ED School

ইডি পরিচালিত স্কুল ধুঁকছে শিলিগুড়িতে

শিলিগুড়ির কড়াইবাড়ির এই স্কুলটি শহরের সবচেয়ে পুরনো বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলির মধ্যে অন্যতম।

রাহুল মজুমদার

শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৭:৪৪
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

গত কয়েক বছরে সারদা কেলেঙ্কারির চড়াই-উতরাই মানুষ দেখেছেন। কিন্তু পরিস্থিতির বদল হয়নি শিলিগুড়ির একটি ইংরেজি মাধ্যম বেসরকারি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের। শিলিগুড়ি তথা রাজ্যের একমাত্র ইডির (এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট) অধীনে থাকা একটি বেসরকারি স্কুলটির নাম লিঙ্কন হাই স্কুল। গত ১১ বছর ধরে সেটি ইডি পরিচালিত স্কুল। সারদার অধিগৃহীত এই স্কুলের নিয়ন্ত্রণ ইডি যখন নেয়, তখন এর ছাত্র সংখ্যা ছিল এক হাজার। আজ সেই ছাত্র সংখ্যা কমতে-কমতে ২৬০ হয়েছে। আয় কমতে থাকায় স্কুলটি বন্ধের দিকে এগিয়ে চলেছে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন।

শিলিগুড়ির কড়াইবাড়ির এই স্কুলটি শহরের সবচেয়ে পুরনো বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলির মধ্যে অন্যতম। প্রথমে ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে চললেও মাঝে কয়েক বছর চিটফান্ড সংস্থা সারদা গ্রুপ এই স্কুলটির দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু চিটফান্ড কেলেঙ্কারি সামনে আসতেই স্কুলের দায়িত্ব চলে যায় ইডির হাতে। তার পরেও চলছিল মোটামুটি, কিন্তু এ বার স্কুল পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরে আসতে চলেছে ইডি, দাবি কর্তৃপক্ষের।

ধীরে-ধীরে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। চিঠি, ই মেল কোনও কিছুরই জবাব দিচ্ছেন না ইডি কর্তারা। এমন অভিযোগ স্কুলের প্রিন্সিপাল শম্পা দত্ত রায়ের। ইতিমধ্যে সুরাহা চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে তিনি আবেদন দাখিল করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা চাই সারদার মামলা থেকে স্কুলের মামলাকে পৃথক করে শুনানি করে দ্রুত শেষ করে দেওয়া হোক।’’

২০০৯ সালে শিলিগুড়ির স্কুলটির দায়িত্বে নেয় সারদা গ্রুপ। কিন্তু অর্থলগ্নি কেলেঙ্কারির পরে ২০১৫ সালে গোটা স্কুল পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে নেয় ইডি। এক জন যুগ্ম অধিকর্তা পদ মর্যাদার আধিকারিককে প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়। স্কুলের যে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে হলে প্রিন্সিপালকে প্রশাসকের কাছে জানাতে হত। বছর দু’য়েক আগে ওই প্রশাসককেও সরিয়ে দেয় ইডি। এর পর থেকে স্কুল পরিচালনায় সমস্যা বেড়েছে বলে অভিযোগ কর্তৃপক্ষের।আপাতত ২৬০ পড়ুয়ার স্কুল ফি থেকেই ৪০ জন শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর প্রতি মাসের বেতনদেওয়া হচ্ছে।

স্কুলের আইনজীবী মাইকেল রায় কেনেডির দাবি, ‘‘বর্তমান ভবন থেকে স্কুলটি সরিয়ে দিয়ে ভবনটি বিক্রি করতে চাইছে ইডির একাংশ।’’ তিনি বলেন, ‘‘হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছে। শ্যামল সেন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছি।’’ ইডির উত্তর পূর্বাঞ্চলের আধিকারিকদের একাংশ জানান, বিষয়টি বিচারাধীন। বাকিটা সময়মতো ঘোষণা করা বা জানানো হতে পারে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন