বড়দিনে শুরু অযোধ্যা পাহাড় পর্যটন উৎসব

কখন পর্যটন উৎসব করলে অযোধ্যা পাহাড়কে পর্যটকদের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলা যাবে, তা ঠিক করতেই তিন বছর পেরিয়ে গেল! অবশেষে পর্যটনের ভরা মরসুমে শুরু হচ্ছে অযোধ্যা পাহাড় পর্যটন উৎসব।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৩:১২
Share:

কখন পর্যটন উৎসব করলে অযোধ্যা পাহাড়কে পর্যটকদের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলা যাবে, তা ঠিক করতেই তিন বছর পেরিয়ে গেল! অবশেষে পর্যটনের ভরা মরসুমে শুরু হচ্ছে অযোধ্যা পাহাড় পর্যটন উৎসব।

Advertisement

আজ শুক্রবার অযোধ্যার হিলটপের মাঠে উৎসবের উদ্বোধন করার কথা রাজ্যের পঞ্চায়েত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরী দফতরের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের। উৎসব চলবে তিনদিন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকার কথা কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু, জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র, পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতোর।

রাজ্যে পালাবদলের পরে পুরুলিয়ার জঙ্গলমহল এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপ বন্ধ হওয়ার পরে অযোধ্যাকে পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে ২০১২ সালে পুরুলিয়ার তৎকালীন জেলাশাসক অবনীন্দ্র সিংহের উদ্যোগে অযোধ্যা পাহাড়ে শুরু হয়েছিল এই উৎসবের।

Advertisement

সে সময় উৎসবের নামকরণে ‘পর্যটন’ কথাটা ছিল না। ওই বছরেই উৎসব উপলক্ষ্যে পুরুলিয়া থেকে অযোধ্যা পাহাড়ের হিলটপ পর্যন্ত একটি সরকারি বাস চালানো শুরু করে জেলাপ্রশাসন। পরে অবশ্য এই উৎসব পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে জেলা পরিষদ। দু’বছর ধরে জেলাপরিষদের উদ্যোগেই পর্যটন উৎসব হচ্ছে।

তবে উৎসব নিয়ে বিতর্ক সেই প্রথম থেকেই। প্রথম বছর থেকেই উৎসব হচ্ছিল ফ্রেবুয়ারি মাসে। প্রথম বছর মাসের প্রথমদিকে উৎসব হয়। পরের বছরগুলিতে মাসের মাঝামাঝি উৎসব হয়েছে। গোল বেধেছিল গত বছর ফ্রেবুয়ায়ি মাসের শেষ সপ্তাহে মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ে উৎসব হওয়াতে। ফলে পর্যটনের মরসুম শেষ হওয়ার পরে উৎসব করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বিভিন্ন মহলে। উদ্যোক্তাদের একাংশই প্রশ্ন তুলেছিল, অযোধ্যাকে পর্যটকদের কাছে আরোও বেশি মাত্রায় তুলে ধরতে পর্যটন উৎসব হচ্ছে। কিন্তু যে সময়ে উৎসব শুরু হচ্ছে তখন পর্যটনের মরসুমটাই শেষের মুখে। হাতে গোনা কিছু পর্যটক তখন পাহাড়ে আসেন। সেক্ষেত্রে উৎসবের সময় বদলের দাবিও উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে।

ঘটনা হল, জেলা পরিষদ অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েই এ বার ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনে পর্যটন উৎসব শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি সৃষ্টিধর মাহাতো বলেন, ‘‘ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে পুরুলিয়া-সহ অন্যান জেলার প্রচুর মানুষ পাহাড়ে ঘুরতে, পিকনিক করতে আসেন। ফলে এই সময়ে পর্যটন উৎসব করলে স্বভাবতই তাঁদের কাছে অযোধ্যাকে তুলে ধরা যাবে।’’

সৃষ্টিধরবাবুর ব্যাখ্যা, প্রচারের যুগ, পর্যটনের মরসুমে উৎসব করলে রাজ্য সরকার অযোধ্যায় পর্যটনের বিকাশে কতটা আন্তরিক সেই প্রচারটা পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে বাড়তি সুবিধা পাবে জেলা পরিষদ।

বরাবরই এই উৎসবে জেলার লোক সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে চেষ্টা করে জেলাপরিষদ। এ বারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

সভাধিপতি জানান, গতবারের মতো এবারেও মূল মঞ্চে হবে ঝুমুর, টুসু, নাটুয়া গান, নাচনি ও ছৌনাচের মতো পুরুলিয়ার লোকসংস্কৃতির অনুষ্ঠান। তাঁর কথায়, ‘‘পাহাড়ের চূড়োয় বসে এই শীতের আবহে বেড়াতে আসা পর্যটকরা যাতে একই সঙ্গে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পুরুলিয়ার লোকসংস্কৃতির স্বাদ উপভোগ করতে পারেন সেই ব্যবস্থা করেছি আমরা।”

ফি বারের মতো এ বারও বিতর্ক দানা বেঁধেছে অনুষ্ঠান ঘিরে। কংগ্রেসের দখলে থাকা স্থানীয় পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতিকে কার্যত বাদ দিয়ে যে ভাবে জেলা পরিষদ উৎসব করছে তাতে ক্ষুব্ধ কংগ্রেস। দলের জেলা সভাপতি তথা বাঘমুণ্ডির বিধায়ক নেপাল মাহাতো বলেন, ‘‘পর্যটন উৎসবকে কার্যত নিজেদের দলীয় অনুষ্ঠানে পরিণত করেছে জেলা পরিষদ। এমনিতেই তৃণমূল গণতান্ত্রিক রীতিনীতির ধার ধরে না। আমার বিধানসভা এলাকায় অনুষ্ঠান হলেও অনুষ্ঠানে ডাকার ন্যূনতম সৌজন্য কখনোই দেখায় না তৃণমূল।’’ নেপালবাবুকে উৎসবে গতবারও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। উৎসবের আগের দিন পর্যন্ত আমন্ত্রণ পাননি তিনি।

সৃষ্টিধরবাবু বলেন, ‘‘গতবার নেপালবাবুকে আমন্ত্রণ জানানোর ক্ষেত্রে ভুল হয়েছিল। যাদের উপরে ওই দায়িত্ব ছিল তারা পালন করেনি। এ বার আমি নিজে নেপালবাবুকে ফোন করে আসতে বলব।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement