জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবগণনম। ছবি: সন্দীপ পাল।
রাজ্য সরকারের কাছ থেকে জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের জমি ও স্থায়ী ভবন হস্তান্তর করা হল কলকাতা হাই কোর্টকে। শুক্রবার জলপাইগুড়িতে হস্তান্তর প্রক্রিয়ার শেষে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবগণনম জানিয়েছেন, এ দিনটি কলকাতা হাই কোর্ট এবং সারা রাজ্যের নিরিখেই গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত স্থায়ী ভবনে সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন হবে বলেও প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন। এ দিন প্রধান বিচারপতি বলেন, “আজকের দিন কলকাতা হাই কোর্ট এবং সমগ্র রাজবাসীর কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। স্থায়ী ভবন এই অংশের বাসিন্দাদের কমপক্ষে আগামী ২৫ বছর বিচারপ্রার্থীদের পরিষেবা দিতে সক্ষম হবে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ৩৮০ কোটি টাকারও বেশি প্রথম পর্যায়ের কাজের জন্য বরাদ্দ করেছেন। আমরা আশা করছি শীঘ্রই উদ্বোধন করতে পারব।”
স্থায়ী ভবনের কাজের এখনও কিছু বাকি রয়েছে। সে কথাও প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন। বর্ষাও চলে আসবে মাসখানেকের মধ্যে। প্রধান বিচারপতি বলেন, “শীঘ্রই উদ্বোধন হবে, তবে কত শীঘ্র তা বলতে পারছি না। কিছু কাজ বাকি রয়েছে। সামনে বর্ষা আসছে। তবে আমরা আশাবাদী।” প্রশাসনিক সূত্রে খবর, জুলাই মাসের মধ্যে স্থায়ী ভবনের উদ্বোধন করার পরিকল্পনার ইঙ্গিত এ দিন দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৯টার কিছু পরে স্থায়ী ভবনে প্রধান বিচারপতির এজলাসে জমি এবং ভবনের দায়িত্বভার হস্তান্তর করা হয়। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ছিলেন বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তথা জলপাইগুড়ির জ়োনাল জজ বিশ্বজিৎ বসু। কলকাতা হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, সার্কিট বেঞ্চের রেজিস্ট্রারও উপস্থিত ছিলেন। জলপাইগুড়ির জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ পূর্ত দফতর ও প্রশাসনের অন্য বিভাগের আধিকারিকেরা ছিলেন। বর্তমানে জলপাইগুড়ি ছাড়াও দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারের মামলা সার্কিট বেঞ্চের অস্থায়ী বেঞ্চে শোনা হয়। স্থায়ী ভবনে কাজ শুরু হলে উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাও তার অর্ন্তভুক্ত হবে বলে সূত্রের দাবি।
জলপাইগুড়িতে নতুন ভবনে সার্কিট নয়, হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চের কাজ শুরু হোক বলে দাবি তুলেছেন আইনজীবীরা। সেই প্রস্তাব প্রসঙ্গে এ দিন প্রধান বিচারপতি বলেন, “এর কোনও উত্তর এখন দিতে পারব না।”
এ দিন প্রধান বিচারপতি ভবনটি পরিদর্শন করে প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ভবনের এক-তিন তলার কাজ প্রায় শেষ। চারটি এজলাস এবং হাই কোর্টের প্রশাসনিক ভবনের অংশের কাজ শেষ হয়েছে এবং সেগুলি যে কোনও দিন ব্যবহার করা যাবে বলে দাবি।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে