ঘরের দলিল নিতে ভিড় গৃহহীনদের

ঘড়ির কাঁটা বিকেল ৫টায় পৌঁছতেই রাজ্যের মন্ত্রী, পুরসভার চেয়ারম্যানের মতো ভিআইপিরা উপস্থিত মুক্তমঞ্চে। রাজ্য সরকারের একের পর এক উন্নয়নের তালিকা শুনে হাততালিতে ভরল গোটা মাঠ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০০:০৮
Share:

সাহায্য: বাড়ির দলিল দিচ্ছেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র

তাঁদের কেউ পরিচারিকা, কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউ দিনমজুর। বুধবার বদলাল তাঁদের জীবন-কাহিনির অনেকটাই।

Advertisement

পুরসভার ডেকেছিল ওঁদের সবাইকে। হাজির হতে বলা হয়েছিল মুক্তমঞ্চে। দুপুর তিনটের মধ্যে। তড়িঘড়ি কাজ মিটিয়ে পুরসভার মাঠে হাজির হন তাঁরা। আনন্দে ছিলেন সকলেই। আজ যে মাথার উপর পাকা ছাদের ঘর পাবেন। সপরিবার এসেছিলেন অনেকেই।

ঘড়ির কাঁটা বিকেল ৫টায় পৌঁছতেই রাজ্যের মন্ত্রী, পুরসভার চেয়ারম্যানের মতো ভিআইপিরা উপস্থিত মুক্তমঞ্চে। রাজ্য সরকারের একের পর এক উন্নয়নের তালিকা শুনে হাততালিতে ভরল গোটা মাঠ।

Advertisement

গত ৩ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করেছিলেন আমোদপুরে। সে দিন রামপুরহাট পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ডুডুম হাঁসদাকে দিয়ে গৃহহীনদের জন্য ঘর প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন তিনি। বুধবার সেই প্রকল্পেই অন্য উপভোক্তাদের হাতে বাড়ির দলিল তুলে দিলেন কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।

২০১৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে রামপুরহাট হাইস্কুল মাঠে জনসভায় আসার পথে রামপুরহাট ধূলাডাঙা রোডের বস্তিবাসীদের দুর্দশার কথা গাড়ি থেকে নেমে শুনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই সভাতেই মুখ্যমন্ত্রী রামপুরহাট পুরসভা এলাকা থাকা গৃহহীনদের জন্য ঘর তৈরি করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। পুরপ্রধানকে উপভোক্তাদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। এর পরই ধূলাডাঙা রোডে গাঁধী পুকুরের তীরে ৪ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাসকারী গৃহহীন পরিবারের পাশাপাশি ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ২৭২ জন উপভোক্তার নাম পাঠানো হয় নবান্নে।

মুখ্যমন্ত্রী ২০১৫ সালে ওই প্রকল্পের জন্য ১১ কোটি ৫৬ লক্ষ বরাদ্দ করে। সেই টাকায় গাঁধী পুকুরের পাশে প্রথম পর্যায়ে ৯টি আবাসন তৈরির কাজ শুরু করে পুরসভা। ইতিমধ্যে ৭টি আবাসনের কাজ শেষ। বাকি দু’টির নির্মাণকাজ চলছে। পুরসভা সূত্রে খবর, চারতলা আবাসনে ১৬টি করে পরিবার থাকতে পারবে। ঘরের মাপ হবে ২৭০ বর্গফুট। প্রতিটি ফ্ল্যাটে একটি শোওয়ার ঘর, একটি রান্নাঘর, একটি শৌচালয়, ডাইনিং-রুম থাকবে। বৈদ্যুতিক বিল মেটাতে হবে উপভোক্তাদেরই। পুরসভা জানিয়েছে, কেউ ওই ঘর বিক্রি করতে পারবেন না। পুরসভার অনুমতি ছাড়া ঘর হস্তান্তরও করা যাবে না। রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে উপভোক্তাদেরই। পুরসভার অনুমতি ছাড়া ঘরে কোনও নির্মাণের কাজও করা যাবে না। সেই সঙ্গে প্রতি মাসে পুর-তহবিলে ২০ টাকা করে জমা দিতে হবে। বুধবার প্রথম পর্যায়ে ৭০ জন উপভোক্তার হাতে ঘরের দলিল তুলে দেওয়া হয়। রামপুরহাটের পুরপ্রধান অশ্বিনী তিওয়ারি জানান, দ্রুত অন্য পরিবারগুলিকেও ঘর দেওয়া হবে। আশিসবাবু বলেন— ‘‘লোকসভা, বিধানসভা, পুরসভা নির্বাচনে বিরোধীরা প্রচার করেছিলেন ঘর তৈরি হবে না। ঘর কেউ পাবেনও না। আজ তাঁরা দেখে যান, মুখ্যমন্ত্রী কথা রাখেন। রামপুরহাট-সহ এই এলাকার উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী বদ্ধপরিকর।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement