West Bengal Assembly Election 2026

ভোট প্রস্তুতি নিয়ে আজ বৈঠকে নির্বাচন সদন

প্রথমার্ধে জেলা প্রশাসন এবং রাজ্যের পুলিশ-কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক সেরে ফেলার কথা কমিশনের। তখন আইনশৃঙ্খলা, ভোটকেন্দ্র তৈরি-সহ সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে কথা হবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ ০৯:২৮
Share:

জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ফাইল চিত্র।

কথা ছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কর্তারা রাজ্যে এসে ভোট-প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন। রবিবার সেই সফর নির্ধারিত থাকলেও, তা পিছিয়ে গিয়েছিল। নতুন সূচিতে আজ, সোমবার কমিশন-কর্তারা ভার্চুয়াল মাধ্যমে জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ-কর্তাদের সঙ্গে ওই বৈঠক করবেন। বৈঠকে থাকবেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরের কর্তা-আধিকারিকেরাও। অন্য দিকে, শনিবার প্রকাশিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। যাঁরা যোগ্য ভোটার হওয়া সত্ত্বেও বাদ পড়েছেন, কমিশনের আগের ঘোষণা মতো, পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে তাঁরা ফের তালিকাভুক্ত হতে আবেদন জানাতে পারবেন।

ভোটের কাজে জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, আইজি, ডিআইজি, পুলিশ সুপার বা কমিশনার, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কো-অর্ডিনেটর, রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করাই রীতি কমিশনের। ভোট ঘোষণার আগে এমন কয়েকটি বৈঠক হয়ে থাকে। সেই মতো আজ, সোমবার সকাল থেকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে। এখনও পর্যন্ত ঠিক রয়েছে সিনিয়র উপ-নির্বাচন কমিশনার, উপ-নির্বাচন কমিশনার-সহ কমিশনের অন্য কর্তারা প্রস্তুতির প্রাথমিক বিষয়গুলি খতিয়ে দেখবেন। তার পরে রাজ্যে এসে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার-সহ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের বৈঠক করার কথা। রীতি অনুযায়ী, সেই সফরের পরেই ভোট ঘোষণা হয়। তবে এ দিনের ভার্চুয়াল বৈঠকে কমিশনের ফুল-বেঞ্চ থাকবে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে। শেষ পর্যন্ত ফুল বেঞ্চ-সহ কমিশনের বাকি কর্তারা বৈঠকে থাকলে, তা অবশ্য পৃথক গুরুত্ব বহন করবে। বৈঠকে উপস্থাপনার জন্য প্রত্যেক জেলা প্রশাসনকে তাদের প্রস্তুতির সবিস্তার তথ্য তৈরি রাখতে হবে।

প্রথমার্ধে জেলা প্রশাসন এবং রাজ্যের পুলিশ-কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক সেরে ফেলার কথা কমিশনের। তখন আইনশৃঙ্খলা, ভোটকেন্দ্র তৈরি-সহ সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে কথা হবে। দ্বিতীয়ার্থে শুধুমাত্র পুলিশের সঙ্গে বৈঠক হবে কমিশনের। সেখানে আইনশৃঙ্খলা, জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর, ভোটে গোলমাল পাকাতে পারে, এমন দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করা, অবৈধ অস্ত্র-বিস্ফোরক উদ্ধার ইত্যাদি নিয়ে কথা হবে। পরের পর্বে রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কো-অর্ডিনেটরের সঙ্গে পৃথক ভাবে কথা বলবে কমিশন। সব শেষে কেন্দ্র-রাজ্যের সব ‘এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির’ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে দিল্লির নির্বাচন সদন। সেখানেও অবৈধ মদ-মাদক-অর্থ উদ্ধার নিয়ে আলোচনা হবে। রাজ্যের সীমানা এবং সীমান্ত সুরক্ষা নিয়েও কথা হবে প্রত্যেকের সঙ্গে। প্রসঙ্গত, রবিবার সিইও দফতরের কর্তারা বৈঠক করেন ইন্টারনেট সংযোগকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে। রাজ্যের সর্বত্র ইন্টারনেট পরিষেবা ভোটের সময় যথাযথ রাখতে এই বৈঠক বলে খবর।

শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তাতে ৬৩ লক্ষের কিছু বেশি নাম বাদ গিয়েছে। আরও প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের বিচারাধীন রয়েছে তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির আওতায়। সে দিনই কমিশন জানিয়েছিল, যোগ্য কারও নাম বাদ গিয়ে থাকলে, সেই ভোটার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে কমিশনের দ্বারস্থ হতে পারবেন উপযুক্ত নথি-প্রমাণ-সহ। প্রথমে আবেদন করতে হবে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা জেলাশাসকের কাছে। সেখানে কাজ না হলে আবেদন করা যাবে সরাসরি সিইও-র কাছে। আবেদনের যৌক্তিকতা এবং কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের বিধিসম্মত নথি থাকলে ভোটের মনোনয়নের আগেই আবেদনকারীর নাম তালিকাভুক্ত হবে। এসআইআরকে মাথায় রেখে আবেদনের পৃথক কোনও বয়ান কমিশন তৈরি করবে কি না, তা এ দিন পর্যন্ত জেলাশাসকেরা জানেন না। তাই পুরনো রীতি অনুযায়ী লিখিত আবেদনই নেওয়া হবে বলে তাঁদের বক্তব্য। মনোনয়ন শেষ হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত সাধারণত অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের সুযোগ থাকে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন