Iran-Israel War

উৎকণ্ঠায় দেবজ্যোতি, উদ্বিগ্ন পরিবারও

দেবজ্যোতি জানান, ২০১৯ সালে কর্মসূত্রে সিউড়ি থেকে সৌদি আরবে আসেন তিনি। এখন তিনি সৌদির দাম্মাম শহরে থাকেন।

সৌরভ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ১০:১২
Share:

দেবজ্যোতি চক্রবর্তী। নিজস্ব চিত্র

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ জটিল হচ্ছে যুদ্ধের পরিস্থিতি। ইরানকে ঘিরে ইজ়রায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পশ্চিম এশিয়া জুড়েই উদ্বেগের আবহ। সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতের মতো দেশগুলিতেও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অর্থনৈতিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে সেখানে কর্মরত বহু ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় পরিবারগুলি। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন বীরভূমের সিউড়ি শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত সেহাড়াপাড়ার বাসিন্দা দেবজ্যোতি চক্রবর্তী। ভিন্‌ দেশে ছেলেকে নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁর পরিবার।

দেবজ্যোতি জানান, ২০১৯ সালে কর্মসূত্রে সিউড়ি থেকে সৌদি আরবে আসেন তিনি। এখন তিনি সৌদির দাম্মাম শহরে থাকেন। সেখানে সরাসরি যুদ্ধের আঁচ না লাগলেও আশেপাশের বেশ কিছু এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হয়েছে। তার উপর বন্ধ উড়ান পরিষেবা। ফলে যুদ্ধের আগুন সরাসরি না জ্বললেও তার আঁচে আতঙ্কিত দাম্মামবাসী।

দেবজ্যোতির বাড়ি থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে স্থানীয় সময় অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যায় রাস তানুরা এলাকায় একটি তেল শোধনাগারে হামলা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, এখনও পর্যন্ত জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলার খবর পাওয়া যায়নি। বেশির ভাগ আক্রমণই অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করেই হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তবুও পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। বিমান পরিষেবার অনিশ্চয়তায় আপাতত দেশে ফেরার সুযোগও নেই।

দেবজ্যোতির বলেন, “এখনও নিয়মিত অফিসে যাচ্ছি, এখানে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিকই, দোকানগুলিও খুলছে। সরকারি ভাবে এখনও কোনও সতর্কতাও জারি হয়নি। তবে বাড়ি থেকে এত দূরে আছি, এদিকে বিভিন্ন জায়গায় যুদ্ধের অগ্রগতির খবর শুনছি। ফলে একটা অস্বস্তি তো আছেই। সমাজ মাধ্যমে নানা বিভ্রান্তিকর ভিডিয়ো ছড়াচ্ছে, পরিবারকে আরও আতঙ্কিত করছে।” এই ভিডিয়োগুলির সত্যতা যাচাই না করে সেগুলি সমাজ মাধ্যমে না ছড়ানোর আবেদন জানান তিনি।

দেবজ্যোতির স্ত্রী সুপ্রীতি পাঠকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরবের নিয়মানুসারে কিছুদিন আগেই তিনি দেশে ফিরেছেন। তারপরেই এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির খবর আসে। তাঁর কথায়, “এই সময় ওঁর পাশে থাকতে পারলে হয়তো একটু স্বস্তি পেতাম।” বাবা প্রদীপ চক্রবর্তী ও মা পিয়ালী চক্রবর্তীর মতে, ছেলে যতই আশ্বস্ত করার চেষ্টা করুক, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বিদেশে থাকার খবর শুনলে ভয় কাজ করে। যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠুক ও তাঁদের ছেলে নিরাপদে থাকুক— সেই প্রার্থনাই করছেন দম্পতি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন