তেতো স্মৃতি ভুলে বিয়ের পিঁড়িতে

কলেজের ভোটে একে অন্যের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছেন। একজনের পাঠানো লোকজনের হাতে বেধড়ক মারধরও খেয়েছেন অন্যজন। পড়েছেন লাগাতার হুমকির মুখেও। তা নিয়ে উভয়ের চাপানউতরের সূত্রেই ঘনিষ্ঠতা, প্রেম ও দল ছেড়ে অন্যজনের দলে ভিড়ে যাওয়া।

Advertisement

কিশোর সাহা

শেষ আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০১৬ ০২:৩০
Share:

তিন বছর আগে টিএমসিপি-র কর্মীদের হাতে প্রহৃত হচ্ছেন এসএফআই মহিলা কলেজের নেত্রী ইন্দ্রাণী সরকার (ফাইল চিত্র)। ডান দিকে, রবিবার টিএমসিপি নেতা নির্ণয় রায়ের বিয়ে হল তাঁর। (ছবি ফেসবুকের সৌজন্যে)

কলেজের ভোটে একে অন্যের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছেন। একজনের পাঠানো লোকজনের হাতে বেধড়ক মারধরও খেয়েছেন অন্যজন। পড়েছেন লাগাতার হুমকির মুখেও। তা নিয়ে উভয়ের চাপানউতরের সূত্রেই ঘনিষ্ঠতা, প্রেম ও দল ছেড়ে অন্যজনের দলে ভিড়ে যাওয়া।

Advertisement

প্রায় ৩ বছর আগের সেই তেতো স্মৃতি ভুলে দু’জনে বসলেন বিয়ের পিঁড়িতে। রবিবার, সেই বিয়ের বধূবরণ উপলক্ষ্যে শিলিগুড়িতে বসেছিল বিশাল খানাপিনার আসর। যা নিয়ে কিছুটা হলেও ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে শিলিগুড়ির ছাত্র রাজনীতি।

পাত্রীর নাম ইন্দ্রাণী সরকার। পাত্র, নির্ণয় রায়। দুজনেরই বাড়ি শিলিগুড়ি শহরের মিলনপল্লিতে। প্রায় কাছাকাছি। কিন্তু, একদা মহিলা কলেজের এসএফআই নেত্রী ইন্দ্রাণীর সঙ্গে টিএমসিপির জেলা সভাপতি নির্ণয়ের সেই অর্থে মুখ দেখাদেখি ছিল না। বরং, ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি মহিলা কলেজের ভোটে মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে টিএমসিপি-র মেয়েদের হাতে বেধড়ক মার খান ইন্দ্রাণী। সেই ছবি দেখে গোটা রাজ্যেই আলোড়ন পড়ে। সিপিএমের রাজ্য কমিটিও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়। এর পরে ইন্দ্রাণীকে দল ছাড়তে লাগাতার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে নির্ণয়ের বিরুদ্ধে।

Advertisement

তা নিয়ে পুলিশও তদন্তে নামে।

কিন্তু, চমকে-ধমকে ইন্দ্রাণীকে দলে টানার জন্য লাগাতার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রেমেই পড়ে গেলেন নির্ণয়। বারবার হুমকি দিয়ে যে কাজ হয়নি মন দেওয়া নেওয়ায় তা রাতারাতি হয়ে যায়। ওই বছরের ২১ অগস্ট ইন্দ্রাণী তৃণমূলে যোগ দেন। তার আগে অবশ্য তিনি মহিলা কলেজের ভোটে এসএফআইয়ের হয়ে জিতে সংসদ দখলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসাইটে নেতা-নেত্রী দুজনেই প্রেমের প্রসঙ্গ উঠতেই একেবারেই লাজুক। তবু নির্ণয় কথা বললেন। তাঁর কথায়, ‘‘তেতো দিয়ে শুরু করে কোনও সম্পর্ক মিষ্টত্বে পৌঁছনোর রোমাঞ্চই আলাদা। এর বেশি কী বলব!’’

এর মধ্যে, বধূবরণের বিশাল আয়োজন নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে অনেকে বিঁধছেন নির্ণয়কে। নোট বাতিলের বাজারে প্রায় ৪ হাজার আমন্ত্রিত। ঢালাও খানাপিনার ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে কত লক্ষ টাকা খরচ তা নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। অবশ্য নির্ণয়বাবুর বাবা বড় ব্যবসায়ী। নির্ণয় নিজেও ব্যবসায় যুক্ত। তবুও এত নোটের জোগান কী ভাবে, তা নিয়ে তৃণমূলের অনেকের কৌতুহলের অন্ত নেই। নির্ণয়বাবুর জবাব, ‘‘যতটুকু না করলেই নয় তা করা হয়েছে। বেশির ভাগ চেকে টাকা দেওয়া হয়েছে। বিয়েতে একটু ধারদেনা হয়ই। কী ভাবে কী হচ্ছে তা সবাই কী ঢাক পিটিয়ে বলে। শুভ কাজের সময়ে অশুভ চিন্তা থেকে দূরে থাকাই ভাল।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement