কলেজে সংঘর্ষ, বাম বিধায়কের গলায় ছুরি

ছাত্র সংসদ ভোটের এখনও দিন দশেক বাকি। কোথাও ভোট হবে তারও পরে। অথচ মনোনয়ন পর্ব শুরু হতেই সোমবার রক্ত ঝরতে শুরু করল উত্তরবঙ্গের একাধিক কলেজে।সিপি, এসএফআই-সহ বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ, পুলিশ-প্রশাসনকে ঠুঁটো বানিয়ে কলেজের ছাত্র সংসদগুলিকে বিরোধী শূন্য করতে মরিয়া টিএমসিপি।

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০১৭ ০২:২৪
Share:

গলার আঘাত দেখাচ্ছেন খগেন মুর্মু। — মনোজ মুখোপাধ্যায়

ছাত্র সংসদ ভোটের এখনও দিন দশেক বাকি। কোথাও ভোট হবে তারও পরে। অথচ মনোনয়ন পর্ব শুরু হতেই সোমবার রক্ত ঝরতে শুরু করল উত্তরবঙ্গের একাধিক কলেজে।

Advertisement

সিপি, এসএফআই-সহ বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ, পুলিশ-প্রশাসনকে ঠুঁটো বানিয়ে কলেজের ছাত্র সংসদগুলিকে বিরোধী শূন্য করতে মরিয়া টিএমসিপি। তবে টিএমসিপি নেতাদের প্রায় সকলেরই দাবি, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে এঁটে উঠতে না পেরে বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলি মিথ্যে প্রচার করছে। যেখানে সব চেয়ে গোলমাল হয়েছে, সেই মালদহের পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ বলেন, ‘‘অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

এ দিন দুপুরে বাম-কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনগুলির ২৪ জন প্রার্থীকে নিয়ে পুলিশি পাহারায় মিছিল করে গাজল কলেজে মনোনয়নপত্র তুলতে যান হবিবপুরের সিপিএমের বিধায়ক খগেন মুর্মু। খগেনবাবুকে গেটেই আটকে দেয় পুলিশ। অভিযোগ, তখন পুলিশের সামনেই তাঁর উপরে হামলা চালায় একদল টিএমসিপি সমর্থক। খগেনবাবুর গলায় ছুরির আঘাত লাগে বলে অভিযোগ। খগেনবাবু বলেন, ‘‘টিএমসিপি ব্লক সভাপতি প্রসূন রায়ের নেতৃত্বে আমার উপরে হামলা হয়েছে।’’ প্রসূনবাবু অভিযোগ নস্যাৎ করে বলেন, ‘‘আমি ঘটনাস্থলে ছিলামই না! বিধায়ক হয়ে উনি কী ভাবে কলেজে ঢুকতে গিয়েছিলেন?’’

Advertisement

বাম-কংগ্রেস ছাত্র সংগঠনের ৩৫ জন প্রার্থীকে নিয়ে মালদহ কলেজে গিয়েছিলেন মানিকচকের বিধায়ক মোস্তাকিন আলম। অভিযোগ, কলেজে ঢুকতেই বাঁশ, লাঠি নিয়ে হামলা চালায় টিএমসিপি। সংঘর্ষে ৫ জন জখম হন। প্রতিবাদে মোস্তাকিন পড়ুয়াদের নিয়ে রথবাড়িতে রাস্তায় বসে পড়েন। সিপিএমের মালদহ জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য কৌশিক মিশ্র বলেন, ‘‘আমাদের বিধায়ক, ছাত্রছাত্রীরা আক্রান্ত হল। পুলিশ দর্শক হয়ে রইল।’’ শুধু তাই নয়, খগেনবাবুর আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার উল্লেখ করে এ দিন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান সিপিএম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। বিধায়কদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন স্পিকার। তিনি জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলতে পারেন বলে বামেদের দাবি।

টিএমসিপি মালদহ জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ দাস অবশ্য পাল্টা বলেন, ‘‘আমাদের ছাত্রদের মেরে রক্ত ঝরানো হল। কলেজে বাম বিধায়কেরা হাজির থেকে অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করলেন। আর উল্টে আমাদের নামে দায় চাপানো হচ্ছে!’’ এ দিনের ঘটনার পরিপেক্ষিতে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলির পরিদর্শক অপূর্ব চক্রবতী কলেজগুলির কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছেন।

ছাত্র সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মালদহের পাকুয়াহাট ডিগ্রি কলেজ। অভিযোগ, এখানে অখিল বঙ্গ বিদ্যার্থী পরিষদের প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র ছিঁড়ে দেয় টিএমসিপি। এই নিয়ে কলেজ গেটের বাইরে মালদহ-নালাগোলা রাজ্য সড়কের উপরে দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে যায়। এই গোলমাল থেকে বাঁচতে মালদহের চাঁচল ও সামসি কলেজে একজোট হয়ে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিল সিপি ও এসএফআই।

গত কয়েক বছরের মতো মালবাজার কলেজে এ বারও বিরোধীরা মনোনয়ন তুলতে পারেনি। তৃণমূলই ক্ষমতা দখল করে চলেছে।

গোলমাল হয়েছে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়েও। সেখানে বিরোধী ছাত্র সংগঠনের প্রার্থীরা অধিকাংশই মনোনয়নপত্র তুলতে পারলেন না। ৯০টি আসনের ভোটের জন্য ছাত্র পরিষদ মাত্র ১৫টি মনোনয়ন তুলতে সমর্থ হয়। বিজেপির অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের প্রার্থীরা তোলেন ৫টি মনোনয়ন। এসএফআই কোনও মনোনয়ন তুলতে পারেনি বলে জানিয়েছে। ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি রোনাল্ড দে বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।’’ টিএমসিপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ভোটের দায়িত্বে থাকা ইলেকশন কমিশনের আহ্বায়ক প্রণব ঘোষ অবশ্য জানান, এ দিন ৩০৯টি মনোনয়ন তোলা হয়েছে। বিরোধী ছাত্র সংগঠগুলির পাল্টা দাবি, তৃণমূলেরই বিভিন্ন গোষ্ঠী অধিকাংশ মনোনয়নপত্র তুলেছে।

কোচবিহারের একাধিক কলেজেও তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী আলাদা আলাদা ভাবে মনোনয়নপত্র তোলার প্রস্তুতি নিয়েছে। বালুরঘাটেও টিএমসিপির দুটি গোষ্ঠী আলাদা ভাবে মনোনয়ন পত্র তুলছে বলে সূত্রের খবর।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন