সচেতনতার পাঠ এ বার পুলিশগাড়ির চালকদের

পরপর দু’দিন পুলিশেরই গাড়ি-দুর্ঘটনায় তিন পুলিশকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং তিন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। ওই সব গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করবে কে?

Advertisement

সোমনাথ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০১৮ ০৩:৪৮
Share:

ফাইল চিত্র।

যান-শাসনের সূত্রে অন্যান্য গাড়ির চালকদের শায়েস্তা করার দায়িত্ব পুলিশের হাতে। অথচ পরপর দু’দিন পুলিশেরই গাড়ি-দুর্ঘটনায় তিন পুলিশকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং তিন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। ওই সব গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করবে কে?

Advertisement

নিজেদের গাড়ির ওই দু’টি দু্র্ঘটনার পরে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য পুলিশ। কেন পরপর দু’দিন পুলিশের গাড়িতে দুর্ঘটনা ঘটল, তার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের গাড়িচালকদের জন্য এক গুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি (প্রশাসন) পি নীরজনয়ন। ওই চালকদের সচেতন করতে প্রচারে নেমেছেন কর্তারা। পুলিশের গাড়ির স্বাস্থ্য ঠিক আছে কি না, তা দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ডিএসপি পদমর্যাদার অফিসারকে।

রাজ্য পুলিশের এডিজি (ট্রাফিক) বিবেক সহায় জানান, ৫ জুলাই বহরমপুরের দিক থেকে কলকাতায় আসার পথে পুলিশের একটি গাড়ির সঙ্গে চাকদহে ম্যাক্সিট্যাক্সির ধাক্কা লাগে। তিন পুলিশকর্মী জখম হন। ৬ জুলাই দিনাজপুর থেকে কলকাতার পথে নদিয়ার কাশীপুরে পুলিশের গাড়ির সঙ্গে অন্য গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তিন পুলিশকর্মী মারা যান। তার পরেই সব জেলায় পুলিশ ব্যারাকে চালকদের সচেতন ভাবে গাড়ি চালানোর পাঠ দেওয়া হচ্ছে।

Advertisement

দীর্ঘ ডিউটিতে চালকেরা ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন, মনোযোগ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তার জন্য দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন পুলিশকর্তারা। ১০ জুলাই নীরজনয়নের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে:

• দুর্ঘটনা মূলত হচ্ছে বেশি রাতে এবং ভোরের দিকে। তাই জরুরি কাজ ছাড়া রাতে বা ভোরে পুলিশের গাড়ি যতটা কম ব্যবহার করা যায়, তার উপরে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। • তল্লাশি, টহল এবং জরুরি কাজ ছাড়া কোনও পুলিশের গাড়ি বা পুলিশের ভাড়াগাড়ি ব্যবহার করা যাবে না। যদি ব্যবহার করতে হয়, এসপি, সিপি এবং কম্যান্ডান্টদের অনুমতি নিতে হবে। • নির্দিষ্ট কোনও জায়গায় যেতে হলে আগে থেকে পরিকল্পনা করে দিনের বেলায় ট্রেনে যেতে হবে। জেলার বাইরে গাড়ি নিয়ে যেতে হলে এসপি বা সিপি-র অনুমতি নিতে হবে। • যথেষ্ট বিশ্রামের সময় দিতে হবে চালকদের। • দূরে যেতে হলে পরিকল্পনা করে হাতে সময় নিয়ে বেরোতে হবে। • গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। চাকা ঠিক আছে কি না, গাড়ির কোনও মেরামতি দরকার কি না, দেখে নিতে হবে সবই। রিসোল টায়ার সামনের চাকায় লাগানো যাবে না।

এ ছাড়া পুলিশ ব্যারাকেও ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’-এর প্রচার চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে নজরদারির দায়িত্ব পুলিশের সিনিয়র অফিসারদের। ভাড়া করার আগে গাড়ির অবস্থা কেমন, তা দেখতে হবে ডিএসপি পদমর্যাদার অফিসারদের। খারাপ হলে ফেরত দিতে হবে। ভাড়াগাড়ির চালক দ্রুত গাড়ি চালালে মালিককে জানিয়ে চালক বদলে নিতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় চালক এবং চালকের পাশে বসা ব্যক্তির মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতে হবে। চালকের পাশে যিনি বসবেন, তাঁকেও সব সময় সজাগ থাকতে হবে। ঘুম পেলে বিশ্রাম নেবেন। প্রতি সোমবার ভাল ভাবে গাড়ি পরীক্ষা করতে হবে এসপি এবং সিপি-দের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement