মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।
পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠনের পর সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও সহজে পৌঁছে দিতে নতুন উদ্যোগ। শুরু হতে চলেছে ‘জন কল্যাণ শিবির’ কর্মসূচি। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই শিবিরের আয়োজন করা হবে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আবেদন গ্রহণের কাজ একছাতার তলায় সম্পন্ন করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচির ধাঁচেই এই শিবিরগুলিতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন সাধারণ মানুষ। যাঁরা এখনও বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা, আর্থিক সহায়তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা বা কৃষি সংক্রান্ত প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেননি, তাঁরা সরাসরি শিবিরে গিয়ে আবেদন জানাতে পারবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য ও পরামর্শ দেওয়া হবে।
রাজ্য প্রশাসনের মতে, বহু ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। সেই সমস্যা দূর করতে জেলা ও ব্লক স্তরে বিশেষ শিবির আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিবিরগুলিতে বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন, যাতে আবেদন গ্রহণ ও প্রাথমিক যাচাইয়ের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সিনিয়র আইএএস আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সরাসরি মাঠে নেমে শিবিরগুলির প্রস্তুতি এবং পরিচালনার কাজ পর্যবেক্ষণ করবেন। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ১৪ জুন সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে গিয়ে প্রস্তুতির অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা। শিবিরের পরিকাঠামো, জনসচেতনতা প্রচার, আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সমন্বয় ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ ছাড়া ১৫ ও ১৬ জুন সর্বাধিক সংখ্যক শিবির পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনিক কর্তাদের। প্রয়োজন হলে ১৭ জুনও পরিদর্শন চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। শিবিরে আসা সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা, আবেদন গ্রহণের গতি এবং পরিষেবা প্রদানের মানও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে। নতুন রাজ্য সরকারের আশা, এই ‘জন কল্যাণ শিবির’ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ আরও দৃঢ় হবে। একই সঙ্গে সরকারি প্রকল্পগুলির আওতা বৃদ্ধি এবং উপভোক্তাদের সংখ্যা বাড়াতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে প্রশাসন।