প্রতীকী ছবি।
ফের ‘গণইস্তফা’ বিজেপিতে। আগেই পদ থেকে ‘ইস্তফা’ দিয়েছিলেন পুরুলিয়ার পাড়া ব্লকের ৩২ নম্বর জেলা পরিষদ মণ্ডলের যুব মোর্চার সভাপতি, ওই মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক-সহ দলের কয়েকটি মোর্চার সভাপতিরা। এ বার একই পথে হাঁটলেন ওই মণ্ডলেরই ভাওঁরিডি পঞ্চায়েতের ১২টি বুথের সভাপতিরাও। আগের মতো এ বারও ‘ইস্তফাপত্র’ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে (সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার)।
চিঠিতে দেখা যাচ্ছে, আগের বারের মতোই ‘ইস্তফা’ দেওয়া বুথ সভাপতিরা ওই মণ্ডলের সভাপতি কৈলাস মাহাতোর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, দুর্ব্যবহার ও তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে ‘আঁতাত’-এর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের মধ্যে একটি বুথের সভাপতি দীপক বাউড়ি ও আর একটি বুথের সহ সভাপতি সুজিত কালিন্দীর দাবি, কৈলাসবাবুর প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়েই তাঁরা পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তবে পদ থেকে ‘ইস্তফা’ দিলেও দল ছাড়ছেন না বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
দীপকবাবু বলেন, ‘‘কৈলাসবাবু নিজের মর্জিমফিক দল ও পঞ্চায়েত পরিচালনা করছেন। কারও সঙ্গে কোনও আলোচনা করেন না। এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে কোনও প্রস্তাব দিতে গেলে কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।” সুজিতবাবু বলেন, ‘‘এলাকায় উন্নয়ন সংক্রান্ত কী কাজ হচ্ছে সেটা কর্মীরা জানতেই পারেন না। কৈলাসবাবুর জন্যই এলাকায় উন্নয়নের কাজ ঠিক ভাবে হচ্ছে না।” বুথ সভাপতিদের একাংশের দাবি, ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানিয়েও ফল না হওয়ায় তাঁরা পদ থেকে ‘ইস্তফা’ দিয়েছেন।
ভাঁওরিডি পঞ্চয়েত এলাকাতেই কৈলাসবাবুর বাড়ি। ওই পঞ্চায়েতের প্রধান বিজেপির। ফলে মণ্ডল সভাপতির নিজের এলাকার বুথ সভাপতিরা পদ থেকে ‘ইস্তফা’ দেওয়ায় ঘটনা অন্য মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন জেলার রাজনীতির ওঠাপড়ার নিয়মিত পর্যবেক্ষকদের অনেকে। তবে পুরো ঘটনাটি তাঁর বিরুদ্ধে দলেরই কিছু নেতার চক্রান্ত বলে পাল্টা অভিযোগ করেছেন মণ্ডল সভাপতি কৈলাসবাবু।
কৈলাসবাবুর দাবি, দল বিরোধী কাজের জন্য মণ্ডলের যুব সভাপতি চঞ্চল তিওয়ারি ও সাধারণ সম্পাদক অনির্বাণ মাহাতোকে শোকজ় করা হয়েছিল। তাঁদের দিকেই এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল তুলছেন তিনি। কৈলাসবাবু বলেন, ‘‘ইস্তফা সংক্রান্ত বিষয়টি শোনার পরেই বুথ সভাপতিদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলাম। প্রায় সমস্ত বুথের সভাপতিরা উপস্থিত হয়ে জানিয়েছে, তাঁরা কেউই পদ থেকে ইস্তফা দেননি। বুথের সভাপতিদের সই জাল করে ইস্তফাপত্র তৈরি করে সেটা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”
তবে ওই মণ্ডলের বিজেপির যুব সভাপতি চঞ্চল তিওয়ারি বলছেন, ‘‘কৈলাসবাবুর দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচরিতায় দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মী বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছেন বলেই অনেকেই পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। তাঁরা সবাই স্বেচ্ছায় সই করে ইস্তফা দিয়েছেন।”
বিজেপির পুরুলিয়ার জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তীর দাবি, ‘‘ঘটনাগুলির পিছনে তৃণমূলের একাংশ ইন্ধন জোগাচ্ছে। তার সঙ্গে দলের কারা যুক্ত, সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যাঁরা যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে দলগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পাড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক উমাপদ বাউড়ির অবশ্য বক্তব্য, ‘‘সবটাই বিজেপির অন্দরের কলহ। সেটা ঢাকতে ভিত্তিহীন কথাবার্তা বলছেন বিজেপির নেতারা।”