অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরের দু’দিন তোলাবাজি এবং মারধরে অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুলিশ দাবি করেছিল। পুলিশের দাবি অনুযায়ী ‘ফেরার’ সেই তৃণমূল কর্মী মালদহ আদালতে আত্মসমর্পণ করে দাবি করলেন, গত দু’দিন তিনি বাড়িতেই ছিলেন।
মালদহ হাসপাতাল চত্বরে রোগীর আত্মীয়ের থেকে তোলা দাবি করে, না পেয়ে মারধর করার ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী মধু ঘোষ গত শনিবার বাড়ি থেকে হেঁটেই আদালতে পৌঁছেছিলেন। তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে থাকার দাবি করায় বিরোধীদের অভিযোগ, পুলিশ সব জানলেও শাসক দলের কর্মী বলেই মধু ঘোষকে গ্রেফতার করেনি। এই ঘটনার পরে মালদহে সাম্প্রতিক অতীতের বুলেট-কাণ্ডের কথা তুলে এনে পুলিশকে বিঁধেছেন বিরোধীরা।
মাসখানেক আগে বিদ্যুত্ দফতরে ঢুকে সরকারি আধিকারিকদের হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছিল যুব তৃণমূল নেতা বিশ্বজিত্ রায় ওরফে বুলেটের বিরুদ্ধে। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরে তাঁকেও পুলিশ খুঁজে পাচ্ছিল না বলে দাবি করে। তিনদিন পরে নিজেই দলবল নিয়ে ইংরেজবাজার থানায় আত্মসমর্পণ করেন বুলেট। এই দুই ঘটনাই শাসক দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি পুলিশের পক্ষপাতিত্বের নমুনা বলে অভিযোগ করেছে বিরোধী দলের নেতারা। শনিবারই মধু ঘোষ এবং তাঁর দাদা শ্যাম দু’জনে আদালতে আত্মসর্মপণ করেন। বিচারকের নির্দেশে দু’জনেরই জামিন মঞ্জুর হয়। ৩১ ডিসেম্বর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের জন্য মালদহ মেডিক্যাল চত্বরে রোগীর আত্মীয়দের থেকে মদ্যপানের জন্য টাকা চেয়ে মারধরের অভিযোগ উঠে তৃণমূল কর্মী মধু ও তার দাদা শ্যাম ঘোষের বিরুদ্ধে। পরদিনই থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। আহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানায়। সরকারি আইনজীবী জয়ন্ত মজুমদার জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য ধারায় মামলা থাকায় বিচারক জামিনে আপত্তি করেননি। তাঁদের বিরুদ্ধে ৩২৫ ধারায় মারধর, ৩২১ ধারায় গতি রোধ করা এবং ৫০৬ ধারায় হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ছিল। অভিযুক্তরা নিজেরাই বাড়িতে থাকার দাবি করলে, পুলিশ তাঁদের কেন খুঁজে পেল না এই প্রসঙ্গে মালদহের পুলিশ সুপার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করব না। অভিযুক্তদের খোঁজে প্রথম থেকেই তল্লাশি চলছিল।”
আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোয় অভিযুক্তেরা তাঁদের হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ ইংরেজবাজারের কৃষ্ণপল্লির বাসিন্দাদের। রবিবার তাঁরা মধুর নামে থানায় এসে গণস্বাক্ষর করে স্মারকলিপি দিয়েছেন। অভিযোগ, বুধবার রাতে হাসপাতাল থেকে মাকে ভর্তি করে বাড়ি ফেরার পথে মর্গের সামনে মধু ও শ্যাম দলবল নিয়ে নির্মল সরকার, সুজিত্ মণ্ডল এবং রঞ্জিত দত্তের পথ আটকায়। যদিও এই অভিযোগ মধু অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমাকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। দোষ করিনি বলেই বাড়িতে ছিলাম। আইনি পথেই লড়ব।”
জেলায় নানা ঘটনায় শাসকদের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও, পুলিশ তত্পর নয় বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। জেলা কংগ্রেসের সাধারন সম্পাদক নরেন্দ্র নাথ তিওয়ারি বলেন, “বুলেটের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছিলাম পুলিশ তাঁকে খুজে পাচ্ছে না। হাসপাতাল চত্বরে টাকা চেয়ে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তকেও পুলিশ ধরতে পারল না। এদিকে তারা এসে কখনও থানায়, কখনও আদালতে আত্মসমর্পণ করছে। এখানে পুলিশের ভুমিকা স্পষ্ট।” সিপিএমের জেলা সম্পাদক অম্বর মিত্র বলেন, “শাসক দলের নেতা কর্মীরা অভিযুক্ত হলে পুলিশ তাদের খুঁজে পায় না। এটা রাজ্যের মতো এই জেলাতেও হচ্ছে।” তৃণমূলের জেলা সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “পুলিশ নিজেদের কাজ করছে। এখানে পক্ষপাতিত্বের কোনও বিষয় নেই।”