ছুটিতে চলে গেলেন বালুরঘাট আইন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দুর্জয় দেব। শনিবার সকালে ঘটনার তদন্ত করতে তাঁর বাড়িতে যায় পুলিশ। তবে তাঁকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তার আগেই তিনি বালুরঘাটের বাড়ি থেকে চলে গিয়েছেন।
আগামী ৫ অক্টোবর থেকে আইন কলেজের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। কলেজ সূত্রের খবর তিনি কবে ফিরবেন কাউকে বলে যাননি। গত বৃহস্পতিবার কলেজে টিএমসিপি সমর্থক তথা সরকারি আইনজীবীর ছেলে শাশ্বত চাকি সহ একদল ছাত্রের বিরুদ্ধে মারধোরের অভিযোগ করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দুর্জয়বাবু।
বালুরঘাট থানার আইসি বিপুল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার ঘটনার সময় দুর্জয়বাবু কলেজ থেকে আমাকে ফোন করেন। সেসময় তাকে নিগ্রহ বা মারধরের কোনও অভিযোগ তিনি করেননি। এরকম অভিযোগ জানালে সঙ্গে সঙ্গে থানা থেকে পুলিশ পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। রাতে তিনি মারধরের অভিযোগ দায়ের করেন।’’ তিনি জানান, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে অধ্যক্ষকে মারধরের কোনও প্রমাণ মেলেনি। কেন তিনি ছাত্রদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করলেন, সে বিষয়ে তদন্ত করতে তার বাড়িতে পুলিশ গিয়ে পায়নি।
এদিকে আইন কলেজের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে এদিন সরব হন পরিচালন সমিতির সদস্য তথা সরকারি আইনজীবী সুভাষ চাকি। তার অভিযোগ, গত শনিবার গভর্নিং বডির সভায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দুর্জয়বাবু কলেজ ভবন রং ও কিছু মেরামতি কাজের খরচবাবদ দেড় লক্ষ টাকার বিল পেশ করেন। অথচ ওই কাজের জন্য গভর্নিং বডির কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। বিনা টেন্ডার কোটেশনে ও পার্চেসিং কমিটিকে না জানিয়ে ওই কাজের বিষয়ে অনিয়ম সামনে এলে দুর্জয়বাবুকে চেপে ধরা হয়। জিবির সভায় তিনি বিষয়টি জানতেন না বলে ভুল স্বীকার করেন। সুভাষবাবুর আরও অভিযোগ, ছাত্রদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের ৮০০ টাকা এবং লেট ফাইনের আরও ২০০ টাকা বিনা রসিদে আদায় করা হয়েছে। এসবের জেরে কলেজে ছাত্র সংসদের ঘরে রহস্যজনক ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর ছেলের নাম জড়িয়ে এবং মিথ্যা মারধরের অভিযোগ তুলে দুর্জয়বাবু বিষয়টি অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছেন বলে সুভাষবাবু দাবি করেন।
দুর্জয়বাবুর বক্তব্য, ‘‘চলতি বছরের জুনে কলেজের দায়িত্বে আসি। সে সময় গভর্নিং বডির সভাপতি বিপ্লববাবুর অনুমতি নিয়ে কাজ করেছি। কোনও অনিয়ম হয়নি। গোটা কলেজ ভবন রং হয়েছে। কাজ না করে খরচ দেখানো হয়নি।’’ পূর্তমন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, ‘‘কলেজের দায়িত্বে যারা আছেন, তাঁদেরে সমস্যা মেটাতে পদক্ষেপ করতে হবে।’’ কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল জেলা সভাপতি বিপ্লববাবু বলেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। ছাত্রদের সঙ্গে অহেতুক বিবাদে না জড়িয়ে কলেজে সুষ্ঠু পঠনপাঠনের দিকে নজর দিতে বলেছি। বৃহস্পতিবারের ঘটনা ভুলতে চেয়ে তিনি কয়েকদিনের জন্য ছুটিতে গিয়েছেন।’’