Matua Voters

অবৈধ ভাবে ঢুকলে ভোটার করা অনুচিত! মতুয়া প্রশ্নে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতার কথায় অস্বস্তিতে রাজ্য দল

বিজেপির তফসিলি মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি কলকাতায় দলীয় দফতরে বসেই বলেন, ‘‘বাংলাদেশ থেকে অবৈধ উপায়ে যিনি-ই এসে থাকুন, ভোটার তালিকায় তাঁর নাম কোথাও থাকা উচিত নয়। জাতি-ধর্মের কোনও বিষয় নেই।’’

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫৪
Share:

কলকাতায় এই সাংবাদিক বৈঠকেই বিজেপি তফসিলি মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি লাল সিংহ আর্য দলের জন‍্য ‘অস্বস্তিকর’‍ মন্তব্যটি করেছেন। ছবি: সংগৃহীত।

ভোটার তালিকা থেকে মতুয়া সমাজের একাংশের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করে বিজেপি-কে অস্বস্তিতে ফেলে দিলেন দলের তফসিলি মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি লাল সিংহ আর্য। আর্যের মতে, জাতি-ধর্ম নিরপেক্ষ ভাবেই বেআইনি ভাবে প্রবেশ করা বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার থাকা অনুচিত। বিধানসভা ভোটের আগে কলকাতায় বসে করা কেন্দ্রীয় তফসিলি নেতার মন্তব্যে শোরগোল রাজ্য বিজেপির অন্দরে। আর্যের কথার বিরোধিতা করে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বললেন, ‘‘দল এই মন্তব্যকে অনুমোদন করছে না।’’ দলের সমাজমাধ্যম পাতা থেকেও সরিয়ে দেওয়া হল আর্যের সাংবাদিক বৈঠকের লিঙ্ক তথা ভিডিয়ো।

Advertisement

বিজেপির রাজ্য দফতরেই রবিবার বিকেলে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন আর্য। সঙ্গে ছিলেন তফসিলি মোর্চার রাজ্য সভাপতি সুদীপ দাস এবং জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়। এসআইআর-এর ফলে মতুয়া সমাজের অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে রাজ্যের উদ্বাস্তু প্রধান এলাকাগুলিতে। মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের মুখেও সে উদ্বেগের কথা একাধিক বার শোনা গিয়েছে। তবে তার পাশাপাশি শান্তনু এ কথা বলেও আশ্বস্ত করেছিলেন যে, কারও নাম এখন বাদ পড়লেও মতুয়াদের সকলকেই সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব দিয়ে ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে আনা হবে। রবিবার আর্যের বয়ানে সে রকম কোনও আশ্বাসের সুর তো ছিলই না, বরং তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ থেকে অবৈধ উপায়ে যে-ই এসে থাকুন, ভোটার তালিকায় তাঁর নাম কোথাও থাকা উচিত নয়। জাতি-ধর্মের কোনও বিষয় নেই।’’ আর্য আরও বলেন, ‘‘কেউ যদি বৈধ উপায়ে এসে থাকেন, যেমন যাঁরা ২০-২৫ বছর ধরে ভারতে রয়েছেন, আমরা আইন করে তাঁদের ভারতের নাগরিকত্ব দিয়েছি, তাঁদের নাম থাকা উচিত। আমরা তাঁদের পক্ষে।’’ আর্যের কথায়, ‘‘বাংলাদেশি একটা শব্দ হয়ে গিয়েছে। তার অধীনে সব রকম রয়েছে। যিনিই হন, অবৈধ উপায়ে এলে ভোটার তালিকায় নাম থাকা উচিত নয়। আর ভারত সরকার যদি তাঁদের নাগরিকত্ব দিয়ে থাকে, তা হলেই নাম থাকা উচিত।’’

তফসিলি মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতির এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক। তিনি আনন্দবাজার ডট কমকে বলেন, ‘‘লাল সিংহ আর্য যদি এ কথা বলে থাকেন, তা হলে দল তাঁর মন্তব্যকে অনুমোদন করছে না। দলের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। এটা তাঁর ব্যক্তিগত মন্তব্য বা অবস্থান হতে পারে, দলের অবস্থান এ রকম নয়।’’ বিজেপির ওই সর্বভারতীয় নেতার মন্তব্যের কথা জেনে শমীক এতটাই বিব্রত হন যে, তিনি এ-ও বলেন, ‘‘এ ধরনের অতিথিরা পশ্চিমবঙ্গে স্বাগত নন।’’

Advertisement

ভোটের আগে এই মন্তব্যটির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি যে কোনও ভাবেই নিজেকে জড়াতে চাইছে না, তা দলের তরফ থেকে নানা ভাবে স্পষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে। বিজেপির একটি সূত্রের ব্যাখ্যা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে— সব রকম ভাবে মতুয়া ও নমশূদ্র সমাজের পাশে তিনি রয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে বলে গিয়েছেন যে— মতুয়াদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই, শরণার্থীরা প্রত্যেকে ভারতের নাগরিক এবং কেউ তাঁদের ক্ষতি করতে পারবে না। সুতরাং লাল সিংহ আর্যের মতো কেউ মতুয়া প্রসঙ্গে কী বললেন, তাকে গুরুত্ব দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই বলেই মনে করছেন রাজ্য নেতারা। কিন্তু আর্যের এই মন্তব্যকে ‘হাতিয়ার’ করে তৃণমূল যে মতুয়া এলাকায় জোরদার প্রচারে নামতে পারে, সে আশঙ্কা বিজেপি নেতৃত্বের থাকছেই। তাই আর্যের মন্তব্যের সঙ্গে শুধু মৌখিক দূরত্ব তৈরি করে বিজেপি থামেনি। তাঁর সাংবাদিক বৈঠকটির লিঙ্ক বা ভিডিয়োও বিজেপির সমাজমাধ্যম পাতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement