চার মৃত্যুতে চাষ শিখছে টুসুলিয়াম

রঘুনাথপুর ১ ব্লকের ওই আদিবাসী প্রধান গ্রামে মঙ্গলবার কৃষি ও উদ্যানপালন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে যান বিডিও (রঘুনাথপুর ১) অনির্বাণ মণ্ডল।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০১৭ ০১:২৬
Share:

প্রশিক্ষণ: টুসুলিয়াম গ্রামে মাশরুম চাষের পদ্ধতি শেখানো হচ্ছে। মঙ্গলবার। নিজস্ব চিত্র

ডায়েরিয়া ও পেটের রোগে পর পর মৃত্যুর পরে টুসুলিয়াম গ্রামের বাসিন্দাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পরিকল্পনা রূপায়ণে মাঠে নামল প্রশাসন। এর মাধ্যমে শুধু রোজগারই হবে না, গ্রামবাসীদের পুষ্টির দিশাও দিতে চাইছে ব্লক প্রশাসন।

Advertisement

রঘুনাথপুর ১ ব্লকের ওই আদিবাসী প্রধান গ্রামে মঙ্গলবার কৃষি ও উদ্যানপালন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে যান বিডিও (রঘুনাথপুর ১) অনির্বাণ মণ্ডল। গ্রামের বাসিন্দাদের হাতে-কলমে স্বাস্থ্য সম্মত মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ‘কিচেন গার্ডেন’ করার জন্য শাক, আনাজের বীজও দিয়েছে কৃষি ও উদ্যানপালন দফতর। বিডিও বলেন, ‘‘টুসুলিয়াম গ্রামের বাসিন্দাদের আর্থিক দিক দিয়ে আরও সাবলম্বী করার জন্য মহকুমাশাসক বলেছেন। সেই মতো ওই গ্রামের বাসিন্দাদের মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নিজেদের প্রয়োজন মতো মাশরুম খাওয়ার পরেও বাড়তি মাশরুম বাজারে বিক্রি করে আয় করতে পারবেন গ্রামবাসী।’’ দশ দিনের মধ্যে উন্নত প্রজাতির মাশরুমের বীজ গ্রামের বাসিন্দাদের দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

পেটের রোগে আক্রান্ত হয়ে রঘুনাথপুর ১ ব্লকের বেড়ো পঞ্চায়েতের টুসুলিয়াম গ্রামের চার বাসিন্দার মৃত্যু হয় সম্প্রতি। তাঁদের মধ্যে এক অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু ডায়েরিয়াতে হয়েছে বলে স্বীকার করে নেয় স্বাস্থ্য দফতর। যদিও বাকিদের মৃত্যুর পিছনে অন্যান্য অসুস্থতা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে গ্রামের পর পর মৃত্যুর ঘটনার জেরে তড়িঘড়ি সেখানে ছুটেছিলেন প্রশাসনের কর্তারা। গ্রাম ঘুরে বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে প্রশাসনের কর্তাদের মনে হয়েছিল, সেখানে পুষ্টির অভাবজনিত কিছু সমস্যা রয়েছে। পাশাপাশি গ্রামের বাসিন্দাদের আর্থিক দিক দিয়ে আরও সাবলম্বী করার প্রয়োজনীয়তার দিক বুঝেছিলেন তাঁরা।

Advertisement

সেই মতো রঘুনাথপুরের মহকুমাশাসক দেবময় চট্টোপাধ্যায় ব্লক প্রশাসন-সহ কৃষি দফতর, উদ্যানপালন দফতর ও পশুপালন দফতরের আধিকারিকদের টুসুলিয়ামে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছিলেন। এ দিন বিডিও ছাড়াও গ্রামে গিয়েছিলেন কৃষি দফতরের রঘুনাথপুর ১ ব্লকের সহকারী কৃষি অধিকর্তা কৃষ্ণেন্দু হাইত, উদ্যানপালন দফতরের রঘুনাথপুর মহকুমার আধিকারিক তামসী কোলে।

কৃষি দফতর বাসিন্দাদের মুলো, বাঁধাকপি, টোম্যাটো, কাঁচালঙ্কার বীজ দিয়েছে। বাড়ি আশপাশের জমিতে কী ভাবে ওই বীজ লাগিয়ে আনাজ উৎপাদন করবেন বাসিন্দারা, সেই বিষয়ে বোঝানো হয়।

অন্যদিকে, উদ্যানপালন দফতর নটে, পালং শাকের বীজ দিয়েছে। উদ্যানপালন দফতরের আধিকারিক তামসীদেবী বলেন, ‘‘লাল নটে শাক রক্তাল্পতা রোধে উপকারী। গ্রামের মহিলারা পুকুরের পাড় থেকে বা অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর জায়গা থেকে শাক তুলে খান। তাতে শারিরীক সমস্যা হতে পারে। তা আটকাতেই বাড়িতে চাষের জন্য তাঁদের শাকের বীজ দেওয়া হয়েছে।”

আগেই গ্রামে গিয়ে প্রশাসনিক কর্তারা জেনেছিলেন, টুসুলিয়াম গ্রামের বহু বাসিন্দাই জঙ্গল থেকে বুনো ছাতু তুলে এনে খান। এই ছাতু জনপ্রিয় খাবার গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে। জঙ্গলি ছাতু খেয়ে গ্রামের লোকজনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করে আগেই প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, টুসুলিয়াম গ্রামের বাসিন্দাদের মাশরুম চাষ শেখানো হবে।

বিডিও জানান, গ্রামের বাসিন্দারা ছাতু খেতে ভালবাসেন জানার পরেই তাঁরা যাতে নিজেরাই গ্রামে বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে মাশরুম চাষ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে চেয়েছে প্রশাসন। সে জন্যই মাশরুম চাষের পদ্ধতি হাতে-কলমে শেখানো হয়েছে।

এ দিন গ্রামের ২৫টি পরিবার থেকে পঞ্চাশ জন বাসিন্দা মাশরুম চাষের পদ্ধতি শিখেছেন। তাঁদের মধ্যে বাবলু হাঁসদা, রবিলাল মুর্মু, লখীরাম সোরেন, মাখনি টুডুরা বলেন, ‘‘শাক,আনাজের বীজ পাওয়াতে সুবিধাই হল। আর্থিক কারণে বাজার থেকে কিনে খেতে সমস্যা হতো বলে পুকুর, মাঠ থেকেই শাক তুলে এনে খেতাম। এখন নিজেরাই জমিতে চাষ করতে পারব।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement