শুশুক শাবক। ছবি: সন্দীপ পাল।
মালদহের গঙ্গায় শুশুক সংরক্ষণ এবং ছোট ইলিশ মাছ ধরা রুখতে উদ্যোগী হল জেলা প্রশাসন। গঙ্গার জীববৈচিত্র রক্ষা এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে গঙ্গায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহকারী মৎস্যজীবী ও মৎস্যচাষের সঙ্গে যুক্ত মানুষজনকে সচেতন করা হল। বৃহস্পতিবার কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের সুকান্ত ভবনে এ নিয়ে একটি কর্মসূচি হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার শুশুক দেশের জাতীয় জলজ প্রাণী। নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এই প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মালদহের মানিকচক এবং কালিয়াচক-২ ব্লকের পঞ্চানন্দপুর এলাকায় গঙ্গায় মাঝেমধ্যেই শুশুকের দেখা মেলে। কিন্তু অবৈধ মাছ ধরা, নদীদূষণ এবং মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেরকারণে শুশুকের সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। একই সঙ্গে নির্বিচার ছোট ইলিশ ধরার ফলে ইলিশের উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই দুই বিষয়েই নদীনির্ভর মানুষকে সচেতন করার উপরে এ দিনের কর্মসূচিতে জোর দেওয়া হয়। সেখানে ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন)অনিন্দ্য সরকার, জেলার সহকারী মৎস্য অধিকর্তা অঞ্জন বসু, কালিয়াচক-২ বিডিও কৈলাস প্রসাদ, বন দফতরের আধিকারিক, ‘ওয়ার্ল্ড-ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার’-এর প্রতিনিধিরা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত আধিকারিকেরা শুশুক সংরক্ষণের গুরুত্ব, ছোট ইলিশ না ধরার প্রয়োজনীয়তা এবং মৎস্য সংক্রান্ত প্রচলিত আইন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।শুশুক নিধন এবং নির্ধারিত আকারের আগে ইলিশ মাছ ধরার ক্ষেত্রে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়েও মৎস্যজীবীদের অবহিত করা হয়। মাছ ধরার সময় অসাবধানতায় জালে শুশুক আটকে পড়লে কী ভাবেনিরাপদে তাকে উদ্ধার করে নদীতে ছেড়ে দিতে হবে, সেই বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘এই ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে গঙ্গার শুশুক সংরক্ষণে ইতিবাচক ফল মিলবে। একই সঙ্গে ছোট ইলিশ ধরা কমলে ভবিষ্যতে ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। নদীর পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের দীর্ঘমেয়াদি জীবিকাও আরওসুরক্ষিত হবে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে