—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
প্রাক্তন প্রেমিকার অভিযোগে তাঁকে জেল খাটতে হয়েছে। জেল থেকে বেরিয়ে তাই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তক্কে তক্কে ছিলেন। অবশেষে ‘সুযোগ’ মিলতেই যুবতীর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ প্রাক্তন প্রেমিকের বিরুদ্ধে। ঘটনায় শোরগোল জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে। ইতিমধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অপরাধের প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে ধৃতের বাবার বিরুদ্ধেও।
স্থানীয় সূত্রে খবর, জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের সন্ন্যাসীকাটা এলাকার এক যুবতীর সঙ্গে সরিফুল আলমের দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক ছিল। তবে ওই সম্পর্কে থাকাকালীন ওই যুবক অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করেন। কিন্তু তার পরেও প্রেমিকাকে জোর করেন সম্পর্কে থাকার জন্য। মেয়েটির পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরিফুল বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ‘প্রাক্তন প্রেমিকা’কে। সন্ন্যাসীকাটার জমিদার পাড়ায় একটি পরিত্যক্ত জায়াগায় তাঁরা সহবাস করেন।
পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগে থানার দ্বারস্থ হন ওই যুবতী। গ্রেফতার হতে হয় সরিফুলকে। সেই সাজা শেষ হয়েছে মাস পাঁচেক হল। জেল থেকে গ্রামে ফেরেন সরিফুল। তার পর থেকে নাকি চোখে চোখে রাখছিলেন প্রাক্তন প্রেমিকাকে। যুবতীর পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত বুধবার মধ্যরাতে সরিফুল তাদের বাড়িতে যান। প্রাক্তন প্রেমিকাকে বাড়ির বাইরে বেরোতে বলেন। কথা বলার অছিলায় বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে হঠাৎ যুবতীর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন পালিয়ে যান তিনি। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অগ্নিদগ্ধ ওই যুবতীকে উদ্ধার করেন অভিযুক্ত এবং তাঁর বাবা। একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে শেষে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় যুবতীকে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মেয়ের খোঁজ শুরু করে পরিবার। পুলিশ সূত্রে মেয়েটির মামা খবর পান, ভাগ্নি উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতিও আশঙ্কাজনক। যুবতীর মামা খলিল মহম্মদ বলেন, ‘‘আমার ভাগ্নির বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে বছর তিনেক আগে মারা যান। মা অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। পরিবারে ও একা এবং একমাত্র উপার্জনকারী।’’
খলিল আরও জানান, একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন তাঁর ভাগ্নি। সরিফুল এর আগেও তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঠকিয়েছেন। ধর্ষণের মামলায় জেল খেটেছেন। এখন জেল থেলে ফিরে প্রতিহিংসার বশে প্রাক্তন প্রেমিকাকে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘হাসপাতালে বাবা-ছেলে নিজেদের মেয়েটির শ্বশুর ও স্বামী বলে মিথ্যা পরিচয় দিয়েছে। ওদের ফাঁসি চাই।’’
এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায় বলেন, ‘‘আমরা সম্পূর্ণ ভাবে মেয়েটির পরিবারের পাশে রয়েছি। দোষীরা যাতে উপযুক্ত শাস্তি পান, সে জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাব।’’ জলপাইগুড়ি জেলার পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসবাদ করা হচ্ছে। ‘নির্যাতিতা’র বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ সুপার বলেন, ‘‘গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হবে।’’