—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
অগস্ট মাস থেকে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হচ্ছে জনগণনার এনুমারেশন ফর্ম পূরণের কাজ। আগামী ১ অগস্ট থেকে ওই কাজ শুরু হবে। দু’টি বিকল্প পদ্ধতিতে ৪৫ দিনের মধ্যে রাজ্যের জনগণনার তথ্য পোঁছে যাবে সরকারের কাছে। এই প্রথম অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়া যাবে। জনগণনা কর্মী আসার আগেই নিজের তথ্য জমা দেওয়া যাবে। কেন্দ্রীয় সরকার অনলাইনে স্ব-গণনার (সেলফ এনুমারেশন) জন্য ১৫ দিন সময় দিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে ২৮টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এ রাজ্যে জনসংখ্যার তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরুই হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার অগস্ট মাস থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করবে। ওই মাসের ১ তারিখ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত স্ব-গণনা চলবে। এর পরে এক মাসের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আধিকারিকরা তথ্য সংগ্রহ করবেন।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের মতো এ ক্ষেত্রেও কোনও নাগরিক অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম জমা দিতে পারবেন। জনগণনার মোবাইল অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্য দেওয়া যাবে। অন্নপূর্ণা যোজনার মতো বাড়ির প্রধান কর্তাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের ফর্মটি পূরণ হবে। একটি পরিবারের জন্য একটিই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা যাবে। ফর্ম জমার পরে পরিবারের প্রধান এবং মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করার সুযোগ থাকবে না। অগস্ট মাসের ১৫ তারিখ অনলাইনে তথ্য জানানোর শেষ দিন। পরের দিন অর্থাৎ, ১৬ অগস্ট থেকে জনগণনার আধিকারিকেরা বাড়ি বাড়ি যাবেন। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে বাড়িতে গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম পূরণের কাজ। আধিকারিকেরা বাড়িতে গিয়ে অনলাইনে জমা দেওয়া ব্যক্তিদের তথ্যও যাচাই করবেন।
গত এপ্রিল মাস থেকে জনসংখ্যার তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের বেশির ভাগ রাজ্যে অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণের কাজ প্রায় শেষ। দিল্লি, গোয়া, কর্নাটক, ওড়িশা, সিকিম, মিজ়োরাম, উত্তরাখণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, ছত্তীসগঢ়, চণ্ডীগড়, বিহার, তেলঙ্গানা, পঞ্জাব, মহারাষ্ট্র এবং মেঘালয়-সহ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে স্ব-গণনা শেষ হয়েছে। বিগত তৃণমূল সরকারের অনীহা এবং বিধানসভা ভোট থাকায় এ রাজ্যে জনগণনা দেরিতে শুরু হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের পরে অসম এবং ত্রিপুরায় চলবে স্ব-গণনা।
প্রতি ১০ বছর অন্তর দেশের জনগণনা হয়। ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেন্সাস কমিশনারের অধীনে দেশ জুড়ে জনসংখ্যা গণনার কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়ায় বাড়ি ও জনসংখ্যার তথ্য সংগ্রহ এবং যাচাই করা হবে। শেষ বার ২০১১ সালে জনগণনা করা হয়েছিল। তখনও প্রায় এক মাস ধরে তথ্য সংগ্রহের কাজ হয়। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এ বার প্রায় ১৩৫ কোটি মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ওই কাজে যুক্ত থাকবেন ৩০ লক্ষেরও বেশি গণনাকারী ও সুপারভাইজ়ার। তাঁদের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্কুলশিক্ষক, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারী, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীদের। এই বারের জনগণনায় বিশেষ ভাবে জোর দেওয়া হয়েছে পরিবারগুলির অবস্থা সম্পর্কে। বাড়ির ধরন, পানীয় জলের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সংযোগ, শৌচালয়, রান্নার জ্বালানি-সহ সাধারণ সুযোগ-সুবিধা রয়েছে কি না, সেই তথ্য ভাল ভাবে যাচাই করতে বলা হয়েছে।