বদলি করা হল।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবাশিসবাবুকে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের কোর্ট ইন্সপেক্টর পদে, অসীমবাবুকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা হোমগার্ডের সিনিয়ার অ্যাডজুট্যান্ট পদে ও বিপুলবাবুকে আলিপুরদুয়ার জিআরপির ইন্সপেক্টর করা হয়েছে। বাঁকুড়ার সারেঙ্গা থানার আইসি সুমন চট্টোপাধ্যায় কালিয়াচক থানায়, অণ্ডালের রেল পুলিশের ইন্সপেক্টর সঞ্জয় বিশ্বাস বৈষ্ণবনগর থানায় ও শিলিগুড়ি টাউন জিআরপির আইসি পূর্ণেন্দু কুণ্ডুকে ইংরেজবাজার থানায় পাঠানো হয়েছে।

কালিয়াচক থানার আইসি এবছরেরই ৭ ফেব্রুয়ারি, ইংরেজবাজার থানার আইসি এবছরের ৩১ জানুয়ারি কাজে যোগ দিয়েছিলেন। বৈষ্ণবনগরের আইসি অবশ্য ২০১৫ সালের ৩০ জানুয়ারি যোগ দেন।

মালদহ জেলা কংগ্রেসের জেলা সভানেত্রী মৌসম নুর বলেন, ‘‘কালিয়াচকে কার্যত দুষ্কৃতীরাজ কায়েম হয়েছিল। তা নিয়ে আমরা বারবার পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ জানিয়েছিলাম। আশা করি, নতুন যাঁরা আসবেন তারা কঠোর হাতে এসবের মোকাবিলা করবেন।’’ সিপিএমের জেলা সম্পাদক অম্বর মিত্র জানান, গোটা মালদহে আইনের শাসন ফিরলেই স্বস্তি পাবেন মানুষ। তবে তৃণমূলের জেলা সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘‘জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ যে আইন মেনে কঠোর পদক্ষেপ করছে, সেটা সকলেই দেখছেন।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement