—প্রতীকী চিত্র।
রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মহিলা নিরাপত্তারক্ষীকে ধর্ষণ করিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠল তৃণমূলপন্থী তিন শিক্ষাকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের অন্যতম ‘তৃণমূল শিক্ষাবন্ধু সমিতি’র বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা তথা রায়গঞ্জ শহর তৃণমূলের সহ-সভাপতি তপন নাগ। হুমকির অভিযোগ শুক্রবার প্রকাশ্যে আসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে শোরগোল পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগকারিণীর বিরুদ্ধে শিক্ষাকর্মীদের একাংশ ওই তিন জনকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ করেছেন। তারও তদন্ত চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে গত চার মাস তপনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্ত কমিটির কাছে তিনি যাতে তপনের বিরুদ্ধে মুখ না খোলেন, তাই তাঁকে শাসানো হয়েছিল বলে অভিযোগ ওই মহিলা রক্ষীর। গত ১৪ মে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য দীপককুমার রায়ের কাছে করা অভিযোগে তাঁর দাবি, সে দিন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে তপন তাঁকে গালাগালি করেন। সঙ্গে ছিলেন আরও দুই শিক্ষাকর্মী— সুবীর চক্রবর্তী এবং অমিত চৌহান। ওই নিরাপত্তারক্ষীর অভিযোগ, ‘‘তদন্ত কমিটির কাছে তপনবাবুর বিরুদ্ধে মুখ খুললে, রাস্তায় ধর্ষণ করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন ওই তিন জন। কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’’
তপন নাগ বলেন, ‘‘মন্তব্য করব না।’’ অমিত চৌহানের দাবি, ‘‘ওই দিন ছুটিতে ছিলাম।’’ তবে শিক্ষাকর্মী সমিতির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সুবীরের পাল্টা দাবি, অসাধু উদ্দেশ্যে ওই নিরাপত্তারক্ষী তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তাঁর সংযোজন, “অধিকাংশ শিক্ষাকর্মী রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত ভাবে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছেন এবং ওই মহিলাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দুর্লভ সরকার বলেন, “কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের যৌন হেনস্থা বিরোধী আইনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ কমিটি তদন্ত করছে। শিক্ষাকর্মীদের একাংশ মহিলা রক্ষীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছেন। তারও তদন্ত চলছে।” রেজিস্ট্রার জানান, দু’টি তদন্তের রিপোর্ট জমা পড়লে, উপাচার্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে