তারাপীঠ শ্মশান নিয়ে আরটিআই বিজেপি-র

উন্নয়নের নামে মন্দির ও শ্মশান চত্বরে প্রাচীন গাছ কেটে তারাপীঠকে কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলল বিজেপি। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করার দাবি তুলে আগামী ২৭ ডিসেম্বর তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের অফিসে বিক্ষোভ দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৬ ০১:২২
Share:

উন্নয়নের নামে মন্দির ও শ্মশান চত্বরে প্রাচীন গাছ কেটে তারাপীঠকে কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলল বিজেপি।

Advertisement

এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করার দাবি তুলে আগামী ২৭ ডিসেম্বর তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের অফিসে বিক্ষোভ দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। শুক্রবার আবার তারাপীঠ মন্দিরের উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে তথ্য জানার অধিকার আইনে (আরটিআই) এসডিও-র (রামপুরহাট) কাছে জবাব চেয়েছেন দলের অন্যতম জেলা সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস চৌধুরী। যদিও বিজেপি-র তোলা সমস্ত অভিযোগই ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন পর্ষদের সহকারী চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায়।

বিজেপি-র অভিযোগ, ওই শ্মশান উন্নয়নের নামে তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ ব্যবসা ফেঁদেছে। শ্মশানের বহু মূল্যবান প্রাচীন গাছ দেদারে কেটে ফেলা হয়েছে। সাধু-সন্ন্যাসীদের দীর্ঘ দিনের সমাধিস্থলও ভেঙে ফেলা হয়েছে। তারাপীঠ মন্দির কমিটির প্রাক্তন সভাপতি তথা চণ্ডীপুর প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক অশোক মুখোপাধ্যায়, তারাপীঠের বাসিন্দা পুলক চট্টোপাধ্যায়দেরও বক্তব্য, ‘‘তারাপীঠের উন্নয়ন আমরাও চাই। কিন্তু যে ভাবে তারাপীঠ শ্মশানকে ক্রমশ কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত করা হচ্ছে, তাতে শ্মশানের ঐতিহ্যটাই হারিয়ে যাচ্ছে।’’

Advertisement

এ দিকে শুভাশিসবাবু তাঁর আরটিআই-এ বেশ কয়েকটি তথ্য জানতে চেয়েছেন। এক, তারাপীঠ শ্মশানের জমিটি সেচ দফতরের থেকে নিয়ে তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদকে হস্তান্তরিত করা হয়েছে কিনা। দুই, সমাধিস্থল ভেঙে ফেলার ক্ষেত্রে সাধু-সন্ন্যাসীদের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা। তিন, গাছ কাটার ক্ষেত্রে বন দফতরের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা। চার, ক’টি গাছ কাটা হয়েছে এবং গাছ বিক্রি বাবদই বা কত টাকা মিলেছে।

শুভাশিসবাবুদের সমস্ত অভিযোগকেই ভ্রান্ত বলে দাবি করেছেন সুকুমারবাবু। উল্টে, তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে অকারণে বাজার গরম করার চেষ্টা করছে বিজেপি। তাঁর দাবি, ‘‘বিভিন্ন দোকানি ৩০ ফুট করে শ্মশানের জায়গা দখল করে রেখেছিল। তা দখলমুক্ত করে ২০ ফুট অংশ জনসাধারণের হাঁটাচলার জন্য এবং দমকল ঢোকার জন্য নেওয়া হয়েছে। বাকি ১০ ফুট অংশ ওই দোকানিদের দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোনও দামী গাছ কাটা হয়নি। শ্মশানের মধ্যে সমাধিস্থলও ভাঙা হয়নি।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement