—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় একাদশ-দ্বাদশের সুপারিশপত্র পাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যশিক্ষা পর্ষদ থেকে নথি যাচাই করে পুলিশ ভেরিফিকেশন ও মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পর্ষদ জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে তবেই প্রার্থী চূড়ান্ত নিয়োগপত্র পাবেন। তবে এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পুনরায় চাকরি পাওয়া ২০১৬ সালের চাকরিহারা শিক্ষকদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, আগের বার চাকরি পাওয়ার সময় একবার পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়েছিল। এ বার ফের কেন নিয়োগপত্র পাওয়ার আগে ফের একই যাচাইয়ের মুখে পড়তে হবে? ফের পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য নিয়োগপত্র পেতে দেরি হচ্ছে বলেও তাঁদের অভিযোগ।
যদিও পর্ষদ সূত্রের দাবি, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে যেহেতু পুনরায় নিয়োগ হচ্ছে এবং পুরো ব্যবস্থাই গোড়া থেকে শুরু হয়েছে, তাই পুলিশ ভেরিফিকেশন করতেই হবে। পর্ষদের একটি সূত্রের দাবি, পুলিশ ভেরিফিকেশন বাদ দিলে তা নিয়ে অভিযোগ উঠতে পারে এবং মামলা হতে পারে। তা হলে এই নিয়োগ ফের জটিল আবর্তে পড়বে। সরকার সেই পথে যেতে চাইছে না।
২০১৬ সালের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এক যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক পঙ্কজ রায় বলেন, ‘‘আমি ২০১৬ সালে পরীক্ষা দিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক হয়েছিলাম। ২০২৫ সালে ফের পরীক্ষা দিয়ে আবার মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছি। তখন পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়ে গিয়েছিল। আবার কেন নতুন করে পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে? এ বার তো পুলিশ ভেরিফিকেশন ও মেডিক্যাল সার্টিফিকেট না পাওযা পর্যন্ত নিয়োগপত্রও পাব না। স্কুলে যোগ দিতে অনেক দেরি হবে।’’ আরেক চাকরিহারা শিক্ষিকা রূপা কর্মকারের বক্তব্য, ‘‘২০১৬ সালের থেকে বেশি শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে এ বার। ৩১ অগস্টের মধ্যে সবার ভেরিফিকেশন শেষ হবে তো?’’ প্রসঙ্গত, সবে একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগের মূল প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরপর নবম-দশমের শিক্ষক নিয়োগের মূল প্রক্রিয়া শুরু হবে।
অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই জানান, একাদশ-দ্বাদশের সবেমাত্র ৭টি বিষয়ের কাউন্সেলিং পর্ব শেষ হওয়ার পর নিয়োগপত্র দেওয়ার জন্য নাম-সহ বিস্তারিত তথ্য পর্ষদে পাঠিয়েছে এসএসসি। এখনও বাকি বিষয় এবং নবম-দশম বাকি। তিনি বলেন, ‘‘২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে সকল চাকরিহারা শিক্ষকদের মেয়াদ ৩১ অগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে তাঁরা তো এখনও স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। তাঁদের কেন আবার পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে? পুলিশ ভেরিফিকেশন ও মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ছাড় দিলে নিয়োগ প্রক্রিয়া কিছুটা হলেও দ্রুত শেষ হবে। এই দাবি নিয়ে আমরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে চিঠিও দিয়েছি।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে