State News

ফের উত্তপ্ত ভাঙড়, গ্রাম ঘিরে ধরে বোমাবাজি, গুলি চালানোর অভিযোগ

জমি আন্দোলনকারীদের দাবি, এলাকায় সন্ত্রাস কায়েম করতে ব্যাপক বোমাবাজি চালিয়েছে তৃণমূল। আর তৃণমূল নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, হামলা হয়েছে তাঁদের উপরেই।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০১৮ ২৩:৩৪
Share:

জ্বলছে ভাঙড়। নিজস্ব চিত্র।

ফের অশান্ত ভাঙড়। বোমা-গুলিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল খামারআইট-পদ্মপুকুর এলাকা।

Advertisement

জমি আন্দোলনকারীদের দাবি, এলাকায় সন্ত্রাস কায়েম করতে ব্যাপক বোমাবাজি চালিয়েছে তৃণমূল। আর তৃণমূল নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, হামলা হয়েছে তাঁদের উপরেই।

পাওয়ার গ্রিড রুখতে ভাঙড়ের জমি আন্দোলনকারীরা আগামী ৪ জানুয়ারি জনসভার ডাক দিয়েছেন। গত সপ্তাহে সেই সভার কথা প্রচার করতে বাইক মিছিল বার করেছিলেন আন্দোলনকারীরা। সেই মিছিলে হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। পরে রেজ্জাক মোল্লা, আরাবুল ইসলাম, কাইজার আহমেদের নেতৃত্বে এলাকায় ‘শান্তি মিছিল’ করে তৃণমূল। তবে শান্তি যে দূর অস্ত, মঙ্গলবার ফের তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। এ দিন বিকেল থেকেই দফায় দফায় বোমাবাজি শুরু হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। রাত বাড়তেই বোমা-গুলির বহর আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ।

Advertisement

৪ জানুয়ারি আন্দোলনকারীরা সভা করার কথা ঘোষণা করতেই ৭ জানুয়ারি পাল্টা সভার ডাক দিয়েছে তৃণমূল। সেই সভার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে এ দিন বিকেলে নতুনহাটে গিয়েছিলেন তৃণমূল নেতারা। সভাস্থল দেখে ফেরার পথে আরাবুল ইসলাম, কাইজার আহমেদদের নেতৃত্বেই খামারআইট, পদ্মপুকুর এলাকায় বোমাবাজি হয় বলে অভিযোগ। প্রতিবাদে পাল্টা পথ অবরোধ হয়। টায়ার জ্বালিয়ে দেওয়া হয় রাস্তার উপরে। তাতে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ ছিল এলাকায়।

আরও পড়ুন: মেডিক্যাল কমিশন বিল: প্রতিবাদে ব্যাহত চিকিৎসা পরিষেবা

আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্র উত্তাল দলিত বিক্ষোভে, হিংসায় বিপর্যস্ত মুম্বই-পুণে-ঠাণে

তৃণমূল নেতারা সন্ধ্যার মধ্যেই যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেন। আন্দোলনকারীরাই বোমা-গুলি ছুড়েছেন বলে তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়। শাসক দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতেই এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি।

তৃণমূল যতই অস্বীকার করুক, বিরোধী দলগুলিও শাসক দলের দিকেই আঙুল তুলেছে। বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী অভিযোগ করেছেন, মিদ্দেপাড়া এবং কাশীপুরে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা হয়েছে। রাতে আরও বড়সড় হামলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সুজন চক্রবর্তীর দাবি।

সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের তরফেও ভাঙড়ের ঘটনার নিন্দা করে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সব্যসাচী দত্ত, আরাবুল ইসলাম এবং রেজ্জাক মোল্লার নির্দেশে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি লিবারেশনের।

রাত বাড়তেই ফের পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। উড়িয়াপাড়া গ্রামকে চার দিক থেকে ঘিরে ধরে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বোমাবাজি করছে ও গুলি ছুড়ছে বলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ। পোলেরহাট এবং নতুনহাটেও বোমাবাজি চলছে বলে তাঁদের দাবি। পুলিশ-প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় রেখে পরিকল্পনা মাফিক গ্রাম দখল করতে নেমেছে তৃণমূল। দাবি পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলনকারীদের।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement