পরিদর্শনে মন্ত্রী। —নিজস্ব চিত্র।
স্নাতক স্তরে জঙ্গল নিয়ে পড়ার জন্য কলেজ খুলতে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ওই কলেজ গড়ে তোলা হবে। সোমবার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে গরুমারা জঙ্গল লাগোয়া ময়নাগুড়ির রামসাই এলাকায় কলেজের জন্য জমি ঘুরে দেখেন বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন। প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে কলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বনমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যে জঙ্গল নিয়ে পড়াশোনার কলেজ নেই। ডিগ্রির জন্য ভিন রাজ্যে যেতে হয়। ওই অভাব পূরনের জন্য উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জমি চিহ্নিত করা হল। কলেজের পাশাপাশি সেখানে গবেষণা কেন্দ্র এবং বিরল প্রজাতির গাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।” এদিন বনমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দেবাশিস মজুমদার। তিনি জানান, স্নাতক স্তরে জঙ্গল নিয়ে পড়ার জন্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা আছেন। ওই কলেজকে ঘিরে বিরাট কর্মযজ্ঞের সূচনা হবে। সমবায় গঠন করে গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা রূপায়ণের সুযোগ রয়েছে। উপাচার্য চিহ্নিত জমি ঘুরে দেখার পরে এলাকার বাসিন্দাদের সামনে প্রকল্পের প্রাথমিক রূপরেখা তুলে ধরে পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানান।
বনমন্ত্রী এদিন সকালে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে রামসাই রাইনো ক্যাম্পে পোঁছে যান। সেখানে ভুমি ও রাজস্ব দফতরের অধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে জমি চিহ্নিত করেন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তারা বনমন্ত্রীকে জানান, জঙ্গল নিয়ে পড়ার জন্য কলেজ তৈরি করতে এক সঙ্গে প্রচুর জমি প্রয়োজন। জমি পাওয়া গেলে সমতলের অর্কিড ও ভেষজ গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং বিলুপ্তপ্রায় গাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। গরুমারা জঙ্গল লাগোয়া হওয়ায় রামসাই ওই কলেজ তৈরির আদর্শ জায়গা। এর পরেই বনমন্ত্রী জানান, জমির সমস্যা হবে না। জঙ্গল লাগোয়া জলঢাকা নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রচুর খাস জমি ফাঁকা পড়ে আছে। কলেজ তৈরির জন্য প্রাথমিকভাবে সেখান থেকে ৫০ হেক্টর জমি দেওয়া হবে। ভূমি ও রাজস্ব দফতরের কর্তাদের তিনি দ্রুত জমির নকসা তৈরি করে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বনমন্ত্রী বলেন, “দফতরের অফিসারদের সঙ্গে কলেজ তৈরির বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তা এবং দফতরের অফিসারদের নিয়ে ফের আলোচনায় বসে প্রকল্প তৈরি করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।”
স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী জেনেন, ইতিমধ্যে রামসাই কৃষি গবেষণা কেন্দ্র চত্বরে ‘পশুপালন বিষয়ক শিক্ষা কলেজ’ তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পূর্ত দফতরের তরফে জমি জরিপের কাজ চলছে। জঙ্গল নিয়ে পড়াশোনার জন্য আরও একটি কলেজ তৈরি হলে রামসাইর পরিচিতি পাল্টে যাবে। ‘এডুকেশন হাব’ গড়ে উঠবে। বনমন্ত্রী এদিন প্রজাপতি উদ্যান ঘুরে দেখেন। সেখানে ফুল গাছ রোপণ করে দুটি প্রজাপতি ছাড়েন। তিনি জানান, ২০১৩ সালে তৈরি ওই উদ্যানে ১৩টি প্রজাতির প্রজাপতি রয়েছে। ক্রমশ সংখ্যা বাড়ছে। উদ্যান ঘুরে দেখার সময় বনমন্ত্রীকে হাতের কাছে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা রামসাই এলাকায় পথবাতি, পুলিশ আউট পোস্ট, জঙ্গল ভ্রমণের জন্য টিকিট বুকিং কাউনটার গড়ে তোলার দাবি জানান।