অনুসূয়া পাল। নিজস্ব চিত্র
আর্থিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে মাধ্যমিকে স্কুলের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে সাড়া ফেলেছে অনুসূয়া পাল।
লাভপুরের ব্রাহ্মণীগ্রামে অনুসূয়ার বাড়ি। সংসারের নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। বিঘে দু’য়েক জমির উপরে নির্ভর করে কোনও রকমে চলে পাঁচ সদস্যের সংসার। মেয়ের পড়াশোনার খরচের জন্য নিজের জমিটুকু চাষের পাশাপাশি দিনমজুরিও করতে হয় বাবা সুবোধ পালকে। ছোটবেলা থেকেই আর্থিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হয়েছে অনুসূয়াকে। কিন্তু অনমনীয় জেদই তাকে সব বাধাকে হারিয়ে সাফল্য এনে দিয়েছে। এ বারে স্থানীয় বিপ্রটিকুরি হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল সে। ৬০৪ নম্বর নিয়ে স্কুলে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ স্থান পেয়েছে সে।
স্বভাবতই স্কুল ও বাড়িতে বইছে এখন খুশির হাওয়া। মা মানসী পাল বলেন, ‘‘অর্থাভাবে দু’টির বেশি টিউশনি দিতে পারিনি। সময় মতো সব বইপত্র কিনে দিতে পারিনি। তা সত্ত্বেও ও এমন ফল করবে ভাবতে পারিনি।’’ স্কুলের প্রধানশিক্ষক প্রণব খাঁ বলেন, ‘‘দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে মেয়েটি আমাদের স্কুলের মুখ উজ্বল করছে। তাই স্কুলের পক্ষ থেকে ওকে পরবর্তী পড়ার ব্যাপারে সাহায্য করা হবে।’’
আর্টস নিয়ে পড়ে ভবিষ্যতে শিক্ষিকা হতে চায় অনুসূয়া। সে জানায়, ‘‘যারা আমার মতো প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা করবে তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই।’’
উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল সম্পর্কিত যাবতীয় আপডেট পেতে রেজিস্টার করুন এখানে