পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের প্রতিবাদে শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকে মিছিল। কলকাতায়। — নিজস্ব চিত্র।
শিয়ালদহ, হাওড়া, দমদম, উত্তরপাড়া— বিভিন্ন স্টেশনে ‘অবৈধ’ হকার উচ্ছেদের ক্ষেত্রে রেলের অভিযানের তালিকা যখন ক্রমে দীর্ঘ হচ্ছে, তখন বাম-সহ বিরোধী শ্রমিক সংগঠনগুলির পথের প্রতিবাদের ঝাঁঝও বাড়ছে। কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকে সোমবার এন্টালি মার্কেট থেকে শিয়ালদহ স্টেশন পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল ও সভায় প্রত্যেকের নিশানাতেই ছিল, ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। পক্ষান্তরে, হকারেরা কী ভাবে সংশ্লিষ্ট জায়গায় বসলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেও ‘বিকল্প ব্যবস্থা’র কথা বলছে শাসক দল বিজেপি।
কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকে প্রতিবাদ মিছিলে ছিলেন সিটু, এআইসিসিটিইউ, আইএনটিইউসি, এআইটিইউসি, ইউটিইউসি, এআইইউটিইউসি নেতৃত্ব। সভা থেকে বক্তারা ‘বুলডোজ়ার-রাজে’র অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধ করার দাবিও তুলেছেন তাঁরা। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেছেন, “গরিব মানুষের ভোটে জিতে এখন তাঁদের দায়িত্ব নিতে চাইছে না সরকার। বৈধ ও অবৈধ হকার বলতে কী বোঝায়? বড়লোক হকার চলবে আর ২০ টাকার হকার চলবে না? সরকার সৎ পথে রুটি-রুজির ব্যবস্থা করুক। তা না-করে তাঁদের তুলে দেওয়ার অর্থ, এই সরকার গরিবের সরকার নয়।”
এই প্রেক্ষিতে আইনজীবী তথা ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী পাল্টা বলছেন, “যাঁরা টাকা নিয়ে অবৈধ ভাবে হকার বসিয়েছিলেন, এই দায় (উচ্ছেদের) তাঁদের নিতে হবে। আমরা মানুষের পেটে লাথি মারতে চাই না। কিন্তু যাত্রী-স্বাচ্ছন্দ্যের কথাও ভাবতে হবে। আমার নিজের বিধানসভা এলাকায় ‘বিকল্প পথ’ কী, তা নিয়ে হকারদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এই সরকার মানবিক। কেউ কেউ ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করছেন।”
উচ্ছেদের প্রতিবাদে সে ভাবে পথে দেখা যায়নি তৃণমূল কংগ্রেসকে। তবে দলীয় ভাবে বলা হয়েছে, ‘বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন মডেল’— ধনীদের জন্য আরাম ও ব্যবসা, আর গরিবদের জন্য কষ্ট ও বেদনা।’ মুর্শিদাবাদ-সহ নানা প্রান্তের হকারদের পরিস্থিতির কথা জানিয়ে এবং তাঁদের পুনর্বাসনের দাবি তুলে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে লিখিত আর্জি জানিয়েছেন কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ রাজ্য হওয়ায় মুর্শিদাবাদ-সহ পশ্চিমবঙ্গে রেল-সম্পত্তির মতো জনবহুল স্থানে হকারি গুরুত্বপূর্ণ পেশা। তাই বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা না-করে রেলের জমি থেকে জোর করে হকার উচ্ছেদ করা অনৈতিক।’ রেলমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে লিখিত আবেদন জানিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ‘ভেন্ডিং জ়োন’ তৈরি, হকারদের পরিচয়পত্র দেওয়া, পুনর্বাসন, উপযুক্ত সমীক্ষা করার মতো নানা দাবি তুলেছেন।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে