তাঁর অজান্তে তাঁর এটিএম কার্ড ব্যবহার করে কেউ ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে লোপাট করে দিয়েছিল দুই লক্ষ টাকা। হুড়া ব্লকের কেশরগড় গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সতীশ চন্দ্র চন্দ্র ঘটনার অভিযোগ জানিয়েছিলেন পুলিশের কাছে। তার পর বছর গড়িয়ে গেলেও পুলিশি তদন্তে কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় সেই মামলার কেস ডায়েরি তলব করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। ওই শিক্ষকের আইনজীবী সৌগত মিত্র জানিয়েছেন, সম্প্রতি মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক আগামী ২৫ জানুয়ারি পুলিশের কাছ থেকে মামলার কেস ডায়েরি তলব করেছেন।
কী ভাবে লোপাট হয়ে গিয়েছিল সতীশবাবুর টাকা? সৌগতবাবু জানান, তাঁর মক্কেল ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হুল্লুং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে অবসর নেন। অবসরকালীন প্রাপ্য একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের স্থানীয় শাখায় সতীশবাবুর অ্যাকাউন্টে ঢোকে। তার পরেই এই শিক্ষকের অ্যাকাউন্ট থেকে পর পর পাঁচ দিনে চল্লিশ হাজার টাকা করে মোট দুই লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয়। সতীশবাবু জানিয়েছেন, অবসরের এক বছর পরে অবসরকালীন প্রাপ্য তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকে। তার আগে ২০১৪ সালের এপ্রিলে ওই ব্যাঙ্কের ম্যানেজার তাঁকে এটিএম কার্ড করে দিয়েছিলেন। তবে, ডেবিট কার্ডের ব্যবহার করতে পারবেন না বলে তাঁর নিজের আশঙ্কা ছিল।
শেষ অবধি কিছুটা অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও তিনি কার্ডটি নিয়েছিলাম। কেশরগড়ের পরিচিত দু-তিন জনের সাহায্যে ওই বছর ৫ নভেম্বর তিনি হুড়ার এটিএম থেকে ১০ হাজার টাকাও তোলেন।
এই পর্যন্ত সব ঠিকঠাক থাকলেও সতীশবাবুর দাবি, দিন পাঁচেক পরে স্ত্রীর নামে থাকা মুদিখানার দোকানের লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করানোর জন্য কাগজপত্রের খোঁজ করতে গিয়ে তিনি দেখেন তাঁর ব্যাগে ডেবিট কার্ডটি নেই। তাঁর কথায়, ‘‘ব্যাঙ্কে গিয়ে জানতে পারি, আমি হুড়ার এটিএম থেকে যে দিন টাকা তুলেছিলাম, ঠিক তার পরের দিন (অর্থাৎ, ২০১৪ সালের ৬ নভেম্বর) থেকে পরপর পাঁচ দিনে ৪০ হাজার টাকা করে দুই লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে আমার সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে।’’ তিনি জানান, প্রথম বার টাকা উঠেছে হুড়ার এটিএম থেকেই। পরেরগুলি তোলা হয়েছে দুবরাজপুর, বার্নপুর, কুমারডুবি থেকে। শেষ দফার ৪০ হাজার টাকা উঠেছে কলকাতার একটি এটিএম থেকে। এর পরেই সতীশবাবু পুলিশের দ্বারস্থ হন। ১০ নভেম্বর হুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু, পুলিশি তদন্তে কোন অগ্রগতিই তাঁর চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ ওই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের।
তাঁর আইনজীবী সৌগতবাবু জানান, সতীশবাবু ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুরুলিয়ার জেলা পুলিশ সুপারের কাছে দ্রুত তদন্তের আবেদন জানান। তার পরেও কাজ না হওয়ায় ওই বছর এপ্রিলে হাইকোর্টে মামলা করেন। এ বছর ৫ জানুয়ারি বিচারপতি দেবাংশু বসাকের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়েছে। আইনজীবী বলেন, ‘‘আমার মক্কেলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ কোনও ব্যবস্থাই নিতে পারেনি। তাই বিচারক পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে ২৫ জানুয়ারি এই মামলার কেস ডায়েরি তলব করেছেন।’’
জেলা পুলিশ সুপার রূপেশ কুমার বলেন, ‘‘তদন্ত চলছে। একটি এটিএমের ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে। সেই ছবি থেকে স্পষ্ট নয়, কে এটিএম ব্যবহার করেছেন। হাইকোর্ট আমাদের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছে। সেই রিপোর্ট আমরা জমা দেব।’’ অন্য দিকে, সতীশবাবুর বক্তব্য, ‘‘আমি সন্দেহভাজন কয়েক জনের নাম পুলিশকে জানিয়েছি। কেননা প্রথম দিন টাকা তোলার সময় এক জন তো আমার পাশেই ছিলেন। পুলিশকে তদন্ত করে বের করতে হবে, কী ভাবে আমার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব হয়ে গেল।’’