সিউড়ির দেওয়ালে এখনও নেই বিরোধী প্রচার। —নিজস্ব চিত্র।
বিরোধীদের বিঁধতে ‘অস্ত্র’ ছড়াও। সঙ্গে উন্নয়নের বার্তা। ভোটের আগে এ ভাবেই দেওয়াল-যুদ্ধে নেমেছে তৃণমূল। প্রার্থী ঘোষণায় দেরি হওয়ায় সেই লড়াইয়ে এখনও অনেক পিছিয়ে বিরোধী শিবির। কোথাও কোথাও আবার দেওয়াল লিখন ঘিরে ছড়াচ্ছে বিতর্কও। সদর শহর সিউড়ি থেকে বোলপুর— দেওয়াল লিখনের ছবি সব জায়গায় একই।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সিউড়ির প্রতিটি ওয়ার্ড তো বটেই কড়িধ্যা, হাটজনবাজার, নগরীর তৃণমূলের দেওয়াল লিখন প্রায় শেষের মুখে। কিন্তু অন্য রাজনৈতিক দলগুলি শুধু দেওয়াল ‘বুকিং’ করে রেখেছে। সেই সেই সংখ্যাও খুবই কম।
শুধু প্রার্থীর নাম বা দলের প্রতীক নয়, ভোটারদের নজর টানতে দেওয়াল লিখনে কোথাও কোথাও ছড়াও লিখেছে তৃণমূল। সে সবের নিশানায় মূলত বিজেপি, নরেন্দ্র মোদীই। তৃণমূল সূত্রে খবর, নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ও দলীয় প্রার্থী ঘোষণার আগেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দেওয়াল লিখনের কাজ শুরুর নির্দেশ গিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল।
দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯
নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সপ্তাহখানেক আগে রামপুরহাটের একটি কর্মিসভায় দলের এক নেতাকে তিনি বলেছিলেন, ‘‘এখনও দেওয়াল বুক করোনি? কেন? কেউ বারণ করেছে? সবাইকে বলছি দেওয়াল বুকিং শুরু করে ফেলুন।’’ সেই নির্দেশমতো দেওয়াল লিখনের কাজ শুরু করেন দলের নেতা-কর্মীরা। নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রং-তুলি হাতে নেমে পড়েন অনুব্রত। বোলপুরে দলীয় কার্যালয়ের পাশের দেওয়ালে দলের প্রতীক আঁকেন।
নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রার্থীদের নাম ঘোষণা না হওয়ায় দেওয়াল লিখনের কাজ তখনও শুরু করতে পারেনি বামফ্রন্ট, কংগ্রেস, বিজেপি। তাতে অনেকটাই এগিয়ে যায় তৃণমূল।
জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত ঘোষ বলেন, ‘‘জেলা সভাপতির নির্দেশ অনুযায়ী ২৫ মার্চের মধ্যে দেওয়াল লিখনের কাজ শেষ করতে হবে। তাই প্রার্থীর নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বোলপুরের বিভিন্ন এলাকায় ওই কাজ শুরু হয়েছে।’’
তবে দেওয়ালের ‘বুকিং’-এ বেশি গুরুত্ব দিতে নারাজ সিপিএম। দলের জেলা সম্পাদক মনসা হাঁসদা বলেন, ‘‘এত নাকি উন্নয়ন করা হয়েছে। তার পরেও দেওয়ালে দেওয়ালে উন্নয়নের কথা প্রচার করতে হচ্ছে তৃণমূলকে। আসলে সাধারণ মানুষের থেকে ওদের নেতা-কর্মীদের উন্নয়ন বেশি হয়েছে। ওঁরা দেওয়াল দখল করুক, আমরা মানুষের মনের দেওয়াল দখলের চেষ্টা করবো।’’
সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা বোলপুর কেন্দ্রের বামপ্রার্থী রামচন্দ্র ডোম বলেন, ‘‘সব জায়গাতেই দখলদারির রাজনীতি চলছে তৃণমূলের। এ ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নেই।’’
বিরোধীদের নিশানা করে দেওয়ালে ছড়ার পাশাপাশি ছবিতে তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেছে শাসক দল। সিউড়ি বড়বাগানে দেওয়াল লিখনে মানুষের হৃৎপিণ্ডে ঘাসফুলের ছবির পাশে লেখা হয়েছে— ‘হৃদমাঝারে ঘাস ফুল, আবার আসছে তৃণমুল।’ কড়িধ্যায় ঢোকার মুখে নরেন্দ্র মোদীকে বিঁধে লেখা হয়েছে— ‘যুবসমাজ দিচ্ছে ডাক, কোথায় গেল ১৫ লাখ।’ একই ভাবে আরও এক জায়গায় লেখা হয়েছে— ‘বঙ্গে আসছে ঝড়। ভাঙবে মোদীর ঘর। দিদি দেখাল পথ। ছুটবে দিদির রথ। দিদির বিকল্প নাই। ভারতে তৃণমূল চাই।’
জেলা জুড়ে তৃণমূলের এ সব দেওয়াল লিখনে একেবারেই চিন্তিত নয় বলে দাবি করছে বিজেপি। দলের জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায়ের কথায়, ‘‘যতই দেওয়ালে দেওয়ালে ছড়া লেখা হোক আর উন্নয়নের বাণী ফুটুক, এ বার মানুষ ঠিক করেই নিয়েছে যে ভোটটা কাকে দেবেন। আমরা এ বার ধীরে ধীরে প্রচার বাড়াব।’’