বোলপুর শহর জুড়ে এখন এমনই দৃশ্য। নিজস্ব চিত্র।
শহর বোলপুর মুখ ঢেকেছে পতাকায়। আক্ষরিক অর্থেই। তবে তার রং বদল হচ্ছে ক্রমাগত। সবুজ আর গেরুয়ার টক্করে কে এগিয়ে, তা বলা মুশকিল। তবে অনুব্রত মণ্ডলের গড়ে সমানে সমানে টক্কর দেওয়ার কৃতিত্ব দাবি করতেই পারে জেলা বিজেপি।
অমিত শাহের বোলপুর সফর ঘিরে এই মুহূর্তে সরগরম শহরের পরিস্থিতি। দলীয় নেতাদের কনভয়, পুলিশের কড়া নজরদারি, রাস্তার ধারে ধারে ব্যারিকেডের সারি জানান দিচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমন বার্তা। কিন্তু তারই মধ্যে বিশেষ ভাবে চোখে পড়ছে যুযুধান দুই দল বিজেপি-তৃণমূলের দলীয় পতাকা নিয়ে ‘লড়াই’। মুখে দুই দলই সৌহার্দ্যের পরিবেশ বজায় রাখলেও, পতাকার মাধ্যমে এলাকা দখলের ‘ছায়াযুদ্ধ’ শুরু হয়ে গিয়েছে।
কেন সে যুদ্ধ?
শান্তিনিকেতনের শ্যামবাটি থেকে বোলপুরের চৌরাস্তা পর্যন্ত রাস্তার দুইধার ইতিমধ্যেই ছেয়ে গিয়েছে গেরুয়া পতাকা, ব্যানার আর হোর্ডিংয়ে। যদিও, রবীন্দ্রনাথের ছবি যুক্ত একটি ফ্লেক্স এবং বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসের সামনে দলীয় পতাকা লাগানো নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে সেগুলি সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু তার পরেও যে পরিমাণ বিজেপির পতাকা রয়েছে, তা আগে কখনও দেখা যায়নি বলেই জানাচ্ছেন শহরের বাসিন্দারা। বোলপুর মিশন কম্পাউন্ডের বাসিন্দা বাবু দাস বলেন, “বোলপুরে বিজেপির এত পতাকা আগে দেখিনি।’’ শনিবার দুপুরেও শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পতাকা লাগানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন বিজেপির কর্মীরা।
তবে, পিছিয়ে নেই তৃণমূলও। দলীয় পতাকা লাগাতে নেমে পড়েছে তারাও। এমনিতেই বোলপুর শহরে সারা বছর তৃণমূলের পতাকা উড়তে দেখা যায়, কিন্তু অমিত শাহের সফরের আগে বিজেপির নতুন পতাকার ঔজ্জ্বল্যে খানিক ফিকে হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের পুরনো পতাকার সারি। তাই রাতারাতি বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের ঝকঝকে নতুন পতাকা টাঙানো শুরু হয়েছে।
বোলপুর টুরিস্ট লজ মোড় থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত এলাকায় প্রচুর পরিমাণে নতুন পতাকা লাগিয়েছে শাসকদল। এমনকি চৌরাস্তার যেখানে অমিত শাহের বক্তব্য দেওয়ার কথা, তার সামনেও সারি সারি তৃণমূলের পতাকা ঝুলতে দেখা গিয়েছে শনিবার।
শাহের সফরের প্রস্তুতি দেখতে আসা বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “কিছু জায়গায়আমাদের পতাকা খুলে তৃণমূল নিজেদের পতাকা লাগিয়েছে বলে খবর পেয়েছি। এটা করে তৃণমূল নিজেদের অশিক্ষারই পরিচয় দিচ্ছে।’’ একই সঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, “তৃণমূলও সম্ভবত অমিত শাহকে বোলপুরে স্বাগত জানাতে চায়। তাই ওঁর যাত্রাপথে নিজেদের পতাকা লাগাচ্ছে!’’ বিজেপি জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের অন্য কোনও নেতা জেলায় এলে আমরা তো পতাকা লাগাই না। এই ঘটনা থেকেই দুই দলের সাংস্কৃতিক পার্থক্য বোঝা যায়।’’
তবে বিজেপির এই অভিযোগকে বিশেষ আমল দিতে চাননি জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। পতাকা ও ব্যানার লাগানোর বিষয়টিকে তাঁদের নিয়মিত সাংগঠনিক কাজের অঙ্গ বলে দাবি করেছেন।