ধসের সেই দৃশ্য! —নিজস্ব চিত্র।
তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা, রায়ডাক, মহানন্দা— উত্তরবঙ্গের সবক’টি নদী ফুঁসছে। পাহাড়ে দফায় দফায় বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে ভয় ধরাল রংপো-রোরথাং রোডে ধসের দৃশ্য। চোখের সামনে ধস নেমে নিমেষে ধুলিসাৎ হল রাস্তা। ভাঙল স্কুটার। তবে এর জন্য শিলিগুড়ি থেকে সিকিম যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হচ্ছে না।
আপাতত গজলডোবার তিস্তা ব্যারেজ়ের লকগেট খুলে দেওয়া হয়েছে৷ নির্দিষ্ট সময় অন্তর খুলে দেওয়া হচ্ছে মহানন্দা ব্যারেজ়ের লকগেট। তিস্তার নিম্ন অববাহিকায় জারি হয়েছে সতর্কতা। তিস্তা ব্যারেজ সংলগ্ন এলাকায় চলছে প্রশাসনে নজরদারি। অন্য দিকে, দার্জিলিং এবং কালিম্পঙের অবস্থা খানিকটা স্বাভাবিক। ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক সারাইয়ের কাজ খানিক শেষ হয়েছে। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিংগামী দুধিয়া সেতু বাদ দিলে প্রায় সব রাস্তার পরিস্থিতি এই মুহূর্তে স্বাভাবিক। বিভিন্ন সময়ে তিস্তাবাজার সংলগ্ন এলাকাগুলোতে জল উঠলেও বৃষ্টিপাত কমলেই তা নেমেও যাচ্ছে। কিন্তু বিধ্বস্ত অবস্থা সিকিমের নানা জায়গায়।
মঙ্গলবার সকালে সিকিমের রংপো-রোরথাং রোডে কয়েক জনের চোখের সামনে হুড়মুড়িয়ে নেমে আসে পাহাড়ের একটা অংশ। হতাহতের খবর নেই। আপাতত ওই রাস্তা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
এমন দুর্যোগ পরিস্থিতিতে পর্যটক সংখ্যাও কমছে। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজ়ম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট স্যানাল বলেন, ‘‘পাহাড়ে পর্যটকের সংখ্যা অনেকটাই কমে এসেছে৷ তবে দার্জিলিংয়ের ক্ষেত্রে দুধিয়া সেতু বাদ দিলে বাকি প্রায় সবক’টি রাস্তা দিয়ে কিন্তু যান চলাচল স্বাভাবিক৷ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও একাধিক হেল্পলাইন নম্বর থেকে পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে। চাপ আসলে সিকিমের একাধিক জায়গা ধসের কারণে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকলে রংপো-রোরথাং রোড দিয়ে যান চলাচল হয়। সেই রাস্তাতেও ধস নেমেছে। সিকিম প্রশাসন অবশ্য দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।’’
এর আগে গত শুক্রবারে শিলিগুড়ির গুলমায় রেলের তৈরি ব্রিজের একাংশ ভেঙেছে। গুলমা থেকে তুড়িবাড়ি পর্যন্ত যোগাযোগ রক্ষাকারী মহানন্দা অভয়ারণ্যের মাঝে রেলের তৈরি ওই ব্রিজটি হেঁটে চলাচলের জন্য ব্যবহার করতেন স্থানীয়েরা।