কলেজের পাঠ আগেই চোকানো হয়েছে৷ অথচ এখনও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ঝাণ্ডা হাতে নানা সময় তাঁদের কলেজে দেখা যায়, এমন ‘বহিরাগত’ সমর্থকদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে জলপাইগুড়ি জেলার কলেজগুলিতে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্মার্ট আই-কার্ড চালুর দাবি তুলল তৃণমূল ছাত্র পরিষদ৷ ঠিক হয়েছে, বিভিন্ন কলেজের ছাত্র সংসদের মাধ্যমে খুব শীঘ্রই এই দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে করা হবে৷
জলপাইগুড়ি জেলার প্রায় সিংহভাগ কলেজের ছাত্র সংসদই এই মুহূর্তে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দখলে৷ ফলে বছরের বিভিন্ন সময়, বিশেষ করে ভর্তি ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সময় কলেজের ছাত্র নন এমন অনেককে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ঝাণ্ডা হাতে কলেজ চত্বরে দাপিয়ে বেড়াতে দেখা যায়৷ সংগঠনের ওই ‘বহিরাগত সমর্থক’দেরই এবার কলেজ চত্বরে প্রবেশ আটকাতে মরিয়া তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতৃত্ব৷ জলপাইগুড়ি জেলার আইন মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে ইতিমধ্যেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ৷ দিন ঘোষণা না হলেও বাকি কলেজগুলির নির্বাচন কিছু দিন পর হওয়ার সম্ভাবনা৷
যদিও বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলি সেখানে কতটা কী করতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ বিভিন্ন মহলে৷ এই পরিস্থিতিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলিতে নিজেদের গোষ্ঠীকোন্দল ঠেকাতেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদ জেলা নেতৃত্বের এমন দাবি বলে খোদ সংগঠনের একটি সূত্রের খবর৷ যদিও সংগঠনের জেলা নেতারা তা মানতে নারাজ৷ জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি অভিজিৎ সিংহ বলেন, “কলেজের পাঠ চুকিয়ে এখন চাকরি করছেন, অথচ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ঝাণ্ডা হাতে নানা সময়ে তাদের কলেজে দেখা যাচ্ছে৷ জলপাইগুড়িতে অনেক কলেজে এমন দৃশ্যও দেখা যাচ্ছে৷ আমরা চাই এমন মানুষের কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ বন্ধ হোক৷ বদলে ক্যাম্পাস শুধুমাত্র কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদেরই থাক৷”
তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষদের কাছে এই দাবি করা হবে৷ যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্মার্ট আই কার্ড চালুর করা থাকবে৷ যাতে করে ওই কার্ড কলেজের গেটে পাঞ্চ করে তারা কলেজে ঢুকতে পারেন৷ কিন্তু এই দাবি তারা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে কেন করছেন না? অভিজিৎবাবু বলেন, ‘‘আমরা নিশ্চিত কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছেই আমাদের এই দাবি পূরণ হবে৷’’