পথসভায় বক্তব্য রাখছেন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব। — নিজস্ব চিত্র
নোট-বাতিলের দুর্ভোগ নিয়ে পথে নামল তৃণমূল। বুধবার সন্ধ্যে থেকেই শিলিগুড়িতে পরপর পথসভা করেছে জেলা তৃণমূল। সব সবাতেই উপস্থিতিত ছিলেন জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব।
আজ, বৃহস্পতিবার শিলিগুড়িতে মহা মিছিলের ডাকও দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল। বিধানসভা ভোটের পরে এই প্রথম রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করেছে তৃণমূল। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে রাজ্য জুড়েই মিছিল, সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে তৃণমূলের। তবে গত মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রের পাঁচশো এবং হাজার টাকা নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আন্দোলন শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় দল। শিলিগুড়ির ক্ষেত্রে আন্দোলনে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, বামেদের হাতে থাকা পুরসভার বিরুদ্ধে অনুন্নয়নের অভিযোগ। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের পদত্যাগের সঙ্গে শিলিগুড়ি পুরসভা থেকেও বামেদের বিদায়ের দাবি মহামিছিলের কর্মসূচিতে জোড়া হয়েছে।
এ দিন প্রথম সভা ছিল পুরোনো ডুয়ার্স বাসস্ট্যান্ডে। কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘তুঘলঘি সরকার’ বলে অভিযোগ করে বিধান রোড লাগোয়া সভা মঞ্চে বড় ব্যানারও লাগানো হয়। কাউন্সিলর থেকে মন্ত্রী সকলেই নোট বাতিল নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। ব্যবসায়ী এলাকায় সভা হওয়ায় বারেবারেই নোট বাতিলের প্রসঙ্গ টেনে আনেন বক্তারা। মন্ত্রী তথা তৃণমূলের জেলা সভাপতি গৌতমবাবু অভিয়োগ করে বলেন, ‘‘কেন্দ্রীর মোদি সরকার শুধুমাত্র বড় ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখেই রাতারাতি নোট বাতিলের কথা ঘোষণা করেছেন। দেশের কোটি কোটি সাধারণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তরা কী ভাবে এই দু’দিন সংসার চালাবেন তা ভাবেননি।’’ এ দিনের সভায় ছিলেন কাউন্সিলর কৃষ্ণ পালও, নান্টু পাল, মঞ্জুশ্রী পাল, মানিক দে, শ্রাবণী দত্ত আইনজীবী নেতা রত বণিক সহ অনান্য নেতারা।
সভায় গৌতমবাবুর দাবি, রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরে শিলিগুড়ি পুরসভাকে দু’শো কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ করলেও, পরিকাঠামো গত কোনও উন্নয়ন হয়নি। রাজ্য সরকার শিলিগুড়ি এবং লাগোয়া এলাকায় গত কয়েক বছরে উন্নয়নের কী কী প্রকল্প নিয়েছে তারও বিবরণ দেন গৌতমবাবু। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার যে টাকা দিয়েছে, উন্নয়ন করেছে তা বাম বোর্ড স্বীকার করতে চায় না। বিজেপি এবং বাম দুই মানুষের কাছে বড় বিপদ। দুই দলই ইস্তফা দিয়ে সরকার থেকে সরে আসুক, সে দাবিতেই জোরদার আন্দোলন শুরু হচ্ছে।’’ শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য পাল্টা দাবি করে বলেন, ‘‘আমরা কত টাকা পেয়েছি আর কত পাইনি তা লিখিত ভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। রাজ্য সরকার সঙ্কীর্ণ উদ্দেশ্যে পুরসভাকে শুধু নয়, শিলিগুড়ির প্রতিটি বাসিন্দাকে বঞ্চনা করেছে।’’
এ দিন আরও দু’টি পথসভা হয়েছে তৃণমূলের। রবীন্দ্রনগর এবং এনজেপি গেট বাজার এলাকার সভাতেও গৌতমবাবু সহ দলের জেলা নেতা-কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।