Ananta Malakar

Ananta Malakar: শোলার কাজে কীর্তি, প্রয়াত ‘শিল্পগুরু’ অনন্ত মালাকার

ছোটবেলা থেকে দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। তাঁর শিল্প কর্ম দেশে বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২২ ০৭:২৮
Share:

মগ্ন: শোলা দিয়েই অনুপম শিল্পকর্ম তৈরি করতেন অনন্ত মালাকার। ফাইল চিত্র।

প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট শোলা শিল্পী অনন্ত মালাকার (৮১)। বর্তমানে কীর্ণাহারের বাসিন্দা হলেও, তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম থানার পালিটা গ্রামে। পরিবার সূত্রে জানা যাচ্ছে, বেশ কিছুদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন তিনি। বুধবার গভীর রাতে বর্ধমানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

Advertisement

ছোটবেলা থেকে দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। তাঁর শিল্প কর্ম দেশে বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর তৈরি শোলার পূর্ণাঙ্গ দুর্গা মূর্তি বহুবার বিদেশে পাড়ি দিয়েছে। শোলা শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৭০ সালে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পান অনন্তবাবু। ২০০৪ সালে পান শিল্পগুরু উপাধি। বিভিন্ন সময়ে দেশ বিদেশে আরও বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন। শোলা শিল্পের পাশাপাশি সাহিত্য চর্চাতেও তাঁর সুনাম রয়েছে। তিন শতাধিক কবিতা-সহ লিখেছেন ৪টি উপন্যাসও। তার মধ্যে ‘বিনোদ বৈষ্ণবী’ অন্যতম।

রামকিঙ্কর বেইজের কাছে কাজ শেখা শুরু হয় অনন্তবাবুর। তিন বছর কাজ শেখার পরে এক দিন হঠাৎ জীবিকা অর্জনের তাগিদে বাড়ি ছেড়ে পাড়ি জমান কলকাতায়। ঠাঁই হয় কুমোরটুলিতে। যেটুকু শোলাশিল্পের কাজ শিখেছিলেন, সেই শিক্ষাটুকু সম্বল করে সেখানে শোলার অলঙ্কার তৈরির কাজ শুরু করেন। তাঁর হাতের কাজ দেখে শোভাবাজারে নিজের স্টুডিওতে নিয়ে যান ভাস্কর রমেশচন্দ্র পাল। পরে অনন্তবাবু স্বাধীন ভাবে কালীঘাটে শুরু করেন। ভবানীপুরের সপ্তর্ষি ক্লাবের জন্য সম্পূর্ণ শোলার প্রতিমা তৈরির বায়না নিয়ে মাত্র দু’মাসের মধ্যেই আট ফুট চালি বিশিষ্ট পাঁচ ফুটের সম্পূর্ণ শোলার সরস্বতী প্রতিমা করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন এই শোলা শিল্পী। সেই প্রতিমা দেখতে আসেন মহানায়ক উত্তমকুমারও।

Advertisement

পরবর্তী কালে আড়াই ফুটের বাংলা আর্টের দুর্গা প্রতিমা গড়ে জাতীয় পুরষ্কার পান অনন্তবাবু। শুধু এ দেশেই নয়, পুরস্কার পেয়েছেন রাশিয়া, আমেরিকা থেকেও। দিল্লির ন্যাশনাল মিউজ়িয়াম, ন্যাশনাল ক্রাফটস মিউজিয়াম, ছত্রপতি শিবাজী মিউজিয়াম, কলকাতার জাদুঘর, নেহরু চিল্ড্রেন মিউজ়িয়াম-সহ বিভিন্ন জায়গায় তাঁর শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। বিভিন্ন সময় তার শিল্পকর্ম পাড়ি দিয়েছে নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি , টরেন্টো, ওয়াশিংটন, জার্মানি, মস্কোয়। এমন বড় মাপের শিল্পীর শোকের ছায়া নেমেছে। সাংস্কৃতিক কর্মী অতনু বর্মণ, শিক্ষক অরুণ রায়রা বলেন, ‘‘অনন্তবাবুর প্রয়াণে একটা যুগের অবসান হল। অত বড় মাপের শিল্পী হয়েও তিনি ছিলেন মাটির মানুষ।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement