NCPI

তৃণমূলের ‘বিদ্রোহীদের’ যোগদান কেমন ভাবে দেখছেন এনসিপিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যেরা? জানালেন আনন্দবাজার ডট কম-কে

ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)— এটাই এখন নতুন ঠিকানা তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকের ২০ জন সাংসদের। তাঁদের যোগদান নিয়ে কী বলছেন এনসিপিআই দলের বর্তমান সদস্যেরা?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ০১:২৮
Share:

তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদেরা। ছবি: এক্স।

ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)— এটাই এখন নতুন ঠিকানা তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকের ২০ জন সাংসদের। তাঁদের যোগদান নিয়ে কী বলছেন এনসিপিআই দলের বর্তমান সদস্যেরা?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম-এর তরফে দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং তৎকালীন ‘ন্যাশনাল অর্গানাইজ়িং জেনারেল সেক্রেটারি’ শান্তনু দে-র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি দাবি করেন, “আমি এই দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। আজকের এই ঘটনার বিষয় কিছু জানানো হয়নি। যদি জানতাম তা হলে আমি এর বিরোধিতা করতাম। এখনও বিরোধিতা করছি।”

শান্তনু জানান, দলের সভাপতি উত্তীও কুণ্ডু। তাঁর অভিযোগ, “উত্তীওর সিদ্ধান্তেই নিশ্চয়ই এটা হয়েছে। আমার সঙ্গে এই নিয়ে কোনও আলোচনা করা হয়নি। আমায় না জানিয়ে করা মানে তো আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হল।”

Advertisement

শান্তনু আরও বলেন, “আমায় ন্যাশনাল অর্গানাজ়িং জেনারেল সেক্রেটারি পদ দেওয়া হলেও, ত্রিপুরায় যখন ভোট হয়েছিল আমি সব কাজ করেছিলাম। দলের নাম, প্রতীক— সব কিছুই আমার হাতে তৈরি করা।” তাঁর সংযোজন, “আমি আরএসএস বা বিজেপির আদর্শে বিশ্বাসী।”

প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে তৃণমূলের এই যোগদান শান্তনু ভাল চোখে দেখছেন না, সেটা তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন।

অন্য দিকে, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদের নতুন দলে যোগ দেওয়ার বিষয়ে উত্তীওর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই বিষয় তিনি আর কিছু বলতে চান না। শান্তনুর ব্যাপারে তিনি বলেন, “তাঁর দলের যে কার্যকালের মেয়াদ ছিল তা শেষ হয়ে গিয়েছে।”

দলের আর এক মহিলা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিউলি বলেন, “এই মুহূর্ত আমি কিছু বলব না।” তৃণমূলের এই যোগদানে তিনি খুশি কি না জানতে চাওয়া হলে সংক্ষিপ্ত ভাবে হ্যাঁ বলেন এবং তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন। তবে এর বেশি এখনই কিছু বলতে চাননি তিনি।

নির্বাচন কমিশনের তালিকা অনুযায়ী, ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ ২০২২ সাল থেকে অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসাবে নথিবদ্ধ রয়েছে।

ত্রিপুরার রাজনীতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখা কেউই অবশ্য এই দলটির সম্পর্কে বিশেষ কোনও তথ্য দিতে পারেননি। ২০২৩ সালের বিধানসভা ভোটে ত্রিপুরার বিধানসভা ভোটে সে রাজ্যের ধলাই জেলার চৌমানু এবং উনকোটি জেলার কৈলাসহর কেন্দ্রে এনসিপিআই-এর প্রার্থীরা ভোটে লড়েছিলেন। দু’টি আসনে ভোটে লড়ে এই দলের প্রার্থীরা ৮২২টি ভোট পেয়েছিলেন (০.০৩ শতাংশ)।

সমাজমাধ্যমে এই দলটির উপস্থিতি রয়েছে। সেখানে একটি পোস্টের থেকে জানা গিয়েছে, দলের প্রেসিডেন্ট শিউলি কুণ্ডু। সহ-সভাপতি উত্তীও কুণ্ডু এবং দলের পদাধিকারী শান্তনু দে।

এই নামের একটি দল ২০২৩ সালে আরইউপিপি (রেজিস্টার্ড আন রেকগনাইজ়ড পলিটিক্যাল পার্টি) তালিকাভুক্ত হয়। ঠিকানা পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া। যদিও নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে দলটি এনসিপিএন নামে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এই দলে যোগ দিলেও বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-কেই সমর্থন করবেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারেরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement