খাতড়া বাজার এলাকায় জলের পাত্র রেখে লাইন দেন বাসিন্দারা। নিজস্ব চিত্র ।
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু এখনও খাতড়া মহকুমা সদর শহরের সর্বত্র বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছোলো না। সামনে প্রখর গ্রীষ্মকাল। তাই এ বারও পানীয় জলের সঙ্কট কাটার সম্ভাবনা দেখছেন না তাঁরা।
খাতড়া মহকুমা জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের সহকারী বাস্তুকার সৌরভ সাহা বলেন, ‘‘বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে। তবে তহবিলের সমস্যার জন্য কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে।’’
খাতড়া মহকুমা সদর শহরের মধ্যে রয়েছে সমগ্র খাতড়া ১ পঞ্চায়েত এবং আংশিক ভাবে খাতড়া ২ পঞ্চায়েত ও সুপুর পঞ্চায়েত। ওই এলাকার জনসংখ্যা প্রায় কুড়ি হাজার। পোদ্দারপাড়া, রাজাপাড়া, শ্রীপল্লি, সুভাষপল্লি, ঢালাই রোড, পাঁপড়া-সহ অধিকাংশ এলাকায় এখনও বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের কল বসেনি বলে অভিযোগ।কোথাও পাইপলাইন বসানো হলেও বাড়িতে সংযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে বাসিন্দাদের ভরসা এখনও রাস্তার পাশে থাকা জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের পাইপলাইনের কলের জল।
তবে সেখানেও সমস্যা কম নয়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় রাস্তার কলের সংখ্যা কম। তার উপরে নিয়মিত জল আসে না। সারা দিনে কখনও এক ঘণ্টা, কখনও দু’ঘণ্টা জল দেওয়া হয়। জল কখন আসবে, তার কোনও নির্দিষ্ট সময়ও নেই। আবারকোনও কোনও দিন অল্পক্ষণ জল দেওযার পরেই হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। জল আসার নির্দিষ্ট সময় না থাকায় দীর্ঘক্ষণ লাইনে থাকতে হয় বাসিন্দাদের। এতে জল নিতে আসা লোকজনের মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হয়। জলের অপেক্ষায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে সময়ও নষ্ট হয়। তবে গ্রীষ্মের আগে স্থায়ী সমাধান না হলে জল সঙ্কট আরও বেশি হবে বলে আশঙ্কা বাসিন্দাদের।
ঢালাই রোডের বনশ্রী মহাপাত্র, পাঁপড়া গ্রামের জ্যোৎস্না রায় জানান, রাস্তার কল থেকে লাইন দিয়ে জল সংগ্রহ করেন। প্রতিদিন জল মেলে না বলে যে দিন সুযোগ পান, বেশি করে জল তুলে রাখেন। এত জল বইতে গিয়ে তাঁদের খুব কষ্ট হচ্ছে।শ্রীপল্লির বাসিন্দা মলয় মর্দ্দন্যা বলেন, ‘‘সম্প্রতি পাইপ বসানোর জন্য বাড়ির সামনে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করায় ভোগান্তির শিকার হতে হল। কিন্তু এখনও বাড়িতে সংযোগ দেওয়া হয়নি। কবে জল পাব, তারও ঠিক নেই।’’ রাজাপাড়ার অজিতকুমার দত্তের বলেন, ‘‘রাস্তা কেটে পাইপ বসানো হল দেখে ভেবেছিলাম সমস্যা মিটবে। কিন্তু এখনও বাড়িতে কল বসেনি।’’ সুভাষপল্লির শ্রীধর সুবুদ্ধি বলেন, ‘‘আমার বাড়িতে কল আছে, কিন্তু কোনও দিন জল আসে, কোনও দিন আসে না।’’
পোদ্দারপাড়ার শ্যামাপদ দে জানান, সামনেই গ্রীষ্মকাল। এখনও বাড়ি বাড়ি জল এল না। রাস্তার কল থেকে জল নিতে গিয়ে ঝগড়া লেগেই থাকে। প্রায়ই একদিন জল আসে তো তিন দিন বন্ধ থাকে। জল দেওয়ার কোনও নির্দিষ্ট সময় নেই। এ ভাবে কত দিন ভোগান্তিতে পড়তে হবে?
খাতড়া মহকুমা জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের সহকারী বাস্তুকার সৌরভ সাহার অবশ্য দাবি, ‘‘মহকুমা সদর এলাকায় রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত কল রয়েছে এবং সবাই জল পাচ্ছেন।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে