লাঠিপেটার প্রতিবাদ মহিলাদের। রবিবার নারায়ণ দে-র তোলা ছবি।
পুরুষ বনকর্মীদের বিরুদ্ধে লাঠিপেটা করার অভিযোগ তুলে বিট অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন মহিলারা। রবিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের নিমতি বিট অফিসে। ওই মহিলাদের অভিযোগ, “এদিন জঙ্গলে শুকনো কাঠ কুড়োতে ঢুকলে বনকর্মীরা তাঁদের তাড়া করে লাঠিপেটা করে।” দুপুর দেড়টা থেকে সাড়ে তিনটে পর্যন্ত চলে বিক্ষোভ। নিমতির রেঞ্জ অফিসার রতন রাই বলেন, “প্রায়দিনই নিমতি এলাকার কিছু মহিলা জঙ্গলে দল বেঁধে ঢুকে ছোট ছোট গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এদিন বনকর্মীরা বাধা দিলে বচসা হয়। ঘটনার জেরে মহিলারা বিট অফিসে বিক্ষোভ দেখায়। কাউকে মারা হয়নি। জঙ্গলে ঢুকে কাঠ কাটা বেআইনি তা তাদের বোঝানো হয়েছে।”
বন দফতর এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার বহু মহিলা দল বেধে জঙ্গলে ঢুকে জ্বালানী কাঠ সংগ্রহ করেন। তাঁরা প্রায়ই ছোট গাছ কেটে জঙ্গলে ফেলে রাখেন। কিছুদিন পর সেই গাছগুলি শুকিয়ে গেলে তা জ্বালানী হিসেবে নিয়ে আসেন। এদিন তাই হচ্ছিল। বনকর্মীদের গেলেই মহিলারা কাঠ ফেলে পালায়। এদিন নিমতি ১ নম্বর কম্পার্টমেন্টে চারজন বনকর্মী টহল দিতে গিয়ে দেখেন প্রায় জনা ৫০ মহিলা এলাকায় গাছ কাটছে। ওই বনকর্মীরা বাধা দিতে গেলে মহিলারা তাঁদের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। বনকর্মীদের পাল্টা দাবি, মহিলাদের কাছ থেকে হাত করাত, দা বাজেয়াপ্ত করা হয়। তা ছাড়ানোর জন্যই মূলত বিক্ষোভ হয়।
বন কর্মীদের অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন গাবুরবস্তির বাসিন্দা রুপি গাবুর, রানু গাবুর, বিষমণি ওরাঁও-এক মত মহিলারা। তাঁদের দাবি, বাড়ির জ্বালানী সংগ্রহের জন্য জঙ্গলে গেলে চারজন বনকর্মী সেখানে যান। হঠাৎ বনকর্মীরা মহিলাদের লাঠিপেটা করতে থাকেন। অনেকে ভয়ে পালাতে গিয়ে মাটিতে পড়ে জখম হন। মহিলাদের গায়ে গাত দেওয়ার প্রতিবাদে বিট অফিসে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা বুড়ি নার্জিনারি জানান, এলাকায় প্রায় রাতে হাতির হানায় ধান ভুট্টা নষ্ট হয়। বাধ্য হয়ে ঘরের জ্বালানী সংগ্রহের জন্য মহিলাদের জঙ্গলে যেতে হয়। বন কর্মীরা এমন করলে তো না খেয়ে মরতে হবে।