Struggle

টোটোর চাকায় জীবন সংগ্রামের গল্প

ঝালদার ইলু-জারগো পঞ্চায়েতের ছোট্ট গ্রাম উদয়সীরু। সেখানেই ঠাকুমা, বাবা-মা ও ভাইকে নিয়ে ইন্দিরার পাঁচ জনেরসংসার।

দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় 

শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৮:১১
Share:

চালকের আসনে ইন্দিরা। — নিজস্ব চিত্র।

দুর্ঘটনা কেড়েছে একটি পা। পরিবারের আর্থিক অবস্থা নিশ্চিন্ত জীবনের ভরসা দিতে পারেনি। সম্বল বলতে মনের জোরটুকু। তাতে ভর করেই লড়ে চলেছেন বছর ২৭-এর ইন্দিরা মাহাতো। টোটো নিয়ে পেরিয়ে চলেছেন কাঁটায় ভরা জীবন-পথ। ঝালদার এই কন্যার হার না মানা লড়াই অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে তাঁর মতো আরও অনেককে।

ঝালদার ইলু-জারগো পঞ্চায়েতের ছোট্ট গ্রাম উদয়সীরু। সেখানেই ঠাকুমা, বাবা-মা ও ভাইকে নিয়ে ইন্দিরার পাঁচ জনের সংসার। সাজানো সংসারে সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল। তবে বছর ১২ আগে হঠাৎ এক দিন সব ওলট-পালট হয়ে যায়। ট্রেন দুর্ঘটনায় ইন্দিরার একটি পা কাটা পড়ে। ইতি পড়ে পড়াশোনাতেও। ঘরের এক কোণে পড়ে থেকেই হয়তো ইন্দিরা ফুরিয়ে যেতেন এক দিন। তবে মাস তিনেক আগে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দেওয়া একটি টোটো তাঁকে বাঁচার নতুন দিশা দেখায়।

ইন্দিরার কথায়, “বাবা অসুস্থ। রুজির টানে ভাইও বাইরে থাকে। এ ভাবে তো সংসার চলে না। টোটোটা পেয়ে নতুন দিশা খুঁজে পাই। মাথায় জেদ চাপে, কিছু একটা করতেই হবে।” তাঁর মা কল্পনা জানান, নুইয়ে পড়া সংসারটার ভরসা এখন ইন্দিরাই। তিনি বলেন, “সামান্য জমি-জমা থাকলেও অসুস্থতার জন্য স্বামী আর কাজ করতে পারেন না। মাঝে খুব সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। কিন্তু দুর্দিন কেটেছে।”

ভোরের আলো ফুটতেই বেরিয়ে পড়েন ইন্দিরা। দুপুরে ক্ষণিকের বিশ্রাম। তার পরে আবার যাত্রা শুরু। হাঁপিয়ে ওঠেন না কখনও? প্রশ্ন শুনে ইন্দিরা বলেন, “কাজের মধ্যে ভাল থাকি। তখন মনেই থাকে না যে আমার মধ্যে কোনও খামতি আছে।”

তরুণীর লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বাঘমুণ্ডির বিধায়ক বিজেপির রহিদাস মাহাতো। তাঁর কথায়, “মনের জোর না থাকলে এ ভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায় না।পাশে আছি।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন