শিবপুজো নিয়ে প্রচারে লাগানো ব্যানার। কোচবিহারে। নিজস্ব চিত্র ।
লোকসভা ভোটের আগে করা হয়েছিল মহামৃত্যুঞ্জয় যজ্ঞ। কোচবিহার আসনে দলের জয়ের পরে হয় রুদ্রাভিষেক পুজো। এ বার বিধানসভা ভোটের আগেও শিব শরণে তৃণমূল। মার্চ মাসের শুরুতেই সওয়া এক লক্ষ মাটির শিবলিঙ্গ তৈরি করে পুজোর পাশাপাশি রুদ্র মহাযজ্ঞের জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কোচবিহার সিড়ডি সাই সেবা সমিতির ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত ওই পুজোর মুখ্য উপদেষ্টা তৃণমূলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। শহরের নানা এলাকায় ওই ব্যাপারে ব্যানারও পড়েছে।
উদ্যোক্তাদের সূত্রেই জানা গিয়েছে, শহরের স্টেশন মোড় এলাকায় ফাঁকা জায়গায় পুজোর মণ্ডপ করা হচ্ছে। কয়েক দিন আগে ধ্বজা উড়িয়ে ওই কাজের সূচনা হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে মাটি দিয়ে সওয়া লক্ষ শিবলিঙ্গ তৈরির কাজ শুরু হবে। ওই শিব আরাধনা রুদ্র মহাযজ্ঞের আয়োজক কমিটির মুখ্য পৃষ্ঠপোষক, তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক বলেন, “ শিবপুরাণে রুদ্র মহাযজ্ঞ অত্যন্ত শক্তিশালী। আগামী ৯ মার্চ ভোর থেকে শুরু হবে পুজো, রুদ্র মহাযজ্ঞ। কোচবিহারের পাশাপাশি কাশী,বাবাধাম সহ নানা এলাকার ১৩৫ জন পন্ডিত, আচার্য অংশ নেবেন।শীঘ্র মাটির পার্থিব শিবলিঙ্গ তৈরির কাজ শুরু হবে। গোটা উত্তরবঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে ওই যজ্ঞানুষ্ঠান হয়েছে বলে আমাদের কিন্তু জানা নেই।”
তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতির উদ্যোগে ওই পুজো যজ্ঞের আয়োজন নিয়ে সরগরম রাজনীতির আবহও। বিজেপির কটাক্ষ, সবটাই হিন্দু ভোট টানার কৌশল। যা মানতে নারাজ তৃণমূল। বিজেপির কোচবিহার জেলা সহ সভাপতি বিরাজ বসু বলেন, “তৃণমূল নেতারা হিন্দু ভোট টানতে নানা কৌশল নিচ্ছেন। কোচবিহারে ওই পুজো,যজ্ঞের আয়োজন সেই হিন্দু ভোটকে মাথায় রেখে। এসবে আখেরে লাভ হবেনা।” বিজেপির ওই বক্তব্য উড়িয়ে তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক বলেন, “আমরা সর্ব ধর্ম সহাবস্থানের আদর্শে বিশ্বাস করি। নিজেদের ধর্ম পালন করব, তাতে রাজনীতির কথা কেন আসছে। তা ছাড়া বিজেপিকে হিন্দুত্বের ঠেকা কেউ দেয়নি। সনাতনী হিন্দুদের সবার অন্তরে শিব বিরাজমান।” সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “যজ্ঞও হবে, আজানও থাকবে এমন সহাবস্থান আমাদের সংস্কৃতি। বিভেদের রাজনীতি বিজেপির সংস্কৃতি। তাই ওদের এমন ভাবনা।” উদ্যোক্তাদের সূত্রেই জানা গিয়েছে,পুজোর অনুষ্ঠান ঘিরে সর্বধর্মের সমন্বয়ের ছবি উঠে আসবে কোচবিহারে।
তৃণমূল, বিজেপি দুই শিবিরকে নিশানা করছে বামেরা। সিপিএমের কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় বলেন, “ভোট পেরোতে তৃণমূল, বিজেপি দু’দলের হাতিয়ারই ধর্ম।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে