Education

মাদ্রাসা বোর্ডে ষষ্ঠ, পরের পড়াই চিন্তা জগন্নাথের

ছেলের এমন ফলে খুশি পরিবার। খুশি স্কুলও। জেলা প্রশাসনের তরফে সংখ্যালঘু দফতরের দুই প্রতিনিধি জগন্নাথকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এসেছেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২০ ০৫:০১
Share:

জগন্নাথ দাস। নিজস্ব চিত্র

বাবা খেতমজুর। মাথা গোঁজার জন্য পাকা ছাদটুকুও নেই। নিত্য লড়াই দারিদ্রের সঙ্গে। কিন্তু নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় থাকলে, সাফল্যের পথে কোনও কিছুই যে বাধা হতে পারে না সেটা দেখাল দুবরাজপুরের খণ্ডগ্রামের কিশোর জগন্নাথ দাস। মাদ্রাসা বোর্ডের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। মেধা তালিকায় ষষ্ঠ স্থান পেয়ে চমকে দিয়েছে খণ্ডগ্রাম ডিএস হাই মাদ্রাসার ছাত্র জগন্নাথ।

Advertisement

ছেলের এমন ফলে খুশি পরিবার। খুশি স্কুলও। জেলা প্রশাসনের তরফে সংখ্যালঘু দফতরের দুই প্রতিনিধি জগন্নাথকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এসেছেন। কোন বিষয়ে কত পেয়েছে সে এটা জানা না গেলেও ৮০০-র মধ্যে ৭৬০ পেয়েছে সে সেটা সাইটে উল্লেখ রয়েছে।

এত ভাল ফল করেও দুশ্চিন্তা কাটছে না ওই কৃতীর। ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন বুনেছে জগন্নাথ। মূল চিন্তা, বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চ-মাধ্যমিকে সে কোথায় পড়বে তা নিয়েই। বাইরে পড়াশুনার খরচ-ই বা কে বহন করবে তাও ভাবাচ্ছে পরিবারকে। সঙ্গে দামী বইপত্র, টিউশনের খরচও আছে। সেসব কীভাবে জোগাড় হবে, উত্তর নেই পরিবারের কাছে। বাবা দীনবন্ধু দাস ও মা রিনা দাস বলছেন, ‘‘ টেনে টুনে কোনও রকমে সংসার চলে। আরেক সন্তান রয়েছে। বড় ছেলের পড়ার খরচ কোথায় পাব?’’ জগন্নাথের কথায়, ‘‘খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করেছি। একটি মাত্র টিউশন নিয়েছিলাম। কিন্তু ঘরের কাছেই স্কুল ছিল। পাশে ছিলেন শিক্ষকেরাও। অনেকেই বই দিয়ে সহায়তা করেছে। এ বার কী করব ভাবতে পারছি না।’’

Advertisement

প্রত্যন্ত এলাকায় হলেও খণ্ডগ্রাম ডিএস হাই মাদ্রাসার পড়ুয়ারা ভাল ফল করে। তবে মেধা তালিকায় কোনও পড়ুয়া স্থান পেয়েছে এমন ঘটনা এই প্রথম। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক কারিবুল হোসেন বলছেন, ‘‘জগন্নাথ আমাদের গর্ব। সত্যিই খুব অনটন ওদের পরিবারে। আগেও ওর পাশে ছিলাম। উচ্চ-মাধ্যমিকে পড়া চালাতে সমস্যা হলে ওর পাশে থাকার সাধ্যমতো চেষ্টা করব।’’

উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল সম্পর্কিত যাবতীয় আপডেট পেতে রেজিস্টার করুন এখানে

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement