প্রজাতন্ত্র দিবসের মুখে সতর্কতা

গ্রামবাসীদের সজাগ থাকতে বলছে বিএসএফ

এক দিকে বেশ কয়েক কিলোমিটার জুড়ে ফাঁকা সীমান্ত। সেখান দিয়ে আগেই চোরাপাচারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আর এক দিকে দুই রাজ্যের সীমান্ত। সেখানে জঙ্গি সংগঠনের দাপটে মাত্র কয়েক মাস আগেই হাটের মধ্যে গুলি চলেছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের মুখে তাই দু’জায়গাতেই সতর্ক পুলিশ, বিএসএফ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

মালদহ ও ধুবুড়ি শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০১৭ ০২:১৫
Share:

রাত পোহালেই প্রজাতন্ত্র দিবস। বালুরঘাটে ছবিটি তুলেছেন অমিত মোহান্ত।

এক দিকে বেশ কয়েক কিলোমিটার জুড়ে ফাঁকা সীমান্ত। সেখান দিয়ে আগেই চোরাপাচারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আর এক দিকে দুই রাজ্যের সীমান্ত। সেখানে জঙ্গি সংগঠনের দাপটে মাত্র কয়েক মাস আগেই হাটের মধ্যে গুলি চলেছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের মুখে তাই দু’জায়গাতেই সতর্ক পুলিশ, বিএসএফ।

Advertisement

কিলোমিটারের পর কিলোমিটার উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে মালদহ জেলায়। কোথাও দুই দেশের মাঝে রয়েছে নদী। আবার কোথাও রয়েছে চাষের জমি। আর এই উন্মুক্ত সীমান্ত নিয়েই উদ্বিগ্ন বিএসএফ ও পুলিশকর্তারা। প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সীমান্তে হাই অ্যালার্ট জারি থাকবে বলে জানিয়েছেন বিএসএফ কর্তারা। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী থানাগুলিতেও বাড়তি নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএসএফের ২৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ডান্ট অনিল কুমার হোতকার বলেন, ‘‘গ্রামবাসীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সন্দেহজনক কাউকে দেখলেই আমাদের কিংবা পুলিশকে জানাতে।’’

মালদহে মোট ১৭৮ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। তার মধ্যে ৫০ কিলোমিটার সীমান্ত উন্মুক্ত। তার মধ্যে ২০ কিলোমিটার জলপথ। প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে উন্মুক্ত সীমান্ত নিয়েই উদ্বিগ্ন বিএসএফ ও পুলিশকর্তারা।

Advertisement

মালদহে ২৪, ২৮, ৩৬ ও ৬০ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানেরা সীমান্তে নজরদারি চালায়। জেলার মিলক সুলতানপুর, শব্দলপুর, দৌলতপুর, পারদেওনাপুর, ইটাহাটি, বেলডাঙা, মুচিয়া, আদমপুর সহ প্রভুতি সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি বিওপিতে জওয়ানদের পাশাপাশি এক জন করে ডেপুটি কমান্ডান্ট, অফিসার থাকবেন। সাইকেলের মাধ্যমে টহলদারি চালাবেন জওয়ানেরা। জলপথে স্পিড বোটে চলবে নজরদারি।

গ্রামবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে বিএসএফের তরফে। অপরিচিত কাউকে গ্রামে দেখলেই সংশ্লিষ্ট বিওপি কিংবা থানাতে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএসএফের পাশাপাশি পুলিশি নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। জেলার সীমান্তবর্তী কালিয়াচক, বৈষ্ণবনগর, ইংরেজবাজার, হবিবপুর ও বামনগোলা থানা এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে চলছে পুলিশের নাকা চেকিং। শহরের বাস স্ট্যান্ড সহ জনবহুল এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে সাদা পোশাকের পুলিশও।

প্রজাতন্ত্র দিবসে নিরাপত্তার লৌহ বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে অসমের ধুবুরি, কোকরাঝাড় এবং বঙ্গাইগাঁও জেলাকে। আলফা, কেএলও, এনডিএফবি (সংবিজিত), এনএলএফটি এবং পিডিসিকে সহ অসমের একাধিক জঙ্গি সংগঠনের নাশকতা ছড়ানোর হুমকি দেওয়ায় পাশাপাশি প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন সাধারন ধর্মঘটের ডাক দেওয়ায় সারা অসম জুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে অসম পুলিশ। শুধু তাই নয়, নাশকতা ছড়ানোর হুমকি রয়েছে ভারত বিরোধী মৌলবাদী জঙ্গি সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে। প্রজাতন্ত্র দিবসে ধুবুরি, কোকরাঝাড় এবং বঙ্গাইগাঁও জেলাতে জঙ্গি হানার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে তিন জেলার পুলিশ প্রশাসন। ইতিমধ্যে ধুবুরি জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে বিকেল ৫টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত করা সমস্ত রকমের দু চাকার যানবাহন চলাচল করা নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ প্রশাসন।

কোকরাঝাড় জেলা জুড়ে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে শুরু হয় পুলিশ এবং যৌথবাহিনীর অভিযান। ওই অভিযানে ধরা পরে প্রায় ১০০ জন এনডিএফবি (এস) জঙ্গি। পুলিশ এবং যৌথবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন এনডিএফবির (এস) বেশ কয়েকজন জঙ্গি নেতা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, প্রতিশোধ নিতে বা তাড়া খেয়ে সন্ত্রাসবাদীরা ধুবুরিতে ঢুকে নাশকতা ঘটাতে পারে। জেলাশাসক ধীরাজ চৌধুরী জানান, “জেলার নিরাপত্তা জন্য নিরাপত্তারক্ষীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সজাগ থাকতে হবে।” কোকরাঝাড় জেলার পুলিশ সুপার রাজেন সিংহ এবং বঙ্গাইগাঁও জেলার পুলিশ সুপার হৃদয়জিৎ বর্মন জানান, জঙ্গি হামলা রুখতে প্রতিটি থানা এলাকায় চিরুণি তল্লাশি চলছে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন