গ্রাহককে বোকা বানিয়ে ফের এটিএম-প্রতারণা

ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞাপন দিয়ে, মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে বারবার গ্রাহকদের কাছে আবেদন করে, মোবাইলে অজ্ঞাতপরিচয় কাউকেই এটিএম বা অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কোনও তথ্য না জানাতে। তার পরেও ফাঁদে পা দিয়ে প্রতারণার শিকার হন অনেক গ্রাহকই।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০১৬ ০১:৩৫
Share:

ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞাপন দিয়ে, মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে বারবার গ্রাহকদের কাছে আবেদন করে, মোবাইলে অজ্ঞাতপরিচয় কাউকেই এটিএম বা অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কোনও তথ্য না জানাতে। তার পরেও ফাঁদে পা দিয়ে প্রতারণার শিকার হন অনেক গ্রাহকই।

Advertisement

সোমবার রাতে সে রকমই একটি ঘটনা ঘটেছে শান্তিনিকেতনে। মোবাইলে নিজেকে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অফিসার পরিচয় দিয়ে এক গ্রাহকের কাছ থেকে এটিএম-এর পিন নম্বর জেনে নিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় মঙ্গলবার বোলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন প্রতারিত ওই গ্রাহক। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, শান্তিনিকেতনের বাসিন্দা সুমন্ত বাগদি এলাকারই একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের গ্রাহক। অভিযোগ, মোবাইলে ফোন করে নিজেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের বোলপুর শাখার অফিসার পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তাঁর এটিএম কার্ডের পিন নম্বর জানতে চায়। সেই তথ্য জানানোর পরেই সুমন্তবাবুর আকাউন্ট থেকে ২৩ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয় বলে দাবি। এ দিন সুমন্তবাবু বলেন, ‘‘সোমবার রাতে আমার মোবাইলে ওই ফোনটি এসেছিল। আমাকে জানানো হয়, এটিএম কার্ডে সমস্যা রয়েছে। আকাউন্ট ও এটিএম যাতে ‘লক’ না হয়ে যায়, তা ঠেকাতে আমার কাছ থেকে পিন নম্বর জানতে চাওয়া হয়। আমি ওই ব্যক্তিকে পিন নম্বর দেওয়ার কিছু ক্ষণের মধ্যেই আমার আকাউন্ট থেকে ২৩ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়।’’ টাকা কেটে নেওয়ার এসএমএস-ও পেতেই তিনি তা বুঝতে পারেন। সকালে ব্যাঙ্কে এসে অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, আদতে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তার পরেই থানায় অভিযোগ জানান।

Advertisement

ঘটনা হল, মোবাইলে ফোন করে এটিএম কার্ডের পিন নম্বর জেনে নিয়ে টাকা হাতানোর অভিযোগ নতুন নয়। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অফিসার পরিচয় দিয়ে বোলপুর, শান্তিনিকেতন এলাকার একাধিক বাসিন্দা এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সাম্প্রতিক অতীতে, শান্তিনিকেতনের বাসিন্দা কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা, বোলপুরের বাসিন্দা এক পুলিশ অফিসার-সহ একাধিক ব্যক্তিকে ফোন করে একই ভাবে পিন নম্বর জেনে হাজার হাজার টাকা হাতানোর একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। তার পরেও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে দেখে গ্রাহকদের অসচেতনতাকেই দায়ী করছেন বিভিন্ন ব্যাঙ্কের আধিকারিকেরা। এ দিকে, এক ব্যাঙ্ক আধিকারিকের খেদ, ‘‘এটিএম বা অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কোনও তথ্য ফোনে না দেওয়ার জন্য গ্রাহকদের বিভিন্ন মাধ্যমে সচেতন করা হয়। তার পরেও গ্রাহকেরা এ বিষয়ে সচেতন হচ্ছেন না।’’ অন্য দিকে, পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, যে নম্বর থেকে সুদীপ্তবাবুর মোবাইলে ফোন এসেছিল, তা বিহারের। একটি বেসরকারি মোবাইল সংস্থার সিম কার্ড ব্যবহার করেছে প্রতারক। এ দিন দিনভর নম্বরটি বন্ধ করা থাকলেও সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটর সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই নম্বরটির গ্রাহকের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement