Birbhum Candidates

নতুন নাকি পুরনো, নজর চার আসনে

জেলায় তৃণমূলের একমাত্র হেরে যাওয়া বিধানসভা আসন দুবরাজপুরে, কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে কৌতূহল সবচেয়ে বেশি।

দয়াল সেনগুপ্ত 

শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৭
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে খুব বেশি দেরি নেই। তার আগে বীরভূমের ১১টি আসনে শাসকদলের প্রার্থী কারা হচ্ছেন, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। কোন আসনে পুরনো আর কোন আসনে নতুন মুখ, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। রাজ্য নেতৃত্বের দিক থেকেও খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। বিধানসভা আসন ধরে একাধিক নাম নিয়ে পর্যালোচনা ও রিপোর্ট নেওয়ার কাজ চালাচ্ছেন দলের পরামর্শদাতা সংস্থার কর্মীরা বলেও তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে।

বোলপুর, রামপুরহাট, লাভপুর, নানুর, মুরারই, সাঁইথিয়া, নলহাটির মতো আসনগুলিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলেই জেলা তৃণমূলের অন্দরে চর্চা। সবচেয়ে বেশি চর্চিত আসনগুলির মধ্যে রয়েছে দুবরাজপুর, সিউড়ি, ময়ূরেশ্বর ও হাঁসন। এই চর্চা কেন, তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে দলের অন্দরে কান পাতলে।

জেলায় তৃণমূলের একমাত্র হেরে যাওয়া বিধানসভা আসন দুবরাজপুরে, কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে কৌতূহল সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে দুবরাজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক নরেশচন্দ্র বাউড়ি এবং ২০২১ সালের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী দেবব্রত সাহার নাম ঘোরাফেরা করেছে। দল সূত্রের খবর, গত বার ভোটে হারলেও দেবব্রতের উপরে আস্থা রয়েছে জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত (কেষ্ট) মণ্ডলের। কেষ্টর কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে। কোর কমিটির আর এক সদস্য সুদীপ্ত ঘোষেরও আস্থাভাজন দেবব্রত।

অন্য দিকে, নরেশের সঙ্গে কোর কমিটির সদস্য তথা জেলা সভাধিপতি কাজল শেখের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে চর্চা আছে। দলের সর্বোচ্চ স্তর থেকে তৃণমূলের এসসি-এসটি এবং ওবিসি সেলের জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নরেশকে। যেহেতেু দুবরাজপুরে দলের বিধায়ক নেই, তাই খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নরেশকে এই বিধানসভা দেখতে বলেছেন। তার পর থেকে নরেশ নানা কর্মসূচি করে চলেছেন।

সিউড়ি বিধানসভা আসন নিয়েও জল্পনা রয়েছে দলে। কোর কমিটির সদস্য তথা বর্তমান বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরীর জনসংযোগ যথেষ্ট ভাল। তার পরেও ওই কেন্দ্রের প্রার্থী হিসাবে একাধিক নতুন (৬টি নাম বলে তৃণমূল সূত্রের খবর) নাম নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। বরাবরই জেলা সদরে ‘ভূমিপুত্র’ কাউকে প্রার্থী করার দাবি রয়েছে। ‘ভূমিপুত্র’ প্রার্থীর দাবি সমাজমাধ্যমেও একাধিক বার তুলেছেন দলের একাংশ। তা ছাড়া, গ্রামীণ এলাকার ভোট শাসক দলের পক্ষে এলেও সিউড়ি শহরে তারা অনেক পিছিয়ে। ব্যতিক্রম পুর-নির্বাচন। যেহেতু সিউড়িতে জয়ের ব্যবধান কম এবং এসআইআরে বহু নাম বাদ গিয়েছে, তাই সিউড়ি শহর গুরুত্ব পাচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে। আর শহরের নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে বিকাশের সম্পর্ক মসৃণ নয় বলে দলের অন্দরে চর্চা রয়েছে।

তৃণমূল সূত্রের খবর, চর্চায় রয়েছে ময়ূরেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রও। ওই আসনে দু’দুবার জয়ী হলেও বিধায়ক অভিজিৎ রায় এলাকায় উন্নয়ন ও জনসংযোগের নিরিখে পিছিয়ে বলে কর্মীদের একাংশের দাবি। ফলে, ময়ূরেশ্বরে নতুন মুখ আসবে কি না, তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা আছে। অন্য দিকে, হাঁসন কেন্দ্রের বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বনিবনা নেই ব্লক নেতৃত্বের বড় অংশের বলে দল সূত্রের দাবি। একাধিক অনুষ্ঠানে ডাকও পান না বিধায়ক। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই এই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসাবে বেশ কয়েকটি নাম প্রস্তাব আকারে গিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে।

জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির এক সদস্য বলছেন, ‘‘সিদ্ধান্ত যা কিছু, দলের শীর্ষ স্তর থেকে আসবে। সেটাই মানতে হবে।’’ প্রার্থী নিয়ে চর্চার বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি জেলা তৃণমূলের চেয়ারপার্সন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু বলেছেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবার মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে। বীরভূমের ১১টি আসনেই জিততে হবে। প্রার্থী যিনিই হবেন, দলের হয়ে তাঁর জন্য খাটব। এর বেশি কিছু বলছি না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন