শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে রাস্তায় প্রাইভেট টিউটরেরা

তাঁদের কাছে পড়লে তবেই ‘প্রজেক্ট’-এর নম্বর বেশি মেলে, পরীক্ষার আগে অনেক প্রশ্ন জেনে নেওয়া যায় বলে সরকারি শিক্ষকদের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলল ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইভেট টিউটর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। আর যারা স্কুলের ওই শিক্ষকের কাছে পড়বে না, তাদের ‘সমস্যায়’ পড়তে হয়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৬ ০২:২২
Share:

প্রাইভেট টিউটরদের বিক্ষোভ। — নিজস্ব চিত্র

তাঁদের কাছে পড়লে তবেই ‘প্রজেক্ট’-এর নম্বর বেশি মেলে, পরীক্ষার আগে অনেক প্রশ্ন জেনে নেওয়া যায় বলে সরকারি শিক্ষকদের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলল ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইভেট টিউটর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। আর যারা স্কুলের ওই শিক্ষকের কাছে পড়বে না, তাদের ‘সমস্যায়’ পড়তে হয়।

Advertisement

বৃহস্পতিবার সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের টিউশন দেওয়া বন্ধ করার দাবিতে মহকুমাশাসককে স্মারকলিপি দিতে এসে ওই অভিযোগ তোলেন তাঁরা। তাদের দাবি, এ ভাবেই ছাত্রছাত্রীদের উপর অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা ‘চাপ’ দেন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কাছে টিউশন নিতে যেতে বাধ্য করান। এ দিন বাঘা যতীন পার্ক থেকে মিছিল করে মহকুমাশাসকের দফতরে যান প্রাইভেট টিউটরেরা।

বিভিন্ন সরকারি স্কুলের শিক্ষক, এমনকী প্রধান শিক্ষকদের একাংশ টিউশন করছেন, ছাত্রছাত্রীদের টিউশন পড়তে কী ভাবে চাপ দিচ্ছেন, তা জানিয়ে প্রশাসনের তরফেও ব্যবস্থা নিতে দাবি জানান। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে তারা এর মধ্যেই ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পথসভা, সই সংগ্রহ অভিযান করবেন। সরকারি স্কুলের শিক্ষকেরা টিউশন করতে পারবেন না, এই নিয়ম বাস্তবে কার্যকর করার দাবিতে উত্তরকন্যায় অভিযানও করবেন। এমনকী শিক্ষামন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীরও দ্বারস্থ হবেন বলে দাবি করেছেন।

Advertisement

মহকুমাশাসক পানিক্কর হরিশঙ্কর বলেন, ‘‘পড়ুয়াদের চাপ দেওয়ার যে অভিযোগ সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তোলা হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করে জানালে ও প্রমাণ দিলে ব্যবস্থা নিতে সুবিধে হয়। সরকারি নিয়ম মেনেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্কুল পরিদশর্ককে জানানো হবে।’’ শিলিগুড়ি স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) প্রাণগোবিন্দ সরকার জানান, স্কুলগুলিতে তারা ব্যবস্থা নিতে জানাবেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক যদি যুক্ত থাকে সে জন্য কমিটির সভাপতিদেরও চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রাইভেট টিউটরদের সংগঠনের মুখপাত্র সোমনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘টিউশন না পড়লে ছাত্রছাত্রীদের প্রজেক্টের নম্বর ঠিক মতো দেওয়া হয় না। তা ছাড়া পরীক্ষার আগে প্রশ্ন জানিয়ে দেওয়ার বিযয়ও রয়েছে। সরকারি শিক্ষকদের অনিয়ম বন্ধ করার দাবিতে আমরা শিক্ষামন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও যাব।’’

উল্লেখ্য, বিভিন্ন সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের একাংশ টিউশন করছেন বলে অভিযোগ পেয়ে তাঁদের নাম করে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিতে চিঠি পাঠিয়ে তা খতিয়ে দেখে ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলেছেন শিলিগুড়ির স্কুল পরিদর্শক। এর পরেই অভিভাবকরা তা প্রত্যাহারের দাবি তোলেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement