দিনরাত ধরে চলছে যাছাই। ফাইল চিত্র।
ইতিমধ্যেই যুব সাথী প্রকল্পের উপভোক্তাদের অনুদান দেওয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু অনেকেরই তথ্য যাচাই না হওয়ায় তাঁরা এখনও অনুদান পাননি। এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। তাই যুব সাথী প্রকল্পের আবেদন খতিয়ে দেখার কাজে গতি আনতে তৎপরতা বাড়াল পুরুলিয়া ও বাঁকড়ার জেলা প্রশাসন।
প্রতিটি ব্লকে অন্য দফতর থেকে ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের এনে আবেদনপত্র আপলোড করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের বাইরেও আবেদনপত্র খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে কর্মীদের। বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বুধবার বলেন, “যুব সাথী প্রকল্পের আবেদনপত্র খতিয়ে দেখে প্রকল্পের ছাড়পত্র দেওয়ার কাজে গতি আনতেই এই নির্দেশ।” পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, নির্বাচন ঘোষণার আগেই সমস্ত আবেদন যাচাইয়ের কাজ শেষ করতে চাইছে সরকার।
বাঁকুড়া জেলার এক বিডিও জানান, মঙ্গলবার ওই নির্দেশ পেয়েই ব্লক ও পঞ্চায়েতের ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের পাশাপাশি প্রশাসনের অন্যান্য দফতরের কর্মীদেরও আবেদনপত্র আপলোডের কাজে লাগানো হয়েছে। আপলোডের পরে আবেদনপত্র খতিয়ে দেখার জন্য প্রতিটি পঞ্চায়েতের আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “যত দ্রুত সম্ভব যুব সাথী প্রকল্পের আবেদনপত্র আপলোড করা ও খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেক রাত পর্যন্ত এই প্রকল্পের কাজ চলছে।”
ভোটমুখী রাজ্য বাজেটে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ বেকার যুবদের জন্য মাসিক দেড় হাজার টাকা অনুদানের যুব সাথী প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি কলকাতার ধর্না মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই প্রকল্পের অনুদান দেওয়া শুরুর কথা ঘোষণা করেন। তারপরেও জেলার অধিকাংশ আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ওই প্রকল্পের অনুদানের টাকা জমা পড়েনি। তাতে বিভ্রান্তি শুরু হয়েছে।
যুব সাথী প্রকল্পের সুবিধা চেয়ে বাঁকুড়া জেলায় প্রায় তিন লক্ষ ৭০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার আবেদন অনলাইনে জমা করা হয়। পুরুলিয়াতে যুব সাথী প্রকল্পে তিন লক্ষ দু’হাজার ৮১১টি আবেদন জমা পড়ে। যার মধ্যে অনলাইনে আবেদনকারীর সংখ্যা ৪২ হাজার ৪৪৪। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরে পুরুলিয়া জেলায় ২, ৯২৯ জনকে যুব সাথীর টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা প্রশাসন। বাঁকুড়ায় অবশ্য সেই সংখ্যা জানাতে পারেনি প্রশাসন। তবে বাঁকুড়া জেলায় প্রায় দু’ লক্ষ আবেদনপত্র আপলোড ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ হয়ে গিয়ে প্রকল্পের উপভোক্তা হিসেবে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। বাঁকুড়া জেলার মধ্যে ওন্দা ব্লকে যুব সাথী প্রকল্পের আবেদন খতিয়ে দেখার কাজের গতি সবচেয়ে বেশি বলে দাবি। এ ছাড়াও অন্যান্য ব্লকগুলির মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে বাঁকুড়া ১, ছাতনা, কোতুলপুরের মতো ব্লকগুলি।
কী ভাবে চলছে যাচাই? কর্মীদের একাংশের দাবি, এলাকায় ঘুরে আবেদনকারী সম্পর্কে তথ্য যাচাইয়ের সময় নেই। আপাতত তাঁদের জমা দেওয়া নথির সত্যতা যাচাই করে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মতে, আবেদনকারী যে বেকার সে সম্পর্কে আবেদনপত্রেই মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। তাই কেউ সত্যতা গোপন করলে প্রয়োজনে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেও প্রকল্পের অনুদান না পাওয়া গ্রাহদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন। যুব সাথীতে আবেদন করা বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা এক যুবক বলেন, “দু'দিন আগে আমার ফোনে মেসেজ দিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয় যুবসাথী প্রকল্পের অনুদান আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে। অথচ কোনও টাকাই আমি পাইনি।”
এই পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তি কাটাতে আসরে নেমেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। শালতোড়ার ব্লক তৃণমূল সভাপতি সন্তোষ মণ্ডল বলেন, “যুব প্রজন্ম মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রকল্পে নতুন দিশা পেয়েছে। তাই তাদের আগ্রহ স্বাভাবিক ভাবেই তুঙ্গে। কবে অনুদানের অর্থ জমা হবে তা জানতে চাইছেন সবাই।’’ বড়জোড়া ব্লক তৃণমূল সভাপতি কালীদাস মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের ব্লকে ১৪,৭০০ আবেদনকারীর মধ্যে প্রায় দু’হাজার জন এখনও পর্যন্ত অনুদান পেয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। বাকিরা শীঘ্রই পেয়ে যাবেন। সবাইকে ধৈর্য ধরতে বলছি।”
এ দিকে গোটা বিষয়টিকে তৃণমূলের রাজনৈতিক কৌশল বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। দলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “মাসিক দেড় হাজার টাকার টোপে যুব-ভোট কেনার স্বপ্ন দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে যুবসমাজ দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিকশিত ভারত চাইছে। নির্বাচনে সেই রায়ই দেবেন বাংলার যুবরা।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে