(বাঁ দিক থেকে) বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈন এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। —ফাইল চিত্র।
ইডি-র তল্লাশিতে হস্তক্ষেপের মতো বেনজির কাণ্ড থেকে নজর ঘোরাতেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপরে ‘হামলা’ হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠক ডেকে এমনই অভিযোগ করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনকে রবিবার ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়েছেন শমীক। শুভেন্দুর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে তৃণমূল যদি ‘বহিরাগত’ বলে, তা হলে আর এক ‘বহিরাগত’ প্রতীককে ‘বাঁচাতে’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন ইডি-র তল্লাশি অভিযানে হানা দিয়েছিলেন? প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি সভাপতি। নন্দীগ্রামের পরাজয় মানতে না-পেরে শুভেন্দুর উপরে ধারাবাহিক ‘প্রাণঘাতী হামলা’ চালানো হচ্ছে বলেও তোপ দেগেছেন শমীক।
শনিবার পুরুলিয়া থেকে সভা সেরে পূর্ব মেদিনীপুর ফেরার পথে আক্রান্ত হন শুভেন্দু। চন্দ্রকোনা রোড ফাঁড়ির কাছে তাঁর কনভয় ঘিরে অশান্তি হয়। তৃণমূলের পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয় শুভেন্দুর যাত্রপথে। বাঁশ-লাঠি নিয়ে তাঁর কনভয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে শুভেন্দু অভিযোগ করেন। কোচবিহারে তাঁর কনভয়ে কেরোসিন, পেট্রল ছিটিয়ে যে ভাবে তাঁকে এবং নিশীথ প্রামাণিককে ‘পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা’ হয়েছিল, শনিবারও ‘হামলাকারীরা’ তেমন চেষ্টাতেই ছিল বলে শুভেন্দু দাবি করেন। তিনি পুলিশে অভিযোগ জানানোর সময়ে নিজের বয়ানে ‘খুনের চেষ্টা’র কথা উল্লেখও করেন। তা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে শুভেন্দুর তর্কাতর্কিও হয়।
রবিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে প্রায় শুভেন্দুর সুরেই কথা বলেছেন শমীক। যে ভাবে কোচবিহারে শুভেন্দু এবং নিশীথের উপরে ‘হামলা’ হয়েছিল, প্রায় সে ভাবেই চন্দ্রকোনাতেও ‘হামলা’ চালানো হয়েছে বলে শমীক দাবি করেন। রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নজিরবিহীনভাবে সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন, তদন্তকারী সংস্থার কার্যক্রমে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন এবং রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে সরকারি নথি ছিনিয়ে নিয়ে দুর্নীতিকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। এটি সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং প্রশাসনিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন।’’ শমীকের কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণ, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর ফলে গোটা দেশের সামনে পশ্চিমবঙ্গের মাথা নিচু হয়ে গিয়েছে। এই বিতর্ক থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর জন্য পরিকল্পিত ভাবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপর হামলা চালানো হয়েছে।’’
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে শুভেন্দুর কাছে মমতার হার তৃণমূল এখনও মেনে নিতে পারেনি বলে শমীক দাবি করেন। নন্দীগ্রামে গণনাকেন্দ্রের বাইরে শুভেন্দুকে লক্ষ্য করে যে ইট ছোড়া হয়েছিল, তা শুভেন্দুর গায়ে লাগলে তাঁকে আজ আর বিরোধী দলনেতা হিসাবে পাওয়া যেত না বলেও মন্তব্য শমীকের। শুভেন্দুর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে তৃণমূল যে ভাবে ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়েছে, তার প্রতিবাদ করে শমীক বলেন, ‘‘তৃণমূল বুঝিয়ে দিচ্ছে যে তারা ভারতের সাংবিধানিক কাঠামো মানতে অস্বীকার করছে।’’ এর পরেই শমীক পাল্টা ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব এনে তৃণমূলকে আক্রমণ করেন। ভিন্রাজ্য থেকে আসার কারণে বা পদবি আলাদা হওয়ার কারণে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা যদি ‘বহিরাগত’ হন, তা হলে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীকও ‘বহিরাগত’ বলে শমীক মনে করিয়ে দেন। এক জন ‘বহিরাগতকে বাঁচাতে’ মুখ্যমন্ত্রী কেন ইডির তল্লাশি অভিযানে বাধা দিলেন, তা নিয়ে শমীক প্রশ্ন তোলেন।
বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই তত্ত্বকে নস্যাৎ করেছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর কথায়, ‘‘শুভেন্দুর নিরাপত্তায় থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলার মাটি চেনে না। তাই শুভেন্দুর কথায় লাঠি চালাতে গিয়ে তৃণমূলের বদলে বিজেপি-কেই পিটিয়েছে। কিন্তু প্রতীক জৈনের সংস্থা তৃণমূলের পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করার পাশাপাশি বাংলার মাটিও চিনেছে। তাই তারা তৃণমূলকে সহযোগিতা করতে গিয়ে কখনও ভুল করে বিজেপি-কে সহযোগিতা করে ফেলে না।’’